বিএনপির প্রার্থীকে ফুলের মালা পরানো প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন নুরুল ইসলাম। সম্প্রতি বিলাশপুরের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামেছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদকে প্রকাশ্যে ফুলের মালা পরিয়ে সমালোচিত হওয়ার পর বিলাসপুর বিস্ফোরণ মামলার প্রধান আসামি নুরুল ইসলাম ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ পর্যন্ত এ মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযোগ ছিল, ঘটনার কিছুদিন পর থেকেই নুরুল ইসলাম এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ উদ্যোগ নিচ্ছে না, এমন অভিযোগ করেছিলেন নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। গত শুক্রবার তিনি প্রকাশ্যে শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আহমেদকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা হয়। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন

এ নিয়ে শনিবার প্রথম আলোতে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তিনি মোট ১১টি মামলার আসামি। এর মধ্যে সাতটি বিস্ফোরক আইনে এবং পাঁচটি অন্যান্য অপরাধ–সংক্রান্ত মামলা।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গত শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপস) তানভীর হোসেন বলেন, নুরুল ইসলামকে তাঁর বাড়ির কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৮ জানুয়ারি জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে একটি বসতঘরের ভেতরে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন নিহত হন। ওই দিন ঘটনাস্থলের পাশের একটি ফসলি জমি থেকে সোহান ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নবীন হোসেন। পরে ১৩ জানুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নয়ন মোল্যা।

ওই ঘটনায় জাজিরা থানার উপপরিদর্শক আবুল কালাম বাদী হয়ে ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করেন এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। অভিযোগ আছে, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় মামলার আসামিরা এলাকায় আসা-যাওয়া করছেন এবং তাঁদের পক্ষের লোকজনকে সংগঠিত করছেন। বিস্ফোরণের পর বিলাসপুর এলাকায় কয়েক দফায় অন্তত ৮০টি ককটেল উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী।

আরও পড়ুন

স্থানীয় সূত্র জানায়, এ ঘটনায় করা মামলায় বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও তাঁর তিন ভাইকে আসামি করা হয়েছে। কুদ্দুস ব্যাপারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। মামলার প্রধান আসামি তাঁর ভাই নুরুল ইসলাম।