জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণে আহত তরুণের মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩

শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি। গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের ব্যাপারীকান্দী গ্রামেছবি : প্রথম আলো

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নে ঘরের ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট তিনজনের মৃত্যু হলো।

নিহত তরুণের নাম নয়ন মোল্লা (২০)। তিনি মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের জয়নাল মোল্লার ছেলে।

আরও পড়ুন

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে নতুন নির্মিত একটি বসতঘরের ভেতরে ককটেল তৈরি করা হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলেই সোহান ব্যাপারী (৩২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। পরে সকালে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ পাশের সাতঘরিয়া এলাকার একটি ফসলি জমিতে পাওয়া যায়।

বিস্ফোরণে আহত আরও দুজনকে ঢাকায় নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে নবীন হোসেন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গুরুতর আহত নয়ন মোল্লাকে প্রথমে একই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। সেখানে গতকাল রাত নয়টার দিকে তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন

বিষয়টি নিশ্চিত করে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে আরও এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট তিনজনের মৃত্যু হলো। মামলায় অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নয়ন মোল্লা মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের জয়নাল মোল্লার ছেলে, নবীন হোসেন চেরাগআলী ব্যাপারীকান্দি গ্রামের রহিম সরদারের ছেলে এবং সোহান দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে।

আরও পড়ুন

স্থানীয় গ্রামবাসী ও জাজিরা থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, বিলাশপুর ইউনিয়নের রাজনীতি ও স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল জলিল মাদবরের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। কুদ্দুস ব্যাপারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং আবদুল জলিল মাদবর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য।

বৃহস্পতিবারের বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে কুদ্দুস ব্যাপারীর বাড়ির পাশেই তাঁর এক চাচাতো ভাইয়ের ঘরে। হতাহত ব্যক্তিরা কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা।

আরও পড়ুন

এ ঘটনায় জাজিরা থানার উপপরিদর্শক আবুল কালাম বাদী হয়ে ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত শনি ও সোমবার সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোয় পুলিশ, সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াড এবং পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালায়। দুই দিনের অভিযানে বেশ কিছু ককটেল, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ধারালো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন