default-image

৭ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী রাজশাহী নগরের থিম ওমর প্লাজার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আরও কয়েকজন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের সামনে গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামানের সঙ্গে দীর্ঘ ২২ মিনিটের ফোনালাপে অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সেদিনের ঘটনা খুলে বলেছেন বলে দাবি করেন ওই চেয়ারম্যান।

আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি শুধু ফোনেই সেলিম রেজার সঙ্গে আলাপ করেননি। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামানের সঙ্গে অধ্যক্ষের রায়পাড়ার বাসায় তাঁকে দেখতেও গিয়েছিলেন। সেদিন অধ্যক্ষ তাঁর আঘাতের জায়গাগুলোও দেখিয়েছিলেন। আখতারুজ্জামান বলেন, প্রকাশিত অডিওতে যে আলাপ হয়েছে, তার একটুও বিকৃত করা নয়। তবে অপ্রাসঙ্গিক আলাপের অংশটুকু হয়তো কেটে দেওয়া হয়েছে।

আখতারুজ্জামান বলেন, গতকাল সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর ওয়েব পোর্টালের সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেন অধ্যক্ষ। ওই সাক্ষাৎকারে অধ্যক্ষ একের পর এক ভুল বলে যাচ্ছেন। হয়তো তিনি ভয়ে অথবা তাঁর চাকরি বাঁচানোর জন্য এটা করছেন। ওই সাক্ষাৎকারে অধ্যক্ষ সেলিম রেজা তাঁর বিরুদ্ধে ফোনালাপ ফাঁস করাকে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু অধ্যক্ষ তো কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নন। তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো আলাপও হয়নি। তিনি বলেন, ক্লোন করা হলে দুজনের কণ্ঠই তো ক্লোন করা হবে। অধ্যক্ষ তাঁর কণ্ঠ ক্লোন করা বলে দাবি করছেন। তাহলে সেখানে তাঁর (আখতারুজ্জামান) কণ্ঠও কি ক্লোন হয়েছে? তিনি সেটা বলছেন না; বরং অডিওটি প্রকাশ করার জন্য তাঁকে অভিযুক্ত করেছেন।

আখতারুজ্জামান জানান, তদন্ত কমিটির প্রধান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন তাঁর মুঠোফোনে কল করে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তিনি তাঁকে ফোনালাপে অধ্যক্ষ সেলিম রেজা তাঁকে যা যা বলেছেন, তা বিস্তারিত বলেছেন। এ ছাড়া দেখা করতে গিয়ে আঘাতের যে চিহ্নগুলো দেখেছিলেন, তা–ও বলেছেন।

এদিকে মার খাওয়ার পর আহত অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে দেখতে গিয়েছিলেন দাবি করে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফেসবুকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘যে বা যাঁরা বলতে চান এটা রাজাবাড়ি কলেজের অধ্যক্ষের কণ্ঠ না, তাঁদের জন্য সম্মানের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ দিলাম, এটা যদি ক্লোন প্রমাণ করতে পারেন, যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব।’ তাঁর এ বক্তব্যের সঙ্গে তিনি আবার ইউটিউবে প্রকাশিত ফোনালাপের লিংকটি জুড়ে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, ‘ঘটনা ঘটেছে অধ্যক্ষ সেলিম রেজার সঙ্গে আমার। এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান কেন কথা বলছেন, তা বুঝতে পারছি না। তিনি তো এর কোনো অংশ নন।’

সংসদ সদস্যের এ কথার জবাবে আসাদুজ্জামান বলেছেন, তিনি একজন রাজনীতি–সচেতন ও সামাজিক মানুষ। তিনি আহত অধ্যক্ষকে দেখতে গিয়েছিলেন। সে সময় অধ্যক্ষ তাঁর কাছে ওমর ফারুক চৌধুরীর হাতে মার খাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। প্রসঙ্গক্রমে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে এ নিয়ে তিনি উল্টো বক্তব্য দিয়েছেন। এখন তাঁর বক্তব্যকে মিথ্যা প্রমাণ করা হলে সত্য প্রকাশের জন্য তাঁকে কথা বলতেই হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন