বর্তমান কমিশন আগামী নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৫০টি ইভিএমে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাদের হাতে এখন দেড় লাখ ইভিএম আছে, যা দিয়ে ৬০ থেকে ৭০টি আসনে ভোট করা সম্ভব। ১৫০টি আসনে এই যন্ত্র ব্যবহার করতে হলে আরও ২ লাখ ইভিএম প্রয়োজন। এ কারণে নতুন ইভিএম কিনতে প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। তবে প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে আগামী নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৫০টি ইভিএম ব্যবহার সম্ভব হবে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কমিশনের হাতে যে ইভিএম আছে, আগামী নির্বাচনে সেগুলো ব্যবহার করা হবে।

নির্বাচন কমিশন আগামী জাতীয় নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৫০টি আসনে ইভিএমে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এ জন্য ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকার প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায় তারা। যদিও ইভিএমে ভোট গ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। আবার অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ইভিএম কেনা ও এর পেছনে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

এসব প্রশ্নের মধ্যে ইভিএম কেনার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা ছাড়াই। যদিও সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পে অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ ও পেশাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে আবশ্যিকভাবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন গত বছরের জুলাইয়ে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে সংলাপ করে, তাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই ইভিএমে ভোট চায়। অন্যদিকে বিএনপি ইভিএমকে ‘কারচুপির যন্ত্র’ বলে অভিযোগ করে আসছে। সংলাপে ২২টি দল ইভিএম নিয়ে তাদের মতামত দিয়েছিল। জাতীয় পার্টিসহ ১৪টি দল ইভিএম নিয়ে তাদের সংশয় ও সন্দেহের কথা স্পষ্টভাবেই বলেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল নিজেও সংলাপে বলেছিলেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএমে বিশ্বাস করছে না।

অবশ্য নির্বাচন কমিশন ২৩ আগস্ট জানায়, তারা সর্বোচ্চ ১৫০টি আসনে ইভিএমে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের কাছে দেড় লাখ ইভিএম আছে। ১৫০ আসনে ভোট নিতে প্রয়োজন আরও ২ লাখ ইভিএম।

নতুন করে ইভিএম কিনতে ৮ হাজার ৭১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয় গত ১৯ অক্টোবর। প্রকল্পটির নাম ‘নির্বাচনী ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহার বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা’। প্রকল্পের পুরো টাকা সরকারেরই জোগান দেওয়ার কথা ছিল।