রেলওয়ে বলেছে, কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে ১৯৯৪ সালে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ৮৩টি স্টেশনে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সহজ ডটকম লিমিটেড বর্তমানে এই কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে আছে। স্টেশনের কাউন্টার, অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। টিকিট বিক্রির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করেন। রেলের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে বিভাগীয় বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গত ২৮ বছরে যখনই প্রয়োজন হয়েছে, তখনই টিকিট বিক্রির ব্যবস্থার মানোন্নয়ন করা হয়েছে।

রেলওয়ে আরও বলেছে, টিকিট কালোবাজারি বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। টিকিটের ওপর যাত্রীর নাম, এনআইডি নম্বর, বয়স ও জেন্ডার যুক্ত করা হয়েছে। এতে একজনের নামে কেনা টিকিটে অন্যজন ভ্রমণ করতে পারেন না। এ ছাড়া অনলাইন বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সাত দিনে সর্বোচ্চ দুবারের বেশি টিকিট কিনতে পারেন না।

‘টিকিট যার ভ্রমণ তার’ স্লোগান বাস্তবায়নে রেলওয়ের পক্ষ থেকে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে সংরক্ষিত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে টিকিট ইস্যুর প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে এ জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া হয়েছে। অচিরেই এ–সংক্রান্ত চুক্তি সই করা হবে। এটা সম্ভব হলে কালোবাজারি প্রতিরোধব্যবস্থা আরও সহজ হবে।

টিকিট গ্রাহকের কাছে বিক্রি না করে রেখে দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে রেলওয়ে বলেছে, অনলাইন কোটায় থাকা টিকিট ব্লক করা বা রেখে দেওয়ার সুযোগ নেই। অনলাইন বা কাউন্টারে সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার রাখা রয়েছে। টিকিটের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে যেকোনো নাগরিক নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে টিকিট কিনতে পারেন। এখানে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।

যাত্রী–চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে রেলওয়ে বলেছে, ২০০৯ সালে রেলে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করত ২১৮টি। এর মধ্যে আন্তনগর ছিল ৬৪টি, আন্তদেশীয় ২টি ও লোকাল বা মেইল বা এক্সপ্রেস ট্রেন ১৫২টি। বর্তমানে যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যা ৩৬৬টি। এর মধ্যে আন্তনগর ১০৪টি, আন্তদেশীয় ৮টি ও লোকাল বা মেইল বা এক্সপ্রেস ট্রেন ২৫৪টি। অর্থাৎ গত ১৩ বছরে যাত্রীবাহী ট্রেন বাড়ানো হয়েছে ১৪৮টি। রেললাইন ও ট্রেন বৃদ্ধির নানা প্রকল্প চলমান আছে। অচিরেই দেশের ১৬টি জেলা নতুন করে রেল যোগাযোগের আওতায় আসবে।

গত মাসে রেলের টিকিট কিনতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার পর পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ৭ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে অনশন শুরু করেন মহিউদ্দিন। তাঁর ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে রেলের টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা সহজ ডটকমের যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা; টিকিট সিন্ডিকেট বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ; টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা; ট্রেনে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ট্রেনে ন্যায্য দামে খাবার বিক্রি; ট্রেন সংখ্যা বাড়ানো।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন