বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন

ক. ব্যবস্থাপনা নীতি কী?

খ. হেনরি ফেয়লকে আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যবস্থাপনার কোন নীতির ব্যত্যয় ঘটেছে? বর্ণনা করো?

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যভার লাঘবে করণীয় কী হতে পারে বলে তুমি মনে করো? যুক্তিসহ মতামত দাও।

উত্তর

ক. ব্যবস্থাপনা নীতি হলো ব্যবস্থাপকীয় কার্যাবলি সম্পাদনের পূর্বনির্ধারিত দিকনির্দেশনা বা বিবৃতি।

খ. ব্যবস্থাপনাকে প্রথম জ্ঞানের একটি পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ শাখা হিসেবে উপস্থাপন ও প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা রাখার কারণে হেনরি ফেয়লকে আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক বলা হয়।

ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বিংশ শতকের শুরুতে যে কজন ব্যক্তি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, হেনরি ফেয়ল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। তিনি ব্যবস্থাপনা তত্ত্বের সামগ্রিক কার্যক্রমকে কার্যকর করার জন্য ১৪টি মূলনীতি উপস্থাপন করেন।

তিনি ব্যবস্থাপনাকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কাজসংবলিত এবং বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত সর্বজনীনভাবে প্রয়োগযোগ্য ও পাঠযোগ্য শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিতও করেছিলেন। তাঁর অবদান ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্যই তাঁকে আধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক বলা হয়।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত নীলাচল ফ্যাশন নামক প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যবস্থাপনার আদেশের ঐক্য নীতির ব্যত্যয় ঘটেছে। আদেশের ঐক্য বলতে একজন অধস্তনের আদেশ কর্তা একজন মাত্র ব্যক্তি হওয়াকে বোঝায়। অর্থাৎ কোনো অধস্তন একজন ঊধ্বর্তনের নিকট থেকেই আদেশ গ্রহণ করবে এবং তার কাজের জন্য ওই ঊর্ধ্বতনের নিকট জবাবদিহি করবে।

উদ্দীপকে নীলাচল ফ্যাশন নামক প্রতিষ্ঠানটি একটি বৃহদায়তন রপ্তানিমুখী পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি একটি লোকসানমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সংগঠন কাঠামোতে কর্মীরা একই সময়ে একাধিক কর্মকর্তার দেওয়া আদেশে কার্যসম্পাদন করছেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে দ্বৈত অধীনতা সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় কর্মীরা কাজ করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। উদ্দীপকে দেখা যায়, একজন কর্মী একই সময়ে একাধিক ঊর্ধ্বতনের নিকট থেকে আদেশ লাভ করে কাজ করছেন। ফলে এখানে সুস্পষ্ট ব্যবস্থাপনার আদেশের ঐক্য নীতির ব্যত্যয় ঘটেছে।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটিতে সমস্যা নিরসন করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যভার লাঘবে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মূলনীতির জোড়া–মই শিকল নীতি অনুসরণ করতে পারেন।

প্রতিষ্ঠানের ওপর থেকে শুরু করে একেবারে নিচের স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক নিয়মে প্রতিটি ব্যক্তি বিভাগ ও উপবিভাগকে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়ার বা একই শিকলের অধীনে সবাইকে আবদ্ধ করার নীতিকে ব্যবস্থাপনায় জোড়া–মই শিকল বা Principle of Scalar chain বলে। অর্থাৎ জোড়া–মই শিকল নীতি অনুসারে কর্তৃত্ব শৃঙ্খল সংগঠনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে পর্যাক্রমে সর্বনিম্ন অধস্তনদের নিকট পৌঁছায়।

যেকোনো বিষয়ে নির্দেশনা, তথ্য প্রদান প্রভৃতি ব্যবস্থাপনার উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরের দিকে ধাবিত হয়, যা প্রকৃত অর্থে একটি শিকলের রূপ ধারণ করে। কে কার অধীন, কে কার অধস্তন, তা সহজে বোঝা যায়। ফলে সংঘবদ্ধতা জোরদার হয়। প্রতিষ্ঠানের যেকোনো পর্যায়ে সমস্যা দেখা দিলে তা ঊর্ধ্বতন সহজে জানতে পারে ও দ্রুত তার সমাধান বের করতে পারে।

উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি একটি বৃহদায়তন রপ্তানিমুখী পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি একটি লোকসানমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সংগঠন কাঠামোতে কর্মীরা একই সময়ে একাধিক কর্মকর্তার দেওয়া আদেশে কার্য সম্পাদন করছেন। ফলে তাঁরা কাজ করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। আবার কোনো কর্মী নির্দেশনার অভাবে অলস সময় পার করছেন। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যভার বেশি থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ বিদ্যমান সংগঠন কাঠামো ও জনবল ঠিক রেখে যদি ব্যবস্থাপনার জোড়া–মই শিকল নীতিটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করে, তাহলে উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা লাঘব হতে পারে। কেননা এর ফলে প্রত্যেক অধস্তন তাঁর নিকটবর্তী ঊর্ধ্বতনের নিকট থেকে যেমন আদেশ লাভ করবেন, তেমনি কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তার সমাধানের নির্দেশনাও তিনি পাবেন। অধিকন্তু এরূপ নীতি প্রয়োগ করার ফলে প্রত্যেকেই একটি শিকলের সঙ্গে আবদ্ধ থাকেন। তাই কোনো কর্মী কর্মবিহীন থাকতে পারেন না।

মো. মাজেদুল হক খান, সহকারী অধ্যাপক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

অধ্যায় ৪-এর সৃজনশীল প্রশ্ন | অধ্যায় ৩-এর সৃজনশীল প্রশ্ন

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন