চুয়েটে দ্বিতীয় পর্যায়ে ভর্তি ১০ মার্চ, এখনো ফাঁকা ৬০৫ আসন
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ (মঙ্গলবার) থেকে এ পর্যায়ের ভর্তিপ্রক্রিয়া শুরু হবে।
চুয়েটের ভর্তি–সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত মেধাক্রমের প্রার্থীদের সনদপত্র যাচাই ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী ১০ মার্চ সকাল সড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এই ধাপে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে মূল মেধাক্রমে ১ হাজার ২৫১ থেকে ২ হাজার ৫০০ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী (উপজাতি) থেকে মেধাক্রম ১১-২০ এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের মেধাক্রম ০২-এ থাকা প্রার্থীদের ডাকা হয়েছে। এ ছাড়া স্থাপত্য বিভাগে মেধাক্রম ৭৬- ১২৫ পর্যন্ত থাকা শিক্ষার্থীদের ডাকা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অন্তর্ভুক্ত মেধাক্রমধারী প্রার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে লিংকে প্রবেশ করে লগইন করতে হবে। পূর্বে পূরণকৃত অনলাইন চয়েজ ফরম এবং ড্যাশবোর্ডে নির্দেশিত অন্য সব ফরম ডাউনলোড–পূর্বক পূরণ করে প্রিন্টেড কপি ভর্তির সময় নিয়ে আসতে হবে। উল্লেখ্য, কোনো প্রার্থী পূর্বে অনলাইন চয়েজ ফরম পূরণ না করে থাকলে ভর্তির দিন তা পূরণের সুযোগ প্রদান করা হবে। নিরীক্ষা বোর্ড কর্তৃক শিক্ষার্থীদের সনদপত্র যাচাই–পূর্বক জমাদানের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
পরবর্তী দিন ১১ মার্চ সকালে প্রাপ্ত বিভাগ দেখে ভর্তির জন্য নির্ধারিত ফি ১৮ হাজার ৫০০ টাকা সোনালী ব্যাংক, চুয়েট শাখায় বেলা তিনটার মধ্যে জমা দিতে হবে। তবে কোনো প্রার্থী স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পাদনের পর একই দিনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা দিতে পারবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষার মূল সনদপত্র এবং ট্রান্সক্রিপ্টের মূল কপি।
উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মূলকপি ও ট্রান্সক্রিপ্টের মূল কপি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রশংসাপত্রের মূল কপি।
সদ্য তোলা (অনধিক ৩ মাস) ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
হল প্রত্যবেক্ষকের স্বাক্ষর–সংবলিত ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র।
এসব কাগজপত্র নিরীক্ষা কমিটির নিকট দাখিল করতে হবে। এ ছাড়া সংরক্ষিত আসনে ভর্তির জন্য রাখাইন সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী (উপজাতি) প্রার্থীদের বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা এবং উপজাতীয়তার প্রমাণস্বরূপ জেলা প্রশাসক/স্থানীয় পৌরসভা/জেলা পরিষদ/ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উপজাতীয় মোড়লের কাছ থেকে মোট দুটি মূল সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে। এর পাশাপাশি যে কলেজ থেকে পাস করেছে, সে কলেজের অধ্যক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত উপজাতীয়তার প্রমাণের সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রদান করতে হবে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় প্রত্যেককে স্বীকৃত ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে প্রাপ্ত রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্ট সঙ্গে আনতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় চশমা ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের চশমা সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ভর্তির পর ভর্তি হওয়া প্রার্থীর প্রাপ্ত বিভাগ ও মোট শূন্য আসনসংখ্যা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং তদানুযায়ী পরবর্তী ভর্তির জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা ১২ মার্চের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ওরিয়েন্টেশনের দিন পর্যন্ত ভর্তিপ্রক্রিয়া চলমান থাকবে। ভর্তি বাতিলের কারণে কোনো আসন শূন্য হলে প্রার্থীর মেধাস্থান ও পছন্দক্রম অনুসারে অটো মাইগ্রেশন চলবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২৩ জানুয়ারি ভর্তি পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) প্রথম পর্যায়ের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ের ভর্তি শেষে ৬০৫টি আসন ফাঁকা রয়েছে, যা মোট আসনের (৯২০টি) প্রায় ৬৬ শতাংশ।