প্রথম আলো: আপনি নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে কেন্দ্রে পাঠানোর কথা বললেন, কিন্তু দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দেখা গেল, কেন্দ্রসচিবই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। অর্থাৎ যে কয়েকজনের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র থানা থেকে কেন্দ্রে নেওয়া হয়, তাঁদের একজনের মাধ্যমেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো। তাহলে কী বলবেন?

তাসলিমা বেগম: যেদিন যে বিষয়ের পরীক্ষা, সেদিনই থানা থেকে সেই বিষয়ের প্রশ্নপত্র আনতে হয়। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্ধারণ করা একজন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে কেন্দ্রসচিব দুই সেট প্রশ্নপত্র পুলিশি প্রহরায় কেন্দ্রে নিয়ে যান। এটি একটি যৌথ দায়িত্ব। একা কারও খোলার সুযোগ নেই। কেন্দ্রে নেওয়ার পর পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে কোন সেট প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে, তার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তখনো দায়িত্বশীলদের উপস্থিতিতে তা খোলা হয়। এখানে মনে হয়, থানাতেই কিছু একটা হয়ে থাকতে পারে। এ জন্য কেন্দ্রসচিব অবশ্যই দায়ী হবেন। কারণ, ঘটনাটি তিনি ঘটিয়েছেন। তবে এ ক্ষেত্রে কেবল কেন্দ্রসচিবকে একা দায়ী করলেই হবে না। অন্য যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদেরও অবহেলা আছে। নিশ্চয়ই এটি দায়িত্বের অবহেলা বলে মনে করি।

প্রথম আলো: দিনাজপুরের ঘটনায় যেটি বেরিয়ে এল, সেটি হলো যাঁরা প্রশ্নপত্র আনার দায়িত্বে, তাঁরাই প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবও হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘আমরা কার ওপর দায়িত্ব রাখব?’ অর্থাৎ যাঁরা দায়িত্বে, তাঁরাই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে কী বলবেন?

তাসলিমা বেগম: রক্ষক হয়ে যদি ভক্ষক হয়, তখন তো মুশকিল হয়ে যায়।

প্রথম আলো: এমনিতেই করোনা ও বন্যার কারণে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে শুরু করা হয়েছে। এখন প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে তা স্থগিত হয়ে আবারও পিছিয়ে গেল। তা–ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার কারণে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন?

তাসলিমা বেগম: আসলে এটি খুবই দুঃখজনক একটি ঘটনা। কারণ, করোনা ও বন্যার কারণে এমনিতেই অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন আবার নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ পড়বে। এতে অভিভাবকেরাও উদ্বিগ্ন। এটি অত্যন্ত অমানবিক বিষয়। এর ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা একটি কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে গেল। এটা হওয়া কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।

প্রথম আলো: তাহলে ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনা, অর্থাৎ প্রশ্নপত্র ফাঁস যাতে না হয়, সে জন্য আপনার কী পরামর্শ?

তাসলিমা বেগম: আমি মনে করি, সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া উচিত। ‘এ’ লেবেল ও ‘ও’ লেবেল পরীক্ষা কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর হয়েছে। যদিও তাদের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম, আমাদের অনেক বেশি পরীক্ষার্থী। আমার পরামর্শ হলো, প্রতিটি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়ে পরীক্ষার আগে আগে কেন্দ্রেই দ্রুতগতির ফটোকপি মেশিনের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফটোকপি করে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে প্রযুক্তির মাধ্যমেই প্রশ্নপত্র পাঠানো হবে। তখন নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দায়িত্বরত ব্যক্তিরা ফটোকপি করে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করবেন। এই প্রক্রিয়ায় পরীক্ষার্থীরা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সুযোগ নিতে পারবে না।

উচ্চশিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন