যুক্তরাজ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার খরচ কেমন

ফাইল ছবি

প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা অর্জনে যুক্তরাজ্য গমন করেন। বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খরচ। কারণ, টিউশন ফি ছাড়াও বসবাসের প্রকৃত খরচ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রেও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ বাধ্যতামূলক।

শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার খরচ নির্ভর করে মূলত অবস্থান, বাসস্থান ও ব্যক্তিগত জীবনযাপনের ওপর। তবু গড় ব্যয় সম্পর্কে ধারণা থাকলে শিক্ষার্থীরা আগেভাগেই আর্থিক পরিকল্পনা সাজাতে পারেন।

আরও পড়ুন

অঞ্চলভেদে খরচের পার্থক্য

যুক্তরাজ্যে বসবাসের খরচ শহরভেদে ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। লন্ডন দেশটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর। সেখানে বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে খাবার ও বিনোদন—সবকিছুর খরচ তুলনামূলক বেশি।

অন্যদিকে ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, লিডস ও গ্লাসগোর মতো শহরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক কম হলেও শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থী–বান্ধব পরিবেশ বজায় রয়েছে। ফলে অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী খরচের দিক বিবেচনা করে লন্ডনের বাইরে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

আবাসন খরচ সবচেয়ে বেশি

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মাসিক বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশই চলে যায় আবাসন খাতে। সাধারণত তিন ধরনের আবাসনের সুযোগ রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, ব্যক্তিগত ভাড়া বাসা বা শেয়ার্ড ফ্ল্যাট ও হোমস্টে।

অন্যদিকে ব্যক্তিগত বাসা বা শেয়ার্ড ফ্ল্যাটে স্বাধীনতা বেশি থাকলেও আলাদাভাবে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে হয়।

লন্ডন অন–ক্যাম্পাস আবাসন খরচ গড়ে প্রায় ৮৪৮ ইউরো। লন্ডনের বাইরে সে খরচ কমে প্রায় ৬৬৪ ইউরোতে। অফ-ক্যাম্পাস এক বেডরুম বাসা শহরভেদে ৬০০–২৩০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন

খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ

খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর খরচও শহরভেদে ভিন্ন হয়। খাবার ও গ্রোসারি বাবদ গড় খরচ লন্ডনে ১৫৫ এবং লন্ডনের বাইরে ১১৬ ইউরো। অন্যান্য খরচ ৫০ থেকে ১০০ ইউরো হতে পারে। এ ছাড়া ইউটিলিটি খরচ শহরভেদে ২৫০ থেকে ৩০০ ইউরো।

আরও পড়ুন

যাতায়াত ব্যয়

ক্যাম্পাসের কাছাকাছি বসবাস করলে যাতায়াত ব্যয় কমে যায়। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। মাসিক পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পাস ৫৪ থেকে ১০৩ ইউরো।

পূর্ণকালীন শিক্ষার্থীরা ট্রেন ভাড়ায় প্রায় ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পান। লন্ডনে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ অয়েস্টার কার্ড রয়েছে। স্কটল্যান্ডে ২২ বছরের নিচে কিছু শিক্ষার্থী বিনা খরচে বাসে চলাচলের সুবিধাও পান।

শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন দোকান, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্রে বিশেষ ছাড় থাকায় খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

আর্থিক পরিকল্পনার গুরুত্ব

যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার সময় আর্থিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে হলে সামগ্রিক পরিকল্পনা জরুরি। আবাসন, খাবার, ইউটিলিটি, যাতায়াত, পড়াশোনা ও বিনোদন—সব খাত মিলিয়েই বাজেট তৈরি করতে হয়।

লাইব্রেরি ব্যবহার, পুরোনো (সেকেন্ড-হ্যান্ড) বই কেনা ও বই ভাড়া নেওয়ার মাধ্যমে খরচ কমানো যায়। ভিসা বিধি মেনে অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী খণ্ডকালীন কাজও করেন, যা অতিরিক্ত আয়ের পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগেভাগে শহর নির্বাচন, আবাসনের শর্ত ভালোভাবে যাচাই ও শিক্ষার্থী ছাড়ের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।