তেল গরমের মহাজাগতিক স্বপ্ন

কার্টুন: এআই

সকালবেলা চোখ মেলেই কেমন যেন মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠল। বালিশ থেকে মাথা তুলে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই চোখ দুটো চড়কগাছ! রাজপথে কোনো ইঞ্জিনের গর্জন নেই, নেই কোনো কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। চারদিকে শুধুই পরম নীরবতা আর এক অলৌকিক শোভাযাত্রা।

হঠাৎ মনে পড়ল, আরে! কাল রাতেই তো এক অদ্ভুত খবর ভেসে এসেছিল—দেশের সব পেট্রল, ডিজেল আর অকটেনের দাম নাকি লাফিয়ে সোজা মহাশূন্যের নক্ষত্রগুলোর পাশে গিয়ে আসন গেড়েছে! দেশবাসীর অলস শরীরের মেদ ছাঁটাই করতে এক অদৃশ্য নির্দেশে জারি হয়েছে ঐতিহাসিক এক ‘জাতীয় ফিটনেস বিপ্লব’।

স্বপ্নের মতো হলেও বাস্তবটা চাক্ষুষ করতে রাস্তায় নামতেই চোখে পড়ল পাম্পগুলোর সামনে রাজকীয় মেলা! তেলের পাম্পের সাধারণ কর্মচারীরা রাতারাতি যেন রূপকথার কোনো প্রদীপের পরম রক্ষক বনে গেছেন। আর গাড়ি–বাইকের চালকেরা পরম ভক্তিতে তাঁদের সামনে ধরনা দিয়ে বসে আছেন—যদি দয়া করে মহামূল্যবান সেই তরলের দু–এক ফোঁটা ট্যাংকে গড়িয়ে দেওয়া হয়!

পাম্পের কাউন্টারে দেখা গেল কান্না আর হাসির অপূর্ব এক রোমান্টিক মেলবন্ধন।

স্ক্রিনে মিটারের টাকা যখন ঝড়ের বেগে লাফিয়ে লাফিয়ে আকাশ ছুঁচ্ছে, তখন বাতাসের চাবুকে স্ত্রীর চুল হাওয়ায় উড়ছে, আর স্বামী মানিব্যাগের চরম করুণ দশা দেখে স্মিত হাসছেন।

অন্যদিকে লোকাল বাসের কন্ডাক্টররা ইঞ্জিনের বনেটে বসে ভাড়ার অলৌকিক বীজগণিত কষছেন—তেলের চড়া দামের উসিলায় ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে কীভাবে আমজনতার পকেটের বাড়তি বোঝা এক ঝটকায় হালকা করে দেওয়া যায়!

রাস্তার মোড়ে মোড়ে চায়ের টঙে এখন শুধুই এই মহামূল্যবান তেলের কথকতা। এক চশমা পরা সুশীল ভাবুক চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বলছেন, ‘বুঝলেন ভাই, দেশের পরিবেশ রক্ষা আর জনগণের ভুঁড়ি ছাঁটাইয়ের জন্য দামটা আরও কয়েক হাজার গুণ বাড়ানো দরকার ছিল! তাহলে রাস্তায় আর কোনো ক্ষতিকর যানই নামত না, পুরো জাতি প্রতিদিন দৌড়ে দৌড়ে অফিসে যেত আর একাই অলিম্পিকের সব সোনা জয় করে আনত!’

​ভার্চ্যুয়াল জগতেও এই রূপকথা নিয়ে প্রশংসার তোলপাড়।

এক ভুক্তভোগী সকাতরে লিখেছেন,

‘আজকাল রাস্তায় যার বাহনের ট্যাংকে এক লিটার খাঁটি তেল দেখা যাবে, বুঝে নিতে হবে সমাজে সেই একমাত্র আসল ধনকুবের!’

আর অপর একজন লিখেছেন,

‘সরকারকে অশেষ ধন্যবাদ, জিমে মিছামিছি টাকা না ঢেলে আজ থেকে প্রতিটা পরিবারে একজন করে আন্তর্জাতিক অ্যাথলেট তৈরি হচ্ছে!’

​ঘুমের ঘোর ভাঙলেও চোখের কোণে এক ফোঁটা জল আর মুখে একচিলতে হাসি থেকে যায়। পকেটের মানিব্যাগ খালি হোক, বাসভাড়া লাফিয়ে আকাশ ছোঁক কিংবা বাহন ঠেলতে গিয়ে পায়ের রগে টান লাগুক–জাতীয় সুস্বাস্থ্য ও মেদ ছাঁটাইয়ের এই বৈপ্লবিক জ্বালানি উৎসব দীর্ঘজীবী হোক!

চাবিতে আর ইঞ্জিন চালু করা নয়, ঠেলে ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছানোই এখন নতুন জাতির মূল ফিটনেস মন্ত্র!
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন