সৌন্দর্যচর্চার এই অনুষঙ্গগুলো থাকলে বাড়িতেই করতে পারবেন রূপচর্চা
গুয়া শা, হিটলেস কার্লার, ডার্মা রোলারের মতো অনুষঙ্গ পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। রূপচর্চার অনুষঙ্গ ভুলভাবে ব্যবহার করলে হতে পারে উল্টো ফল। ত্বক ও চুলের প্রয়োজন জেনে বেছে নিন দরকারি অনুষঙ্গটি।
সংসার, সন্তান, অফিস কিংবা নিজের ভালো লাগার কাজে আপনি হয়তো রোজই ব্যয় করেন অনেকটা সময়। তবে ব্যস্ত জীবনে নিজের জন্য সময় রাখার সুযোগ কমই থাকে। যেকোনো প্রয়োজনে সৌন্দর্যচর্চাকেন্দ্রে ছোটার মতো সময় অনেকেরই হাতে থাকে না। এমন গতিময় জীবনে বাড়িতেই যদি পেয়ে যান সৌন্দর্যচর্চার প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ, তাহলে ব্যাপারটা নিঃসন্দেহেই দারুণ।
গুয়া শা, হিটলেস কার্লার, এমনকি ডার্মা রোলারের মতো অনুষঙ্গও এখন অনলাইনেই পাওয়া যায়। কেবল বাড়িতে বসে ফরমাশ দিলেই হলো। তবে বাহারি বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে যেকোনো পণ্যের ফরমাশ দেওয়ার আগে সেটি সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে নিতে হবে।
শোভন মেকওভারের কসমেটোলজিস্ট শোভন সাহা বলছিলেন, ঘরে বসে সৌন্দর্যচর্চার বিভিন্ন অনুষঙ্গ ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা দুই-ই আছে। এ ধরনের অনুষঙ্গ ব্যবহারে দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।
যেকোনো অনুষঙ্গ ব্যবহারের আগে যেমন সেটির ব্যবহারবিধি জানা আবশ্যক, তেমনি নিজের ত্বকের সমস্যাটিকে ঠিকঠাক বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি। তাই এ ধরনের পণ্য ব্যবহারের আগে একজন ত্বকবিশেষজ্ঞকে (ডার্মাটোলজিস্ট বা কসমেটোলজিস্ট) দেখিয়ে তাঁর নির্দেশনা জেনে নেওয়া উচিত।
ত্বকের প্রয়োজনটা সঠিকভাবে না জেনে এ ধরনের অনুষঙ্গ ব্যবহার করবেন না। একই ধরনের সমস্যায় একটি পণ্য ব্যবহারে একজন উপকার পেয়েছেন বলে আরেকজনও পাবেন, এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না। ভুলভাবে রূপচর্চার অনুষঙ্গ ব্যবহার করলে হতে পারে উল্টো ফল। তাই সতর্ক থাকুন, হিতে বিপরীত যেন না হয়।
অনলাইন কিংবা অফলাইন
অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করেছিল ঢেউ। প্রতিষ্ঠানটির চিফ মার্কেটিং অফিসার উম্মে সালমা বলছিলেন, ‘একটি প্রাকৃতিক পণ্য বেনটোনাইট ক্লে দিয়ে ঢেউয়ের যাত্রা শুরু। সময়ের সঙ্গে আমরা স্কিনকেয়ার টুলস নিয়েও কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই; কারণ, এই ক্যাটাগরিটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল। আমাদের মূল ভাবনা ছিল খুব সহজ, গ্রাহক যেন এক জায়গাতেই তাঁর প্রয়োজনীয় সব ত্বকচর্চার পণ্য ও অনুষঙ্গ পেয়ে যান।’
কিছু কাজ জানা থাক
জনপ্রিয় হয়ে ওঠা কিছু অনুষঙ্গ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
গুয়া শা: ত্বকের ফোলা ভাব সাময়িকভাবে কমিয়ে ত্বক সতেজ দেখাতে সাহায্য করে।
ডার্মা রোলার: মাথার ত্বকে চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল বাড়িয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
ফুট পিলিং মাস্ক: মৃত ও শক্ত চামড়া সরিয়ে ত্বককে নরম ও কোমল করে।
এক্সফোলিয়েটিং লুফাহ গ্লাভস: ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে এই বিশেষ ধরনের গ্লাভস।
সিল্ক স্টোন হেয়ার রিমুভার: অনাকাঙ্ক্ষিত লোম এবং ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে।
হিটলেস কারলার: উচ্চ তাপের কারণে চুলের যে ক্ষতি হয়, এই অনুষঙ্গের মাধ্যমে তা এড়িয়ে চুলে ঢেউ খেলানো যায়।
লিম্ফ্যাটিক ফেশিয়াল ব্রাশ: এটি মুখের ফোলা ভাব সাময়িকভাবে কমাতে পারে। তবে এটি ত্বকের ‘বিষাক্ত’ পদার্থ বের করে দেয়, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
কোল্ড থেরাপি ফেস মাস্ক: রোদে পোড়া ত্বকের জন্য আরামদায়ক ফেস মাস্ক। ত্বকের ফোলা ভাব সাময়িকভাবে কম দেখাতে সাহায্য করে।
আইস ফেশিয়াল বোল: এটিও ত্বকের ফোলা ভাব কম দেখাতে উপকারী।
স্ক্যাল্প ম্যাসাজ কম্বো, সিলিকন স্ক্যাল্প ম্যাসাজার, অক্টো-রিল্যাক্স স্ক্যাল্প ম্যাসাজার: মাথার ত্বকে আরামদায়ক মালিশের জন্য কাজে আসে।
স্পা হেডব্যান্ড: মুখের ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় চুলগুলো যাতে মুখের ওপর না পড়ে, সেই কাজে ব্যবহার করতে পারেন স্পা হেডব্যান্ড।
জেনে নিন, বুঝে নিন
একটি পণ্য ব্যবহারের আগে সবকিছু জেনেবুঝে নেওয়া কেন জরুরি, শোভন সাহা সেটি বুঝিয়ে দিলেন।
গুয়া শা ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানা খুবই জরুরি। ভুলভাবে গুয়া শা ব্যবহার করলে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে। ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। এমনকি ত্বক ঝুলেও পড়তে পারে।
ডার্মা রোলার ব্যবহার খুবই সংবেদনশীল একটি প্রক্রিয়া। অভিজ্ঞ ব্যক্তির তত্ত্বাবধানেও এটি ব্যবহারের সময় ব্যথা এড়ানোর জন্য কিছুটা অবশ করে নেওয়া হয়। তাই বাড়িতে এটি ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকতেই হবে। ডার্মা রোলার ব্যবহারের সময় নির্দিষ্ট দিক এবং কোণ বজায় রাখা খুব জরুরি।
লিম্ফ্যাটিক ফেশিয়াল ব্রাশ ব্যবহার করতে হলে তা ব্যবহারের কৌশল জানতে হবে। না হলে ত্বকে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। কতটা চাপ দিয়ে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, এটা বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে শিখে নিতে হবে। সরাসরি কারও কাছে শেখার সুযোগ না থাকলে নির্ভরযোগ্য কোনো ইউটিউব টিউটোরিয়াল দেখে শেখা যেতে পারে।
আইস ফেশিয়াল বোল ব্যবহার করা অনেকের জন্যই নিরাপদ। তবে ত্বক সংবেদনশীল হলে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
কোল্ড থেরাপি ফেস মাস্ক, স্পা হেডব্যান্ড, স্ক্যাল্প ম্যাসাজ কম্বো, সিলিকন স্ক্যাল্প ম্যাসাজার, অক্টো-রিল্যাক্স স্ক্যাল্প ম্যাসাজার—এগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মোটামুটিভাবে নিরাপদ।
ফুট পিলিং মাস্ক এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে ব্যবহারের আগে এটির উপাদান সম্পর্কে জানতে হবে। নিজের পায়ের ত্বক আদতে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত, তা–ও বুঝতে হবে। অর্থাৎ পায়ে যেকোনো ধরনের ফাটা থাকলেই যে আপনি ফুট পিলিং মাস্ক থেকে উপকার পাবেন, তা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ব্যবহারের ভুলে ফুট পিলিং মাস্কের কারণে ত্বকে চুলকানি বা র্যাশ হতে পারে। এমনকি ফাটার মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে। পা ফেটে রক্ত বের হলে বা সেখানে জীবাণুর সংক্রমণ থাকলে অবশ্যই ফুট পিলিং মাস্ক বা এ ধরনের কোনো পদ্ধতিতে না গিয়ে আগে চর্মরোগবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
এক্সফোলিয়েটিং লুফাহ গ্লাভস কেবল তাঁদের জন্যই উপযোগী, যাঁদের ত্বক যথেষ্ট পুরু। তা ছাড়া কার ত্বকে কত দিন অন্তর এটি ব্যবহার করা যাবে, তা কেবল একজন বিশেষজ্ঞই বলতে পারবেন। যাঁদের ত্বক পাতলা কিংবা সংবেদনশীল, তাঁদের জন্য এই অনুষঙ্গটি ক্ষতিকর।
না জেনে সিল্ক স্টোন হেয়ার রিমুভার ব্যবহারও এক্সফোলিয়েটিং লুফাহ গ্লাভস ব্যবহারের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ।
হিটলেস কার্লার তুলনামূলক নিরাপদ একটি অনুষঙ্গ। তবে অতিরিক্ত শক্ত করে আটকালে চুল ছিঁড়ে যেতে পারে।
যেকোনো নতুন পণ্য ব্যবহার শুরু করুন অল্প জায়গায়, অল্প সময়ের জন্য। পরে ধীরে ধীরে বাড়াতে পারেন ব্যবহারের পরিধি। কোন পণ্যটি কীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, তা–ও জেনে নিন।