৬ নভেম্বর বিদেশি প্রতিযোগীদের আগমনের মাধ্যমে আয়োজনের শুরু। মূল প্রতিযোগিতা হয়েছে ১০ নভেম্বর। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়াসহ র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা বিশ্বের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামিং দলই অংশ নিতে এসেছিল ঢাকায়। গোটা এশিয়ায় বাংলাদেশ চতুর্থ দেশ, যারা আইসিপিসির চূড়ান্ত পর্ব আয়োজন করল। এর আগে জাপান, চীন ও থাইল্যান্ডে এ আয়োজন হয়েছিল।

জাতীয় অধ্যাপক প্রয়াত জামিলুর রেজা চৌধুরী যখন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) উপাচার্য, তখন তিনি ঢাকায় এ আয়োজন করার কথা ভাবেন। এরপর ২০১৬ সাল থেকে এ উদ্যোগের শুরু। ২০২২ সালে এসে পূরণ হলো স্বপ্ন। সরাসরি ও অনলাইনে শত শত সভা, মেইল চালাচালি, আইসিপিসি ফাউন্ডেশনের সব নীতিমালা, শর্ত পূরণ—সব করেই ইউএপির আয়োজনে হয়ে গেল ওয়ার্ল্ড ফাইনালস। আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। স্বাগতিক দেশ, তাই এবারই সর্বোচ্চ আটটি দল নিয়ে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয় বাংলাদেশ।

সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামী বছর আইসিপিসির আসর বসবে মিশরের শার্ম আল শেখ শহরে।

মণ্ডল চিত্রধারার লোগো

ইংরেজিতে ম্যান্ডালা। ভারতীয় উপমহাদেশে মণ্ডল। অর্থ বৃত্ত বা চক্র। আসলে বৃত্তের আদলে জ্যামিতিক নকশার সমাহারে ছবি আঁকার ধারাই ম্যান্ডালা।

ঢাকার আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনালসের লোগো মণ্ডল রীতিতে আঁকা হয়েছে। সেটি অনুসরণ করে আবার ১৩৭টি দল নিজ নিজ প্রতীক তৈরি করেছে। প্রতিযোগিতায় একটি দেয়ালে (ম্যান্ডালা ওয়াল) সব লোগো দেখা গেছে। এবারের ওয়ার্ল্ড ফাইনালসের যে লোগো, সেটি তৈরি হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধকে আবর্তন করে। বৃত্তের একেবারে বাইরের দিকে তিরচিহ্ন। এটা উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে চলাকে নির্দেশ করে। ভেতরে সমান্তরালে আছে ০ ও ১। বাইনারি সংখ্যার প্রতীক। ০ ও ১–এর মাঝখানে জামদানি নকশার প্রতীক।

ঢাকা সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে

প্রতিবছরের ওয়ার্ল্ড ফাইনালস আগেরবারের চেয়ে ভালো হয় এবং আইসিপিসি ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও আইসিপিসির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক উইলিয়াম বি পাউচার বিস্মিত হন। এবার তাঁর বিস্ময়টা যেন একটু বেশি। তাই তো ১০ নভেম্বর রাতে সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বললেন, ‘ঢাকার আতিথেয়তায় আমি ও আমরা মুগ্ধ। প্রতিবারই একটা ফাইনাল আরেকটিকে ছাড়িয়ে যায়। ঢাকা সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে।’