যেকোনো দেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি ভুল সিদ্ধান্ত ও বোঝাপড়ার শিকার হয়েছে চীন। বিষয়টি যদি আপনার কাছে রহস্যময় মনে হয়, তবে বুঝতে হবে, ঐতিহাসিক স্মৃতি আসলে বেশ ক্ষণস্থায়ী। আগের দুর্যোগগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র কোনোমতে সামলে উঠলেও চীনের ক্ষেত্রে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক। আর ঠিক এ কারণেই চলতি সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৩০-এর দশকে আগ্রাসন চালানো জাপানি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চীনের চিয়াং কাই-শেককে সমর্থন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। রুজভেল্ট প্রশাসন ধরে নিয়েছিল যে চিয়াংয়ের জাতীয়তাবাদীদের অধীনে চীন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ‘বিগ ফোর’ ক্ষমতার একটি হয়ে উঠবে।
কিন্তু ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৯ সালের গৃহযুদ্ধে মাও সে–তুংয়ের নেতৃত্বাধীন চীনা কমিউনিস্টরা যখন বিজয়ী হলো, তখন ওয়াশিংটন চরম ধাক্কা খেল। যে আন্দোলনকে তারা সামান্যই পাত্তা দিয়েছিল, তা প্রিয় চিয়াংকে টেনে নামাল। একই সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন—উভয় দেশই কমিউনিস্টদের দখলে চলে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে ওয়াশিংটন। কাউকে না কাউকে তো দায়ী করতেই হতো।
এভাবেই জন্ম নেয় ‘হু লস্ট চায়না?’ বিতর্ক, যা ১৯৫০-এর দশকের ‘রেড স্কেয়ার’ বা লাল ভীতি আন্দোলনের একটি বড় অংশ ছিল। স্টেট ডিপার্টমেন্টের যে কর্মকর্তাদের বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল, তাঁরাই কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বারবার সতর্ক করেছিলেন যে কমিউনিস্টদের সামরিক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাঁদের এই দূরদর্শিতার প্রশংসা করার বদলে দেশদ্রোহী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল; দাবি করা হয়েছিল যে জাতীয়তাবাদীদের প্রতি তাঁদের দুর্বল সমর্থনের কারণেই চিয়াংয়ের পতন ঘটেছে।
সাড়ে ৫৫ কোটি মানুষের একটি সুবিশাল ভূখণ্ডে—যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় দক্ষিণ ভিয়েতনামের জনসংখ্যার চেয়ে ৩৭ গুণ বড় ছিল—স্টেট ডিপার্টমেন্ট কমিউনিস্টদের ক্ষমতা দখল আটকে দিতে পারত, এমন ধারণা মার্কিন ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে গভীরভাবে ভুল মূল্যায়নেরই প্রমাণ।
পররাষ্ট্র দপ্তরের সেই কর্মকর্তাদের অবশ্য পুরোপুরি নির্দোষ বলা যায় না। মাওয়ের বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁরা সঠিক অনুমান করলেও তাঁর শাসনের প্রকৃতি বুঝতে ভুল করেছিলেন। চিয়াংয়ের জাতীয়তাবাদীদের তুলনায় মাওয়ের কমিউনিস্টদের তাঁরা কিছুটা নমনীয় মনে করেছিলেন। জাতীয়তাবাদীদের যুদ্ধকালীন রাজধানী চুংকিংয়ে অবস্থান করায় চিয়াংয়ের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা সম্পর্কে তাঁরা ভালোভাবে অবগত ছিলেন।
বিপরীতে মাওয়ের ঘাঁটি ইয়ানআন তাঁরা কেবল সংক্ষিপ্ত সফরে গিয়েছেন, যা মাও ও তাঁর প্রচারক চৌ এনলাই চমৎকারভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করতেন। ইয়ানআনের শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁরা মাওয়ের সর্বগ্রাসী রূপটি দেখতে ব্যর্থ হন, যার ফলে পরবর্তী সময়ে প্রায় সাত কোটি চীনা নাগরিক হত্যা ও দুর্ভিক্ষের শিকার হয়েছিল।
উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে যা এ পর্যন্ত স্থিতিশীল রেখেছে, তা হলো নিক্সনের সফরের সময় তৈরি হওয়া তাইওয়ান–সম্পর্কিত একটি ইচ্ছাকৃত অস্পষ্ট সমঝোতা, যা ‘সাংহাই কমিউনিকে’ নামে পরিচিত। সেই সূত্রে স্পষ্ট সংকেত দেওয়া হয়েছিল যে ‘চীন একটিই এবং তার রাজধানী বেইজিং’, তবে কোনো পক্ষই জোরজবরদস্তি করে তাইওয়ানের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাবে না।
১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিশেষজ্ঞ ছাঁটাই অভিযান মূলত ১৯৬০-এর দশক পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এশিয়া বিশেষজ্ঞ ও চীনবিষয়ক কূটনীতিকদের দূরে সরিয়ে ইউরোপীয় ও সাধারণ নীতিনির্ধারকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলেই ভিয়েতনাম যুদ্ধের মতো সিদ্ধান্ত সহজ হয়েছিল। কারণ, এই চীন বিশেষজ্ঞরাই পারতেন এশিয়ায় গেরিলা যুদ্ধের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করতে এবং মনে করিয়ে দিতে যে ভিয়েতনাম কখনোই কমিউনিস্ট চীনের হাতের পুতুল ছিল না।
ফলে ১৯৫০-এর দশকের প্রথম দিকের ‘রেড স্কেয়ার’ থেকে ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি ও শেষভাগে ভিয়েতনামের চরম বিপর্যয়—এই দুইয়ের মধ্যে চীনকে কেন্দ্র করে একটি প্রত্যক্ষ ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে।
১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারের কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে অবশেষে ‘হু লস্ট চায়না?’ বিতর্কের সমাপ্তি ঘটে। চীন আর ‘হারিয়ে যাওয়া’ কোনো দেশ ছিল না; বরং সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার মতো একটি ভূরাজনৈতিক চালের ঘুঁটিতে পরিণত হয়েছিল। নিক্সন ও কিসিঞ্জারের এই ধারণা ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল।
তবে তিয়েনআনমেন স্কয়ারের নৃশংস দমন–পীড়ন এবং কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের সমাপ্তি চীনকে একদিকে যেমন ঘৃণিত করে তোলে, তেমনি ইউরোপে কমিউনিজমের পতনের ফলে ভূরাজনৈতিক সম্পদ হিসেবেও এর গুরুত্ব কমিয়ে দেয়।
১৯৯০-এর দশকে চীনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অভূতপূর্ব উত্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাকে একটি পরাশক্তি হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়। জিয়াং জেমিন ও তাঁর উপপ্রধানমন্ত্রী জু রোংজি এতটাই গতিশীল ছিলেন যে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় পক্ষই ধরে নিয়েছিল যে চীন ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনে (ডব্লিউটিও) যোগ দিলে দেশটি ধীরে ধীরে একটি পুঁজিবাদী ও উদারপন্থী সমাজের দিকে ধাবিত হবে। প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও এ ধারণার বাইরে ছিলেন না।
এটি ছিল ওয়াশিংটনের তৃতীয় ভুল মূল্যায়ন। স্নায়ুযুদ্ধে জয়লাভের পর ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকেরা ধরে নিয়েছিলেন যে চীন নিশ্চিতভাবেই ইউরোপের পথ অনুসরণ করে স্বাধীনতার দিকে হাঁটবে। কিন্তু আফসোস, চীন তো ইউরোপ ছিল না। ডব্লিউটিওতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর চীন সি চিন পিংয়ের অধীনে উল্টো এক চরম সর্বগ্রাসী কর্তৃত্ববাদের দিকে ফিরে যায়।
এসব ভুলের একেকটি সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। তবে এর মূল যোগসূত্র হলো চীনের বিশালতা, জটিলতা এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্কৃতি। সাম্প্রতিক সময়ে হুভার ইনস্টিটিউটের গবেষক ফ্র্যাঙ্ক ডিকোটারের যুগান্তকারী গবেষণার কল্যাণে আমরা জানতে পেরেছি, গৃহযুদ্ধের সময় স্তালিন মাওকে কতটা সহায় সামরিক সহযোগিতা দিয়েছিলেন, যা জাতীয়তাবাদীদের বিজয়কে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছিল। মধ্যপ্রাচ্যের মতো চীনের বিশ্লেষণ তীব্র রাজনৈতিক পক্ষপাত দ্বারা বিকৃত নয়, তবু সম্পূর্ণ আবেগহীন বিশেষজ্ঞশ্রেণির জন্যও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক চীনকে নিখুঁতভাবে বোঝা সত্যিই বেশ কঠিন।
উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে যা এ পর্যন্ত স্থিতিশীল রেখেছে, তা হলো নিক্সনের সফরের সময় তৈরি হওয়া তাইওয়ান–সম্পর্কিত একটি ইচ্ছাকৃত অস্পষ্ট সমঝোতা, যা ‘সাংহাই কমিউনিকে’ নামে পরিচিত। সেই সূত্রে স্পষ্ট সংকেত দেওয়া হয়েছিল যে ‘চীন একটিই এবং তার রাজধানী বেইজিং’, তবে কোনো পক্ষই জোরজবরদস্তি করে তাইওয়ানের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাবে না।
১৯৭২ সালের পর এই প্রথম সাংহাই কমিউনিকে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। মাঝেমধ্যে কিছু বিচ্যুতি ঘটেছে, যেমন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যখন ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি তাইওয়ানকে রক্ষা করবেন, যা নিক্সনের কৌশলগত অস্পষ্টতার নীতিকে ভঙ্গ করেছিল। তবে সাধারণত প্রেসিডেন্টরা মুখে লাগাম টেনে রাখতেন।
ট্রাম্প প্রশাসনে বিষয়টি আর তেমন নেই। তাইওয়ান ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে তার অবস্থান সব সময়ই অস্থির। অন্যদিকে চীনও আর কোনো আলোকিত কমিউনিস্ট নেতাদের দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে না; বরং এর নেতৃত্বে রয়েছেন সি চিন পিং—একজন লেনিনবাদী সর্বগ্রাসী শাসক, যিনি প্রকাশ্যে তাইওয়ানের ওপর আগ্রাসী মনোভাব পোষণ করেন।
শীর্ষ বৈঠকগুলোতে যত ভালো ভালো কথাই বলা হোক না কেন, আমরা আবার ‘হু লস্ট চায়না?’ যুগে ফিরে এসেছি, যেখানে মৌলিক ভুল হওয়া স্বাভাবিক, তবে এবার তার পরিণতি হবে অকল্পনীয়। এ ছাড়া এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন—কারোরই পারস্পরিক সহযোগিতার আগ্রহ না থাকায় এই প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য তৈরি হচ্ছে।
চূড়ান্ত ভূরাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটবে, যদি তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে সামরিক সংঘর্ষ বেধে যায়। এ ধরনের সংঘাত এড়ানো কেবল সামরিক উত্তেজনা কমানোর বিষয় নয়। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন বিশেষজ্ঞ ওড আর্নে ওয়েস্টাড যেমনটি উল্লেখ করেছেন, ১৯১৪ সালে জার্মানি ধরে নিয়েছিল যে ব্রিটেন হয়তো তার মিত্রদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে না; আর এ ধারণাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু করতে ইন্ধন জুগিয়েছিল। চীন যদি ধরে নেয় যে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সাহায্যে এগিয়ে আসবে না, তবে তা–ও যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা আংশিকভাবে হয়েছিল একে অপরের উদ্দেশ্য ভুলভাবে পড়ার কারণে। ট্রাম্প তাঁর দোদুল্যমান নীতির মাধ্যমে—যার মধ্যে তাইওয়ানের সামরিক সাহায্যকে চীনের সঙ্গে দর–কষাকষির হাতিয়ার করা এবং এশিয়াকে চীনা প্রভাববলয়ে ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করাও রয়েছে—এমন এক বিভ্রান্তি তৈরি করছেন, যা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সরাসরি যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ইউক্রেন, গাজা ও ইরানের যুদ্ধ সাধারণ জনগণ ও এলিটদের মধ্যে মারাত্মক মতভেদ তৈরি করলেও আমাদের জীবনযাত্রাকে মৌলিকভাবে বদলে দেয়নি। কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে উচ্চপর্যায়ের সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহশৃঙ্খলগুলোকে ধ্বংস করে দেবে এবং আমাদের বিশ্বকে চিরতরে বদলে দেবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে এই তুলনার মধ্যে কোনো অতিরঞ্জন নেই।
‘হু লস্ট চায়না?’ বিতর্ক জন্ম নিয়েছিল একটি অন্ধ উন্মাদনা এবং ভুল বোঝাপড়া থেকে। ১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে অন্ধ উন্মাদনাটি ছিল কমিউনিজমকে ঘিরে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন মূল শত্রু হিসেবে জার্মান নাৎসিবাদ ও জাপানি ফ্যাসিবাদের জায়গা দখল করেছিল। তখন যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল যে হাজার হাজার মাইল দূরের ভূখণ্ডে চিয়াংয়ের দুর্বল শাসনব্যবস্থাকে বাঁচানোর ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
আজকের অন্ধ উন্মাদনাটি আবারও সেই কমিউনিজমকেই কেন্দ্র করে, তবে এবার রূপ ভিন্ন—সামরিক, অর্থনৈতিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে যেতে চাওয়া চীন। আর বর্তমানের ভুল বোঝাপড়াটি হলো এই যে তাইওয়ান ও আমাদের অন্যান্য এশীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষায় একটি নরম বা শিথিল মনোভাব গ্রহণ করলে কোনোভাবে যুদ্ধ এড়ানো যাবে। বাস্তবে এ ধরনের নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি চীনকে তাইওয়ান আক্রমণে উৎসাহিত করতে পারে, যা পুরো প্রশান্ত মহাসাগরের ভাগ্যকে এক মারাত্মক সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।
যেকোনো মহাযুদ্ধ এড়ানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো নীতির শৃঙ্খলা। শুনতে একঘেয়ে লাগলেও এটি সত্যি যে স্থিতিশীল ও পূর্বাভাষযোগ্য সংকেত পাঠানোই আসল উপায়। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নয় চীনকে বিভ্রান্ত করা, ঠিক যেমন চীনেরও উচিত নয় যুক্তরাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত করা।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা আংশিকভাবে হয়েছিল একে অপরের উদ্দেশ্য ভুলভাবে পড়ার কারণে। ট্রাম্প তাঁর দোদুল্যমান নীতির মাধ্যমে—যার মধ্যে তাইওয়ানের সামরিক সাহায্যকে চীনের সঙ্গে দর–কষাকষির হাতিয়ার করা এবং এশিয়াকে চীনা প্রভাববলয়ে ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করাও রয়েছে—এমন এক বিভ্রান্তি তৈরি করছেন, যা দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সরাসরি যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আজকের বিশ্বের কোনো ভূরাজনৈতিক সংঘাতের এমন ক্ষমতা নেই, যা সামান্য ভুল গণনায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো সবাইকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারে। পৌনে এক শতাব্দী আগে চীন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে তছনছ করে দিয়েছিল। এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
রবার্ট ডি ক্যাপলান অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার এবং মার্কিন সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতির গবেষক। নিউইয়র্ক টাইমস থেকে সংক্ষেপে অনূদিত