মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে রান আসছেই। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ১ বলে ১ রান না নিতে পারায় সুপার ওভারে ম্যাচ গড়ায়। পরে সেটি হেরে যায় মাহমুদউল্লাহর দল রংপুর রাইডার্স। এরপর টানা তিন ম্যাচে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন মাহমুদউল্লাহ।
সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে ১৬ বলে অপরাজিত ৩৪ আর ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪১ বলে ৫১ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন আগের দুই ম্যাচে। আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষেও ১৯ বলে ৩০ রানের ইনিংসে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তিনি।
১৭০ রানের লক্ষ্য ছুঁতে নেমে শেষ ৪ ওভারে ৪১ রান দরকার ছিল রংপুরের। কাজটা সহজ হবে না বলেই মনে হচ্ছিল তখনো। কিন্তু আমের জামালের ১ ওভারেই ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৯ রান নিয়ে নেন মাহমুদউল্লাহ।
রান তাড়াটা ওই ওভারের পরই হাতের মুঠোয় চলে এসেছিল। পরের ওভারে খুশদিল শাহ চড়াও হন শরীফুল ইসলামের ওভারে। চতুর্থ বলে আউট হওয়ার আগে ২ চার ও ১ ছক্কায় সমীকরণটা সহজ বানিয়ে ফেলেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। শেষ ২ ওভারে ৫ রানে নেমে আসে রংপুরের জয়ের সমীকরণ। ৫ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে যায় রংপুর।
তাদের সেই ভিতটা অবশ্য গড়ে দিয়েছিলেন কাইল মায়ার্স। এই ওপেনার ২৫ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৫০ রান করেন। সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই রংপুরকে ম্যাচ জিতিয়েছেন মাহমুদউল্লাহরা।
টসে হেরে ব্যাট করতে নামা চট্টগ্রাম রয়্যালস করেছিল ৫ উইকেটে ১৬৯ রান। ৪৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ৮২ রানের জুটি গড়া অ্যাডাম রসিংটন ও হাসান নেওয়াজ চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি ইনিংস খেলেছেন।
টানা তৃতীয় ফিফটি পাওয়া ওপেনার রসিংটন ৪১ বলে করেছেন ৫৮ রান। এবার প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা হাসান ৩৮ বলে করেছেন ৪৬ রান।
চট্টগ্রামের রানটা তবু এত দূর যেত না, যদি শেষ দিকে অধিনায়ক মেহেদী হাসান ৭ বলে ১৩ আর আমের জামাল ১০ বলে ১৯ রানের ইনিংস না খেলতেন। চট্টগ্রামের জন্য সব সময়ই বড় শক্তির জায়গা তাদের বোলিং। সেটিতে চাপে রাখতে পারলেও ম্যাচ জিততে পারেনি চট্টগ্রাম।
পঞ্চম ম্যাচে পাওয়া চতুর্থ জয়ের পর ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছে রংপুর। আর সমান ম্যাচে দ্বিতীয় হারের পর দুইয়ে নেমে গেছে চট্টগ্রাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৬৯/৫ (রসিংটন ৫৮, হাসান নেওয়াজ ৪৬, জামাল ১৯*; আকিফ ২/২৯, মোস্তাফিজ ২/৩২, রাকিবুল ১/৪২)।
রংপুর রাইডার্স: ১৮.৫ ওভারে ১৭০/৫ (মায়ার্স ৫০, ম্যালান ৩০, মাহমুদউল্লাহ ৩০*, খুশদিল ২২; শরীফুল ৩/৩৭, হায়দার ১/২৯, জামাল ১/৩৬)।
ফল: রংপুর রাইডার্স ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কাইল মায়ার্স।