টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়া এখন বড় বিপদে
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়ার হার নতুন কিছু নয়। ২০০৭ সালে প্রথম আসরেই এমন তেতো অভিজ্ঞতা হয়েছিল রিকি পন্টিংয়ের দলের। তবে কেপটাউনের সেই হারে অস্ট্রেলিয়ার তেমন ক্ষতি হয়নি। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে সুপার এইট, এরপর সেমিফাইনালেও খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু কলম্বোর আজকের হারের ফল হতে পারে উল্টো।
জিম্বাবুয়ের কাছে ২৩ রানে হেরে ‘বি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান এখন তিনে। সুপার এইটে উঠবে গ্রুপের শীর্ষ দুই দল। কিন্তু একের পর এক চোটের কারণে শক্তি হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার এখন দুইয়ে থাকা অনিশ্চিত। প্রশ্নটা তাই বড় হয়ে উঠছে—অস্ট্রেলিয়া সুপার এইটে উঠতে পারবে তো?
পয়েন্ট তালিকার দিকে তাকালেই বোঝা যাবে কারণটা। প্রথম দুই ম্যাচেই জিতে ৪ পয়েন্ট জোগাড় পেয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট ২ ম্যাচে ২।
হাতে আছে শ্রীলঙ্কা ও ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ। দুটি ম্যাচেই জিতলে পয়েন্ট হবে ৬। এতেও সুপার এইট নিশ্চিত হবে না। কারণ, ৬ পয়েন্ট করে পাওয়ার সুযোগ আছে শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে দুই দলেরই। সে ক্ষেত্রে নির্ধারক হয়ে উঠবে নেট রান রেট।
‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকা
১৬ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার পরের ম্যাচটিই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এই ম্যাচে হেরে গেলে অস্ট্রেলিয়ার বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে। জিতলেও পুরোপুরি নিশ্চিত বলা যাবে না। তবে শ্রীলঙ্কা যদি অস্ট্রেলিয়ার পর জিম্বাবুয়ের কাছেও হারে, তাহলে সমীকরণটি সহজ হয়ে যাবে। তখন অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ে সেরা দুইয়ে থাকবে, ছিটকে যাবে শ্রীলঙ্কা। এখন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কাজই হচ্ছে ওমানের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করা।
প্রশ্ন হচ্ছে, জেতার মতো রসদ অস্ট্রেলিয়ার আছে তো?
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই চোটের কারণে ছিটকে গেছেন দলের সেরা দুই পেসার প্যাট কামিন্স ও জস হ্যাজলউড। বিশ্বকাপে এসে অনুশীলনের সময় চোট পেয়েছেন অধিনায়ক মিচেল মার্শ। আয়ারল্যান্ড ম্যাচের পর আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও খেলতে পারেননি। দায়িত্ব সামলেছেন ট্রাভিস হেড। ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে আজ বোলিংয়ের সময় আঙুলে চোট পেয়েছেন অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিসও। প্রাথমিক চিকিৎসায় সেরে না ওঠায় মাঠই ছেড়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। পরে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন ৭ নম্বরে, আউট হয়েছেন মাত্র ৬ রানে।
স্টয়নিস চোটে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ধারাভাষ্যে থাকা অ্যারন ফিঞ্চ কামিন্স, হ্যাজলউড ও মার্শের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অস্ট্রেলিয়া ‘আর কোনো চোট সইতে পারবে না’। স্টয়নিস যদি চোটের কারণে শ্রীলঙ্কা ও ওমান ম্যাচ মিস করেন, সেটি হবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় ধাক্কা। ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জেতা আসরে ১৩৭ স্ট্রাইক রেটে ৮০ রান করেছিলেন স্টয়নিস।
টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর এই ব্যাটিং–ছন্দ দেখা গেছে ২০২২ ও ২০২৪ আসরেও। প্রথমটিতে ১৬২ স্ট্রাইক রেটে আর দ্বিতীটিতে ১৬৪ স্ট্রাইক রেটে ৪২ গড়ে ব্যাট করেছেন। এবারও প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৪৫ রানের ইনিংস। সেই স্টয়নিস পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে পারবেন কি না, তা এখন অনিশ্চিত। আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর ম্যাট রেন শ সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে বলেছেন, ‘মেডিকেল স্টাফরা পরীক্ষা করে দেখবেন তাঁর চোট কতটা গুরুতর।’
২০২১ সালে ট্রফি জেতার পর সর্বশেষ দুই আসরে সেমিফাইনালে খেলতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। বিদায় নিয়েছে সুপার টুয়েলভ ও সুপার এইট থেকে। এবার প্রথম রাউন্ড পেরোনোই হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। অস্ট্রেলিয়া বড় বিপদেই আছে বলতে হচ্ছে!