মেসিকে ইউরোপ ছাড়তে নিষেধ করছেন ফন বাস্তেন
নেদারল্যান্ডসের ইউরোজয়ী তারকা, সাবেক এসি মিলান কিংবদন্তি মার্কো ফন বাস্তেন খুব করেই চান, সংবাদটা যেন সত্যি না হয়। লিওনেল মেসি ইউরোপীয় লিগের কোনোটিতেই খেলবেন না, এটা মানতে পারছেন না ডাচ তারকা। তিনি আর্জেন্টাইন তারকাকে টাকার পেছনে না ছুটে তাঁর ‘মনের ইচ্ছা’ অনুযায়ী চলারই আহ্বান জানিয়েছেন।
জিগ্গো স্পোর্টস নামের একটি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গোল ডটকম জানিয়েছেন ফন বাস্তেনের মতে, মেসি যদি সত্যিই সৌদি আরবে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, সেটি খুবই ‘বাজে সিদ্ধান্ত’, ‘আমি মনে করি, এটা খুবই বাজে একটা সিদ্ধান্ত হবে। তবে মেসি বিশাল অঙ্কের অর্থের জন্য সেখানে যেতেই পারে। মেসি তো এ জীবনে অনেক আয় করেছে। এ ক্ষেত্রে মেসির উচিত তার মন যা চাচ্ছে, সেটিই করা। আমি এটা ভাবতেই পারছি না (ইউরোপীয় ফুটবল লিগে না খেলা)। মেসি নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক। মেসি যেকোনো জায়গাতেই খেলতে পারে, যেতে পারে।’
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি আগামী মৌসুমে সৌদি আরবে খেলার জন্য চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। যদিও মেসির ঘনিষ্ঠজনেরা ও তাঁর বাবা সৌদি আরবের কোনো ক্লাবের সঙ্গে যেকোনো ধরনের চুক্তি কিংবা চুক্তি প্রসঙ্গে মৌখিক সম্মতি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
এএফপির খবরে বলা হয়, মেসি আগামী মৌসুমে ‘বিশাল অঙ্কের চুক্তি’তে সৌদি আরবের একটি ক্লাবে খেলবেন। এএফপি এ খবরে সূত্র হিসেবে একটি অসমর্থিত সূত্রের কথা জানিয়েছে। বার্তা সংস্থাটি সৌদি আরবের কোন ক্লাবের সঙ্গে মেসি চুক্তি চূড়ান্ত করেছেন, সে তথ্য জানায়নি। তবে গত মাসেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছিল, সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলাল মেসিকে কিনতে বার্ষিক ৪০ কোটি ইউরো দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
খবরটি সত্যি হলে সৌদি আরবের লিগের মধ্য দিয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে মেসির পুরোনো মাঠের লড়াই আবার শুরু হবে। একই সঙ্গে মেসি ক্রীড়া ইতিহাসের সর্বাধিক পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ হিসেবে পর্তুগিজ তারকাকে পেছনে ফেলবেন মেসি। গত জানুয়ারিতে রোনালদো বার্ষিক ২০ কোটি ইউরোতে সৌদি ক্লাব আল–নাসরে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে ক্রীড়া ইতিহাসে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদে পরিণত হয়েছেন।
এদিকে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্ত জানিয়েছে, মেসি নাকি এখনো কোথায় যাবেন, সে ব্যাপারে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। মৌসুম শেষে তিনি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে মেসি নাকি এখনো ইউরোপীয় লিগকেই অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। সে কারণে তাঁর পুরোনো ক্লাব বার্সেলোনায় ফেরার বিষয়টিই মাথায় রেখেছেন।
গত সপ্তাহে পিএসজির কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই মেসি সপরিবার সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সৌদি আরবের পর্যটনদূত হিসেবে প্রতিশ্রুতি রক্ষার অংশ হিসেবেই সেই সফর ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে পিএসজি মেসির সৌদি সফরকে ভালোভাবে নেয়নি। গত মঙ্গলবার তাঁকে দুই সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
এমনকি মেসির সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি না করারও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল তারা। মেসি এরপর ক্ষমা চাইলে বরফ গলার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। গতকাল তাঁকে অনুশীলনেও ফেরানো হয়। এমনকি নিষেধাজ্ঞার সময়সীমার মধ্যেই আগামী শনিবার মেসিকে ফ্রেঞ্চ লিগ ‘আঁ’র একটি ম্যাচে খেলানোর চিন্তাভাবনা চলছিল। আজ এএফপির খবরের পর গোটা দৃশ্যপটটাই পাল্টে গেছে।