লিসবনে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে পর্তুগাল একটি প্রীতি ম্যাচ খেললেও সেখানে পেটের পীড়ার কারণে খেলেননি। তবে বৃহস্পতিবার ঘানার বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রোনালদো, ‘কিছুটা সমস্যা ছিল। সেটা কেটে গেছে। সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় থেকেই বিশ্বকাপ শুরুর জন্য আমি প্রস্তুত।’

২০০৬ থেকে বিশ্বকাপ খেলছেন রোনালদো। নাটকীয় কিছু না ঘটলে এটিই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। আর এবারই একদল প্রতিভাবান ফুটবলারকে সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন রোনালদো। শেষবেলায় পর্তুগালের বিশ্বকাপ জয়ের কেমন সম্ভাবনা দেখছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড?

এ ক্ষেত্রে আশাবাদী হলেও কিছুটা রক্ষণাত্মক জবাব রোনালদোর, ‘বিশ্বাস করি আমাদের ভালো সম্ভাবনা আছে। তবে ঘানার বিপক্ষে শুরুটা ভালো করতে হবে। কারণ, ওটাই সবচেয়ে কঠিন। বিশ্বকাপ জেতাটা জাদুকরি ব্যাপারই হবে। তবে সবাই এখানে জেতার জন্যই এসেছে, জিতবে কিন্তু একটি দল। আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা মাথায় রেখেই এগোব।’

জেতার জন্য আসা দলগুলোর মধ্যে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল আছে বেশ কয়েকটি। এর মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর ট্রফি হাতে তোলার ক্ষেত্রে রোনালদো এগিয়ে রাখছেন তিনটি দেশকে, ‘ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা আর ফ্রান্স—এই দলগুলোর সামনে এবার সেরা সুযোগ। স্পেন আর জার্মানিও ভালো দল। তবে ২০১৬ ইউরোতে আমরা কিন্তু সবাইকে চমকে দেওয়ার সামর্থ্যের জানান দিয়েছি।’

পর্তুগাল চ্যাম্পিয়ন হলে রোনালদোর ফুটবল ক্যারিয়ারে অর্জনের চক্র পূর্ণতা পাবে। এর আগে ক্লাব ফুটবলের সম্ভাব্য সব শিরোপার পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে ইউরো ও উয়েফা নেশনস লিগ জিতেছেন।

এবার বিশ্বকাপ জিতলে ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত হবেন—এমন প্রসঙ্গ তোলা হলে কিছুটা যেন বিরক্তিই প্রকাশ করলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী, ‘আমার কিছুর অভাব নেই। সবই আছে। বিশ্বকাপ জেতাটা অবশ্যই চমকপ্রদ ব্যাপার হবে। স্বপ্নপূরণ হবে। তবে এখন ৩৭ বছর ৮ মাস বয়সে যদি নিজেকে আমার প্রমাণ করতে হয়, সেটা তো বিস্ময়কর। এযাবৎ যা অর্জন করেছি, তার জন্য আমি গর্বিত। স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানাই। আমার জীবনে কোনো কিছুর কমতি নেই।’