‘ম্যারাডোনার মতো মেসি বলতে পারবে না, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য মরব’

মেসি ও ম্যারাডোনা দুজনেই বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন আর্জেন্টিনাকেছবি: টুইটার

কে সেরা? লিওনেল মেসি না ডিয়েগো ম্যারাডোনা?

আর্জেন্টিনায় এ বিতর্ক শেষ হওয়ার না। আর্জেন্টিনার বাইরেও এ নিয়ে বিতর্ক চলে। সেরার প্রশ্নে কারও পছন্দ মেসি, কারও আবার ম্যারাডোনা। বের্নাদ সুস্টারের কথাই ধরুন। বার্সেলোনায় ম্যারাডোনার সতীর্থ ছিলেন। ’৮৬–র মহানায়কের প্রতি আলাদা টান থাকাই স্বাভাবিক। দুই কিংবদন্তির মধ্যে সেরা বাছতে গিয়ে একটি জায়গায় পার্থক্য দেখেন বার্সা ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লিগজয়ী সুস্টার।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির হয়ে ১৯৮০ ইউরোজয়ী সুস্টার খেলোয়াড়ি জীবনে ‘ব্লন্ড অ্যাঞ্জেল’ নামে পরিচিত ছিলেন। জার্মানির সাবেক এ মিডফিল্ডার বার্সায় ৮ মৌসুম কাটিয়ে সরাসরি যোগ দিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদে। খেলেছেন আতলেতিকো মাদ্রিদেও। ১৯৯৭ সালে খেলা ছেড়ে কোচিংয়ে নামার পর এক বছর রিয়ালের দায়িত্বেও ছিলেন সুস্টার।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘সুপার দেপোর রেডিও’কে সুস্টার মেসি ও ম্যারাডোনার মধ্যে পার্থক্য নিয়ে বলেছেন, ‘আমরা এখন আরও পরিণত মেসিকে দেখছি। সে আর আগের সেই তরুণটি নেই, যাকে দেখে লোকে ফুটবলের প্রেমে পড়েছে। ম্যারাডোনা ও তার মধ্যে আমি একটি পার্থক্যই দেখি। ম্যারাডোনা বহির্মুখী ছিল, যা মনে করত, সেটাই বলত। মেসি তার মতো বলতে পারবে না “আমি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য মরব”। ডিয়েগো মনের ভেতর যা অনুভব করেছে, সেসব সতীর্থ, ভক্ত থেকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু মেসি এসব মনের ভেতর পুষে রাখে। যদিও মাঠের ভেতরে দুজন প্রায় একই রকম।’

জার্মানির সাবেক মিডফিল্ডার বের্নাদ সুস্টার
ছবি: টুইটার

কাতারে গত ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী মেসি। ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনায় বিশ্বকাপ জিততে না পারার অপূর্ণতাও ঘুচিয়েছেন পিএসজি তারকা। আর ক্লাব ফুটবলে তো এমন কোনো শিরোপা নেই যে জেতেননি! সব মিলিয়ে কাতারে বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসি চাইলে কিন্তু অবসর নিতে পারতেন। অন্তত জাতীয় দল থেকে! আর্জেন্টিনার জার্সিতে কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়ের পর আর কী অপূর্ণতা থাকতে পারে! বয়সও তো কম হলো না।

আরও পড়ুন

৬৩ বছর বয়সী সুস্টার অবশ্য অন্য কিছু মনে করেন। মেসি এখনো কয়েক বছর খেলা চালিয়ে যেতে পারেন বলে মনে করেন ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত বার্সায় কাটানো সুস্টার, ‘মেসির সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। অনেক গ্রেট ফুটবলারের সঙ্গেই পরিচয় হয়েছে, তাদের অনেকেই মনে করেন শীর্ষ পৌঁছানোর পর অবসর নেওয়া উচিত। শেষ ফাইনাল খেলে কিংবা শেষ ট্রফি জিতে অবসর নেয় অনেকেই। সেটি অন্তত জাতীয় দল থেকে। কিন্তু মেসি আরও কয়েক বছর খেলতে পারে। তার সেই ইচ্ছাটা আছে। প্যারিসও তার জন্য বেশ ভালো ক্লাব।’

মেসিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে দেখার আশা করেন কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে সুস্টার বলেছেন, ‘আমার মনে হয় কঠিন হবে। তবে সম্ভাবনাটা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সে কিন্তু নিজের যত্ন নেয়। এখন সবকিছু উন্নত হওয়ায় খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার লম্বা হয়। তাই সম্ভাবনা থাকলেও আমার মনে হয় কঠিন হবে।’

আরও পড়ুন