ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গোলের দুটি সুযোগ পেয়েছিল আরব আমিরাত। প্রথমে আরব আমিরাতের আবদুল্লা সালমানের দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে আবদাল্লা রামাদানের শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন মার্তিনেজ। শেষ বাঁশি বাজার ৯ মিনিট আগে ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত আরব আমিরাতের উইঙ্গার ফাবিও লিমার শট খুব কাছ থেকে রুখে দেন মার্তিনেজ। সেভটি অবিশ্বাস্য ছিল।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ক্লারিন জানিয়েছে, এ দুটি সেভের মাধ্যমে ১৪ ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ (কোনো গোল হজম করেননি) ধরে রাখলেন মার্তিনেজ। আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯ ম্যাচ খেলা অ্যাস্টন ভিলার এই গোলকিপার দেশের জার্সিতে মাত্র ৫ গোল হজম করেছেন। ম্যাচপ্রতি তাঁর গোল হজমের গড় ০.২৬, যা ১৯০২ সালের পর আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে কম গোল হজমের নজির। অর্থাৎ, গোল হজমের কিপটেমিতে ১২০ বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছেন মার্তিনেজ।

তবে অনেকে হিসাব করেন, আর্জেন্টিনার হয়ে ২০ ম্যাচ খেলেছেন মার্তিনেজ। ‘ক্লিন শিট’ ধরে রেখেছেন ১৫ ম্যাচে।

এই হিসাবের ব্যাখ্যাও দিয়েছে ক্লারিন, গত বছর সেপ্টেম্বরে সাও পাওলোয় বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনার যে ম্যাচটি পণ্ড হয়েছিল, সে ম্যাচে প্রায় পাঁচ–ছয় মিনিট মাঠে ছিলেন মার্তিনেজ। সেই ম্যাচ যোগ করেই ২০ ম্যাচের হিসাব করা হয়। কিন্তু ফিফা পণ্ড হওয়া ম্যাচটি পরে বাতিল করেছে।

আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা পাঁচ গোলকিপারের সঙ্গে একটি জায়গায় মার্তিনেজের তুলনাটা তোলা যায়।

সর্বোচ্চ ৯৬ ম্যাচ খেলা সের্হিও রোমেরো তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ১৯ ম্যাচে হজম করেছিলেন ১৪ গোল। ৫৪ ম্যাচ খেলা ’৭৮ বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার আবালদো ফিল্লোল নিজের প্রথম ১৯ ম্যাচে হজম করেছেন ১৬ গোল। ৪৯ ম্যাচ খেলা রবার্তো আবোনদেনজিয়েরি আরেকটু বেশি, ক্যারিয়ারের প্রথম ১৯ ম্যাচে ২০ গোল হজম করেছেন বোকা জুনিয়র্স কিংবদন্তি।

’৯০ বিশ্বকাপে টাইব্রেকার ঠেকিয়ে খ্যাতি কুড়োনো সের্হিও গয়কোচিয়া ৪৪ ম্যাচ খেলেছেন আর্জেন্টিনার জার্সিতে। এর মধ্যে প্রথম ১৯ ম্যাচে ১৮ গোল হজম করেন। আর ’৬২ ও ’৬৬ বিশ্বকাপে খেলা ‘টারজান’ নামে খ্যাত গোলকিপার আন্তনিও রোমা (৪১ ম্যাচ) ক্যারিয়ারের প্রথম ১৯ ম্যাচে হজম করেন ২৫ গোল। সে হিসাবে মার্তিনেজের শুরুটা এই পাঁচ কিংবদন্তির চেয়ে ভালো—তা বলাই যায়।

মার্তিনেজ এখন বিশ্বকাপে কী করেন, সেটাই দেখার বিষয়। ২২ নভেম্বর সৌদি আরবের মুখোমুখি হয়ে কাতার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা।