১৯৬২ চিলি
‘ছোট পাখি’র ডানায় উড়ল ব্রাজিল
১৯৩০ সালে মন্টেভিডিওর সেই ধূসর বিকেলে বিশ্বকাপ নামে যে মহাযাত্রার শুরু হয়েছিল, তা আজ শতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। এই যাত্রার কোথাও পেলে-গারিঞ্চার সাম্বার ছন্দ, কোথাও ম্যারাডোনার ঈশ্বরপ্রদত্ত জাদুকরি ছোঁয়া, আবার কোথাও জিনেদিন জিদান কিংবা লিওনেল মেসির অমরত্বের পথে হেঁটে যাওয়া—সব মিলিয়েই তো এই ফুটবল-পুরাণ। ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে বিশ্বকাপের সব রোমাঞ্চকর স্মৃতি ফেরানোর আয়োজন—ফিরে দেখা বিশ্বকাপ।
১৯৬০ সালের মে মাস। ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চিলি। কনসেপসিওন শহর ধ্বংসস্তূপ, ১২৫টি প্রাণ এক নিমেষে গায়েব। চারদিকে শুধু হাহাকার আর ধ্বংসের চিহ্ন। এমন এক খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে একটা দেশ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করবে? অসম্ভব! কিন্তু সান্তিয়াগোর আকাশে তখন অন্য সুর। চিলির বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির সভাপতি কার্লোস দিতবর্ন বুক চিতিয়ে ঘোষণা করলেন, ‘যেহেতু আমাদের কিছু নেই, তাই আমরা সবকিছু করব।’ চিলি পেরেছিল। এক অলৌকিক জেদ নিয়ে তারা তৈরি করল স্টেডিয়াম, হোটেল, এমনকি বসাল দেশের প্রথম টেলিভিশন স্টেশন। কিন্তু নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস! যে মানুষটি চিলির এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিলেন, সেই দিতবর্ন টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক মাস আগে, ৪১ বছর বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। তিনি দেখে যেতে পারেননি তাঁর সেই স্বপ্নের মহোৎসব।
রেকর্ড বুকে সাম্বার দোলা
চিলির এই আসরে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল যেন রেকর্ড বই ওলট–পালট করতেই নেমেছিল। ইতালির (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ল সেলেসাওরা। ফাইনালে তাদের শিকার চেকোস্লোভাকিয়া। এই জয়ের নেপথ্যে জড়িয়ে আছে দারুণ কিছু গল্প। ফরোয়ার্ড এদভালদো ইসিদিও নেতো—ফুটবল দুনিয়া যাঁকে ‘ভাভা’ নামে চেনে— গড়লেন এক অনন্য ইতিহাস। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে গোল করার পর, ১৯৬২-র ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষেও জালের ঠিকানা খুঁজে নিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুটি ফাইনালে গোল করা একমাত্র ফুটবলার তিনিই।
চমক ছিল ডাগআউটেও। ব্রাজিলের কোচ আইমোরে মোরেইরা ছিলেন ১৯৫৪ সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কোচ আলফ্রেডো ‘জেজে’ মোরেইরার ভাই। বিশ্বকাপের ইতিহাসে আলাদা দুটি আসরে একই দেশের ডাগআউটে দাঁড়ানো একমাত্র জোড়া ভাই তাঁরাই। আর পুরো টুর্নামেন্টে ব্রাজিল দল স্কোয়াডের মাত্র ১২ জন খেলোয়াড় ব্যবহার করেছিল! প্রথম পর্বে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে ছিটকে যান পেলে। তাঁর জায়গায় স্পেনের বিপক্ষে নামানো হয় আমারিলদোকে। ব্যস, ওইটুকুই। এরপর পুরো টুর্নামেন্টে ব্রাজিল আর একটিও পরিবর্তন করেনি।
টাইব্রেকার নয়, এবার গোল পার্থক্য
ফিফা সেবারও আগের বিশ্বকাপের মতো চার দলের গ্রুপ পর্ব এবং কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে নকআউট পদ্ধতি বহাল রাখে। তবে নিয়মে এল এক যুগান্তকারী বদল। দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে টাইব্রেকার ম্যাচের বদলে প্রথমবারের মতো নির্ধারক হলো ‘গোল পার্থক্য’। আর এই নিয়মের প্রথম সুবিধাভোগী ইংল্যান্ড, যার বলি আর্জেন্টিনা। গ্রুপ ৪-এ দুই দলেরই পয়েন্ট ছিল ৩। কিন্তু ইংল্যান্ডের গোল পার্থক্য ছিল +২, আর আর্জেন্টিনার -১। ফলে আর্জেন্টিনাকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখায় ইংলিশরা। অন্যদিকে চেকোস্লোভাকিয়া এক অদ্ভুত ট্র্যাজেডির শিকার হলো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের দুটি ফাইনালই (১৯৩৪ ও ১৯৬২) তারা হেরে গেল, দুবারই প্রথম গোল করেও!
২৫ ভাষার জাদুকর
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আয়োজকদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ছিল ভাষা। ইংরেজি, জার্মান আর ফ্রেঞ্চ ছাড়া অন্য ভাষার দোভাষী মেলাই ভার। ঠিক তখনই তথ্য উপকমিটির সামনে হাজির হলো তেমুকো অঞ্চলের এক আদিবাসী তরুণ—সেগুন্দো সানচেজ। পরনে তার অত্যন্ত সাধারণ পোশাক। এসে বিনীতভাবে বলল, সে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে কাজ চায়। সন্দিহান কর্মকর্তাদের সানচেজ জানাল, ‘স্যার, আমি মাত্র আঠারোটি ভাষা বলতে পারি।’ পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কর্মকর্তারা প্রথমে ইংরেজিতে কথা বললেন। সানচেজ এমন শুদ্ধভাবে শেক্সপিয়ারের ভাষায় জবাব দিল, যেন সে খাস ব্রিটেনের বাসিন্দা! ফ্রেঞ্চ ধরতেই প্যারিসের চটজলদি ভাষা, এরপর একে একে জার্মান, ইতালিয়ান, ল্যাটিন, গ্রিক, হিব্রু—সানচেজের বিদ্যার দৌড় দেখে পরীক্ষকদের চোখ চড়কগাছ।
শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন দূতাবাসের সাহায্য নিয়ে জানা গেল, সানচেজ আসলে মালয় ও ইন্দোনেশিয়ান উপভাষাসহ মোট ২৫টি ভাষা অনায়াসে বলতে পারে! সব শিখেছে নিজের চেষ্টায়, ডিকশনারি আর বই পড়ে। আয়োজকেরা লুফে নিলেন তাকে। আকাশছোঁয়া বেতনে তাকে দেওয়া হলো ৫০ জন গাইড এবং ২৪ জন অনুবাদকের এক বিশাল দলের দায়িত্ব। বিশ্বকাপের পর সানচেজের ঠাঁই হয়েছিল চিলির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।
অতি চালাকের...
আর্জেন্টাইন কর্মকর্তাদের একটু বেশি চালাকি করতে গিয়ে পস্তাতে হয়েছিল। সান্তিয়াগো রওনা হওয়ার আগে তাঁরা বুয়েনস এইরেস বিমানবন্দরে ১ হাজার ৩৪০ ক্যান আঙুর আর কমলার জুস, সঙ্গে স্তূপাকার পোশাক ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র নিয়ে হাজির। ভেবেছিলেন চিলির চেয়ে নিজ দেশে এগুলো সস্তা। কিন্তু কাস্টমসে গিয়েই হলো মস্ত বড় ধাক্কা। শুল্ক বাবদ তাঁদের গুনতে হলো ৮ হাজার পেসো। সস্তায় কিস্তিমাত করতে গিয়ে লাভ তো হলোই না, উল্টো জুসের দাম পড়ে গেল আকাশচুম্বী!
সি সি সি পি: ‘কলম্বিয়ার কাছে প্রায় হেরেই গিয়েছিলাম!’
বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার অভিষেকটা একেবারেই ভালো হয়নি। উরুগুয়ের কাছে ২-১ আর যুগোস্লাভিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হার। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে তারা যা করল, তা ফুটবল রূপকথা। প্রথমার্ধের ১১ মিনিটে সোভিয়েতরা ৩-০ গোলে এগিয়ে, দ্বিতীয়ার্ধের ১১ মিনিটে স্কোর ৪-১! সেখান থেকেও অবিশ্বাস্য লড়াই করে ম্যাচ শেষের চার মিনিট আগে ৪-৪ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে কলম্বিয়া। ম্যাচের পর লাতিন আমেরিকার পত্রিকাগুলো রসিকতা করে লিখেছিল, সোভিয়েতদের লাল জার্সিতে লেখা ‘CCCP’ (সিরিলিক হরফে সোভিয়েত ইউনিয়নের সংক্ষিপ্ত রূপ)-এর আসল মানে হলো—‘Con Colombia Casi Perdimos’ (কলম্বিয়ার কাছে প্রায় হেরেই গিয়েছিলাম!)।
পেটুক ডিফেন্ডার
চিলির বিমান ধরার কয়েক ঘণ্টা আগে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার রুবেন মারিনো নাভারোকে লিভারের জরুরি পরীক্ষা করাতে হয়েছিল। মাঠে তাঁর মারদাঙ্গা শরীরী ভাষার জন্য তাঁকে ডাকা হতো ‘ভয়ংকর কুঠার’ নামে। কিন্তু চিলি যাওয়ার ঠিক আগে আস্ত একটা শূকরছানা একাই সাবাড় করে দিয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার! ফলে এমন মারাত্মক পেটের গোলমাল বাধল যে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।
‘ব্যাটল অব সান্টিয়াগো’
ফুটবল মাঠ কীভাবে রণক্ষেত্রে রূপ নিতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে আছে ১৯৬২ বিশ্বকাপের চিলি-ইতালি ম্যাচটি। ঘটনার সূত্রপাত ইতালির দুই সাংবাদিক কোরাদো পিজিনেলি ও আন্তোনিও গিসেলির দুটি প্রতিবেদন। তাঁরা চিলিকে অত্যন্ত অবমাননাকর ভাষায় ‘অপুষ্টি, পতিতাবৃত্তি, নিরক্ষরতা, মদ্যপ এবং দারিদ্র্যপীড়িত অনুন্নত দেশ’ বলে বর্ণনা করেন। চিলির পত্রিকায় এই খবর আসতেই দেশজুড়ে আগুন জ্বলে ওঠে।
২ জুনের সেই ম্যাচে মাঠে যখন দুই দল নামল, সান্তিয়াগোর স্টেডিয়াম তখন বারুদঘর। ইতালির ফুটবলাররা দর্শকদের শান্ত করতে সাদা লিলি ফুল ছুড়েছিলেন, কিন্তু গ্যালারি থেকে ধেয়ে এল তীব্র দুয়ো, ফেরত এল সেই ফুল। এরপর মাঠে যা হলো, তাকে ফুটবল না বলে ‘যুদ্ধ’ বলাই ভালো। লাথি, ঘুষি, কনুইয়ের আঘাতে জর্জরিত ম্যাচে চিলি জিতল ২-০ গোলে। ইংরেজ রেফারি কেন অ্যাস্টন ইতালির জর্জো ফেরিনিকে লাল কার্ড দেখালে তিনি মাঠ ছাড়তে অস্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত চিলির পুলিশ মাঠে ঢুকে ফেরিনিকে জোর করে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে যায়। চিলির ফরোয়ার্ড লিওনেল সানচেজ ছিলেন এক সাবেক বক্সিং চ্যাম্পিয়নের ছেলে—ইতালির মারিও দাভিদকে সজোরে এক ঘুষি মারেন, কিন্তু রেফারি চোখ বুজে থাকেন। সেকেন্ড কয়েক পর দাভিদ যখন সানচেজকে পাল্টা ‘ফ্লাইং কিক’ মারেন, রেফারি ঠিকই তাঁকে লাল কার্ড দেখান। চিলির এই জয়ের পর স্থানীয় পত্রিকাগুলো হেডলাইন করেছিল—‘রেড ওয়াইন ২: ভদকা ১’ এবং ‘অনুন্নত ২: ইউরোপীয় ১’।
লেভ ইয়াশিন ভক্ত
আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে চিলি মুখোমুখি হয়েছিল হট ফেভারিট সোভিয়েত ইউনিয়নের। ২৯ মিনিটে চিলির মিডফিল্ডার এলাদিও রোহাস ৩৫ গজ দূর থেকে এক বুলেট গতির শট নিলেন। সোভিয়েতদের ‘অজেয়’ গোলরক্ষক লেভ ইয়াশিনকে ফাঁকি দিয়ে বল জড়াল জালে। রোহাস উল্লাসে নিজের দলের দিকে না দৌড়ে, সটান ৩৫ গজ দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন খোদ লেভ ইয়াশিনকে! ম্যাচের পর রোহাসকে এই অদ্ভুত উদ্যাপনের কারণ জিজ্ঞেস করা হলে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘নিজের আইডল, সর্বকালের সেরা গোলকিপারকে গোল দিয়েছি, নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি!’
হারিয়ে যাওয়া বাঁশি
সোভিয়েত রেফারি নিকোলাই লাতিশেভ ছিলেন সেবারের ব্যস্ততম রেফারি। গ্রুপ পর্ব, কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করে ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বও ছিল তাঁর কাঁধে। কিন্তু সান্তিয়াগো বিমানবন্দরে নেমেই তাঁর মাথায় হাত। জামাকাপড়ের সঙ্গে তাঁর সাধের বাঁশিটিও হারিয়ে গেছে। বিমানবন্দর থেকে নেমেই তাই এই রেফারিকে দৌড়াতে হয়েছিল সান্তিয়াগোর এক বাজারে—খেলা চালানোর জন্য একটা নতুন বাঁশি কিনতে!
গারিঞ্চার ক্ষমা ও কূটনীতি
সেমিফাইনালের সেই ম্যাচে চিলির ডিফেন্ডাররা পুরো ম্যাচজুড়ে গারিঞ্চাকে একের পর এক লাথি ও কনুই মারছিল। ম্যাচ শেষের সাত মিনিট আগে মেজাজ হারিয়ে চিলির এলাদিও রোহাসকে আলতো এক লাথি মেরে বসেন মানে গারিঞ্চা। রোহাস মাঠে ব্যথায় গড়াগড়ি খেতে লাগলেন। পেরুর রেফারি আর্তুরো ইয়ামাসাকি প্রথমে দেখতে না পেলেও লাইন্সম্যানের পরামর্শে গারিঞ্চাকে লাল কার্ড দেখান। গারিঞ্চা মাঠের বাইরে পা রাখতেই রোহাস অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে দৌড়াতে শুরু করলেন!
ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে পেলেকে ছাড়া ব্রাজিল এমনিতেই অর্ধেক। তার ওপর যদি গারিঞ্চাও না খেলেন, তবে তো সর্বনাশ! শুরু হলো পর্দার আড়ালের ‘কূটনীতি’। ব্রাজিলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তানক্রেদো নেভেস সরাসরি ফিফা সভাপতি স্ট্যানলি রাউসকে এক ব্যক্তিগত টেলিগ্রাম পাঠিয়ে অনুরোধ করলেন, গারিঞ্চার মতো সুশৃঙ্খল ও ভদ্র ফুটবলারকে যেন ফাইনালে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়। ফিফা শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করল। ফাইনালের তিন দিন আগে ঘোষণা করা হলো, গারিঞ্চাকে কেবল সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, কারণ ‘মাঠে তাঁর অতীত রেকর্ড অত্যন্ত পরিষ্কার’।
‘আজ কি ফাইনাল?’
১৭ জুন, ফাইনাল শুরুর ঠিক কয়েক মিনিট আগে ব্রাজিলের ড্রেসিংরুম। কোচ আইমোরে মোরাইরা ছেলেদের শেষবারের মতো ‘পেপ-টক’ দিচ্ছেন। চেকোস্লোভাকিয়ার শক্তি বা দুর্বলতা নিয়ে তিনি কোনো কথাই বললেন না। শুধু বললেন, ‘ছেলেরা, আজ ফাইনাল। তোমরা সব জানো, মাঠে যাও আর নিজেদের খেলাটা খেলো।’
ঠিক তখনই গারিঞ্চা সরল মুখে জিজ্ঞেস করে বসলেন, ‘আজ কি ফাইনাল নাকি?’
কোচ অবাক হয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ মানে, আজই ফাইনাল।’
গারিঞ্চা তখন চওড়া এক হাসি দিয়ে বললেন, ‘ওহ, এতক্ষণে বুঝলাম স্টেডিয়ামে এত মানুষ কেন!’
১০২.২ ডিগ্রি জ্বর আর তীব্র ফ্লু নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ব্রাজিলের এই ‘ছোট পাখি’। খেললেন অবিশ্বাস্য। আর শুধু ফাইনাল কেন, সেই বিশ্বকাপটাই ছিল গারিঞ্চাময়। গোল করেছিলেন মাত্র চারটা, কিন্তু ১৯৮৬ বিশ্বকাপ যেমন শুধুই ম্যারাডোনার, ’৬২ বিশ্বকাপ তেমন গারিঞ্চার।
চেকোস্লোভাকিয়া উড়ে গেল ৩-১ গোলে, ‘ছোট পাখি’র ডানায় চিলির আকাশে উড়ল ব্রাজিল!