ক্রীড়াঙ্গনের ধ্রুপদি নায়ক: ফুটবল ও হকির চিরসবুজ রণজিৎ দাস

২০০৬ সালে প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা ট্রফি হাতে রণজিৎ দাসশামসুল হক

৬১ বছর আগে এই দিনে চলে যান ফুটবল জাদুকর সামাদ। উপমহাদেশের ফুটবলের পরম এক বিস্ময়। একই তারিখে লোকান্তরিত হলেন ফুটবলের তথা ক্রীড়াঙ্গনের আরেক আলোকবর্তিকা রণজিৎ দাস। যদিও দুজনের অবস্থান বিপরীত মেরুতে। সামাদ ছিলেন আক্রমণভাগের তুখোড় খেলোয়াড় আর রক্ষণভাগের অতন্দ্রপ্রহরী ছিলেন রনজিৎ।

সামাদের বিচরণক্ষেত্র মূলত অবিভক্ত ভারতের কলকাতা হলেও রণজিৎ দেশভাগের পর প্রধানত ঢাকায় নিজেকে বিকশিত করেন। তদুপরি দুই প্রজন্মের এই দুই ফুটবলারের মধ্যে গড়ে উঠেছিল একটা সেতুবন্ধ। সামাদের কাছে ফুটবলের দীক্ষা পেয়েছেন রনজিৎ।

১৯৫৭ সালে পাকিস্তান স্পোর্টস কন্ট্রোল বোর্ডের উদ্যোগে ঢাকায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বাছাইকৃত যে ৩০ জন ফুটবলারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাতে অন্তর্ভুক্ত হন রণজিৎ। সামগ্রিকভাবে এই প্রশিক্ষণ কোর্সের দায়িত্বে ছিলেন স্পোর্টস কন্ট্রোল বোর্ডের প্রধান কোচ সামাদ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের স্বর্ণযুগের ফুটবলার আবদুস সাত্তার, হাফেজ রশীদ, খন্দকার নাসিম, এস এম ইয়াসিন, শাহজাহান ও আলাউদ্দীন।

মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রতিদিন চার ঘণ্টা ফিল্ড ওয়ার্ক এবং এক ঘণ্টা থিওরিটিক্যাল ক্লাস নেওয়া হয়। তাতে ফুটবলাররা দারুণভাবে উপকৃত হন। তারই ধারাবাহিকতায় সে বছর অষ্টম জাতীয় ন্যাশনাল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার ফাইনালে খেলে পূর্ব পাকিস্তানের কোনো দল। দুর্ধর্ষ পাঞ্জাবের কাছে ২-১ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় পূর্ব পাকিস্তান হোয়াইট দল। এই প্রতিযোগিতায় অসাধারণ খেলেন রনজিৎ দাস।

সামাদ, রণজিৎ দাসের মতো ক্রীড়াব্যক্তিত্বরা শুধু খেলার মাঠকে উদ্ভাসিত করেন না, তাঁরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জ্বালিয়ে দেন আলোর মশাল। রণজিতের খেলা দেখার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু তাঁর সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ হয়েছে। কত অজানা ইতিহাস জানতে পেরেছি। তিনি কানে কম শুনতেন। কিন্তু কোনোভাবে একবার তাঁকে উসকে দিতে পারলেই হলো।

দৈনিক পাকিস্তানে ছাপা হওয়া এই ছবি আতিকুল্লাহ হকি প্রতিযোগিতায় যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ন্যাশনাল ব্যাংক দলের। যেখানে আছেন গোলরক্ষক রণজিৎ দাসও
রণজিৎ দাসের অ্যালবাম থেকে

অসম্ভব স্মৃতিধর ছিলেন রণজিৎ দাস। কোনো ক্রীড়াবিদের কাছে তথ্য পেলে আমি সাধারণত যতটা সম্ভব মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। অনেক ক্ষেত্রেই তথ্যে যথেষ্ট গরমিল পাওয়া যায়। কিন্তু রণজিৎ দাসের দেওয়া তথ্য ছিল নিখাদ। বয়স তাঁকে স্মৃতিভ্রষ্ট করতে পারেনি। সেই কোন আমলের কথা, গড় গড় করে অবিকল সেই তথ্য বলে যেতেন।

তাঁকে যাঁরা চিনতেন বা জানতেন, তাঁরা জানেন ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অমায়িক, সজ্জন ও বন্ধুবৎসল। এ কারণে তিনি জয় করে নেন অসংখ্য মানুষের হৃদয়। কিন্তু খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি ছিলেন অসম্ভব একরোখা, জেদি আর অনমনীয় মনোভাবের অধিকারী। যেকোনো চ্যালেঞ্জে জয়ী হওয়ার জন্য নিজেকে নিংড়ে দিতে একটু কার্পণ্য করতেন না।

আরও পড়ুন

১৯৫৪ সালের কথা। হবিগঞ্জে ইউনাইটেড ফ্রেন্ডস ক্লাবের হয়ে রণজিৎ দাস খেলতে যান। ফাইনাল ম্যাচের প্রতিপক্ষ হবিগঞ্জ টাউন ক্লাব। ঢাকা, কুমিল্লা, হবিগঞ্জের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে টাউন ক্লাব গঠন কর হয়। সেই তুলনায় ফ্রেন্ডস ক্লাব দুর্বল। ঘটনাচক্রে তিনি টাউন ক্লাবের ঘোরতর সমর্থকদের বাড়িতে অবস্থান করেন। তাঁকে নিয়ে বেশ ঠাট্টা-তামাশা করা হয়। তাঁর ঘরের সামনে জুতার মালা ঝুলিয়ে লিখে রাখা হয়, ‘পরাজিত গোলকিপারের জন্য’।

এ ঘটনায় তিনি অপমান বোধ করেন। এর যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য ভেতরে–ভেতরে তিনি প্রস্তুতি নেন। বিপুল দর্শকের উপস্থিতিতে খেলায় টাউন ক্লাবের ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের দুর্ধর্ষ ফরোয়ার্ড বলাই দাস একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলেন। রনজিৎ যেভাবে কয়েকবার তাঁর পা থেকে বল ছিনিয়ে নেন, তাতে পুরো মাঠের দর্শক অবাক হয়ে যান। হতোদ্যম হয়ে পড়েন বলাই। শেষ বাঁশি বাজার কিছুক্ষণ আগে এক গোল করে জয়ী হয় ফ্রেন্ডস ক্লাব।

খেলোয়াড়ি জীবনে রণজিৎ দাস
রণজিৎ দাসের অ্যালবাম থেকে

দর্শকেরা তাঁকে ঘাড়ে তুলে নিয়ে আনন্দ করেন। নিজের রুমে ফিরে তিনি দেখতে পান, যেখানে জুতার মালা ছিল, সেখানে ফুলের মালা ঝুলছে। তাতে লেখা ‘বিজয়ী গোলকিপারের জন্য’।

এই ম্যাচে চমকপ্রদ নৈপুণ্যের পর আগরতলার মার্চেন্ট ক্লাবের হয়ে রণজিৎকে একটি ম্যাচ খেলার জন্য নির্বাচিত করা হয়। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের বাসভবনে তাঁর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সে সময় বাড়িতে একজন অতিথি আসেন। তিনি রণজিতের নাম জানার পর জিজ্ঞেস করেন, রণজিৎ সংগীত পরিচালক সুবল দাসের ভাই কি না? সুবল দাস ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের গোলরক্ষক ছিলেন। উত্তর না বলার পর ভদ্রলোক রণজিৎকে বলেন, ‘মাঠ থেকে গোল আনার জন্য তুমি ১২টি থলে নিয়ে যেয়ো। ১১টি তোমাদের ১১ জনের জন্য এবং আরেকটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের জন্য।’

আরও পড়ুন

এ কথা শোনার পর রাগে-ক্ষোভে রণজিতের রক্ত টগবগিয়ে ফুটতে থাকে। খেলায় প্রতিপক্ষ আগরতলার শক্তিশালী দল বীরেন্দ্র ক্লাব। এই ক্লাবের ১০ জনকে বাইরে থেকে আনা হয়। সব ডাকাবুকো খেলোয়াড়। তারপরও প্রতিপক্ষের সব আক্রমণ রনজিতের সামনে এসে থিতিয়ে যায়। তাঁর আক্রমণাত্মক ড্রাইভ দেখে প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডরা ভড়কে যায়। খেলায় ব্যবধান গড়ে দেন তিনি একাই। অমীমাংসিতভাবে খেলা শেষ হওয়ার পর দর্শকেরা তাঁকে নিয়ে আনন্দমিছিল করেন।

প্রকৃত অর্থে এই খেলায় রণজিৎকে যিনি ‘উজ্জীবিত’ করেন, তিনি তাঁকে খুঁজে বের করে বলেন, ‘স্যার, ১২টি থলে আমি কী করব?’ উত্তরে ভদ্রলোক তাঁকে জড়িয়ে ধরেন এবং প্রশংসা করে বলেন, ‘সামনে তোমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।’ এই ভদ্রলোক ছিলেন সংগীত জগতের প্রবাদ পুরুষ শচীন দেববর্মণ। তিনি ছিলেন ফুটবলের গভীর অনুরাগী। কলকাতা ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের পাঁড় সমর্থক ছিলেন।

সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানের সেরা গোলরক্ষক ছিলেন রনজিৎ দাস। কিন্তু পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের প্রশিক্ষক ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার ম্যাকব্রাইট দৈহিক উচ্চতাকে গুরুত্ব দিয়ে রণজিৎকে বাদ দিয়ে মিন্টুকে এশিয়ান গেমস দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। এই ক্ষোভ থেকেই মূলত মিন্টুকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলে বিস্ময়কর নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন তিনি।

আরেকবার ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. নিউম্যানের বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে একটি প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। খেলায় অংশ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব। বিশ্ববিদ্যালয় দলে সেরা সেরা খেলোয়াড়েরা ছিলেন। দলের দীর্ঘদেহী গোলরক্ষক মঞ্জুর হাসান মিন্টু সদ্য টোকিও এশিয়ান গেমস খেলে এসেছেন। পাকিস্তানের জার্সি গায়ে মাঠে ওয়ার্মআপ করেন। তাঁকে ঘিরে দর্শকদের ভিড়।

অধিনায়ক হিসেবে দল গড়তে হিমশিম খেতে হয় রণজিৎকে। হঠাৎ করে ম্যাচটি আয়োজন করায় আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবে নিয়মিত একাদশের ছয়জন খেলোয়াড় ছিলেন না। মিন্টুকে দেখার পর তিনি সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। খেলার শুরুর পর দেখা যায় ভিন্ন এক রণজিৎকে। হয়ে ওঠেন আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক এক ফরোয়ার্ড। মিন্টুকে নাকানিচুবানি খাইয়ে পরপর তিন গোল করে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন।

তাঁকে নিয়ে সহযোগী খেলোয়াড়েরা উল্লাস করতে থাকলে তিনি দেখতে পান ড. নিউম্যানের মুখ থমথম করছে এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দলের সমর্থকেরা মাঠ থেকে চলে যেতে উদ্যত। পরিস্থিতি অনুধাবন করে রনজিৎ দর্শক ও সমর্থকদের কাছে গিয়ে আর গোল না করার প্রতিশ্রুতি দিলে তাঁরা খেলা দেখতে সম্মত হন। এরপর আজাদ রক্ষণাত্মক খেলতে থাকলে ম্যাচটি ৩-২ গোলে সমাপ্ত হয়।

প্রকৃতঅর্থে সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানের সেরা গোলরক্ষক ছিলেন রনজিৎ দাস। কিন্তু পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের প্রশিক্ষক ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার ম্যাকব্রাইট দৈহিক উচ্চতাকে গুরুত্ব দিয়ে রনজিতকে বাদ দিয়ে মিন্টুকে এশিয়ান গেমস দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। এই ক্ষোভ থেকেই মূলত মিন্টুকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলে বিস্ময়কর নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন তিনি।

রনজিৎ দাস যে জীবনদর্শন অনুসরণ করতেন, এখনকার যুগে তেমনটা ভাবা যায় না। তিনি অর্থের জন্য খেলতেন না। নিজের আনন্দ এবং দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য খেলেছেন। এমন নয় যে অর্থের প্রলোভন ছিল না। কিন্তু তিনি তা উপেক্ষা করেছেন। যে ক্লাবটিকে হৃদয়ে ঠাঁই দিয়েছিলেন, সেখানে প্রাপ্তির তেমন কিছু ছিল না। আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবটিই ছিল আমৃত্যু তাঁর ঠিকানা।

রনজিৎ দাসের খেলোয়াড়ি জীবনে এমন ঘটনা অসংখ্য। তা ছাড়া তাঁর ক্যারিয়ারে রয়েছে অনেক মাইলফলক এবং স্যাক্রিফাইস। ১৯৫৮ সালে তাঁর নেতৃত্বে প্রথম ও শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয় আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব। রনজিতের খেলা পছন্দ করতেন ইস্ট পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনের সহসভাপতি ব্রিগেডিয়ার সাবদাদ খান। লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তিনি তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘কী তোফা চান?’ তখন আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের নিজস্ব টেন্ট ছিল না। তাই তিনি নিজের জন্য কিছু না চেয়ে ক্লাবের জন্য স্টেডিয়ামের উত্তর-পশ্চিমে একটি ঘর চান এবং সেই আলোকে তা বরাদ্দ করা হয়। তাঁর কারণে লিগ চ্যাম্পিয়ন দলের একটা ঠিকানা হয়।

একটি চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশায় ১৯৫৯ সালে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দেন। সে বছর সাদা-কালোরা লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়। কিন্তু ব্যক্তিগত উদ্যোগে ন্যাশনাল ব্যাংক পাকিস্তান-এ যোগ দেওয়ার পর প্রিয় ক্লাব আজাদ স্পোর্টিং-এ ফিরে যান। এরপর আর এই ক্লাব হয়ে ওঠে তার ধ্যানজ্ঞান। এমনকি তিনি ক্লাবের স্বার্থে নিজে না খেলে অন্যকে খেলার সুযোগ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

রনজিতের হকি খেলোয়াড় হওয়াটাও তাঁর আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি। ১৯৫৮ সালে আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ক্লাবের কার্যক্রমের পরিসর বেড়ে যায়। সে বছর প্রথম বিভাগ হকি লিগে নাম লেখায় ক্লাবটি। শক্তিশালী ইপিআর টিমের বিপক্ষে খেলায় দলের নিয়মিত দুই গোলকিপার অনুপস্থিত। এ অবস্থায় তিনি গোলপোস্ট আগলানোর প্রস্তাব দিলে কর্মকর্তারা রাজি হয়ে যান। তাঁর কৃতিত্বে খেলা গোলশূন্য অমীমাংসিত থাকে।

এরপর আর তাঁকে পেছনে তাকাতে হয়নি। আজাদ স্পোর্টিং এবং পূর্ব পাকিস্তান দলের অপরিহার্য খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন।

২০০৬ সালে গ্রামীণফোন-প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পেয়েছিলেন রণজিৎ দাস। ২০২২ সালের ২৯ মার্চ সিলেটে নিজ বাড়িতে সেই সম্মাননা স্মারক হাতে
আনিস মাহমুদ

ন্যাশনাল ব্যাংক পাকিস্তান-এ (পরবর্তীকালে সোনালী ব্যাংক) তিনি যোগ দেওয়ার পর ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাংক দলটি শক্তিমান হয়ে ওঠে। এই ব্যাংকের হয়ে খেলোয়াড়দের কর্মসংস্থানের একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়। দেশের অনেক খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদ এই ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।

রনজিৎ দাস সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ঢাকার ক্রীড়াঙ্গনে তিনি বিভিন্নভাবে জড়িয়ে ছিলেন। কর্মস্থল থেকে অবসর নেওয়ার পর সিলেটে থিতু হলে সেখানকার ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে জড়িত হন। ‘ক্রীড়াঙ্গনের ফেলে আসা দিনগুলো’ গ্রন্থে আলোকপাত করেন জীবনের উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনার।

রনজিৎ দাস যে জীবনদর্শন অনুসরণ করতেন, এখনকার যুগে তেমনটা ভাবা যায় না। তিনি অর্থের জন্য খেলতেন না। নিজের আনন্দ এবং দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার জন্য খেলেছেন। এমন নয় যে অর্থের প্রলোভন ছিল না। কিন্তু তিনি তা উপেক্ষা করেছেন। যে ক্লাবটিকে হৃদয়ে ঠাঁই দিয়েছিলেন, সেখানে প্রাপ্তির তেমন কিছু ছিল না। আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবটিই ছিল আমৃত্যু তাঁর ঠিকানা।

ভেবেছিলাম, রনজিৎ দাস সেঞ্চুরি পূর্ণ করে নতুন এক মাইলফলক গড়বেন। কিন্তু অল্পের জন্য তা হলো না। সব ভাবনা তো আর পূর্ণ হয় না। তবে একজন রনজিৎ দাস না থাকলেও তাঁর আদর্শ, তাঁর মূল্যবোধ, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চয়ই কখনো হারিয়ে যাবে না।

লেখক: পাক্ষিক ক্রীড়াজগতের সাবেক সম্পাদক।