শস্য রপ্তানি চালু করতে পরে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ’ চুক্তি হয়। কিন্তু এখন রাশিয়া চুক্তি থেকে বের হয়ে গেল। এতে শস্য রপ্তানিতে ঝুঁকি বেড়েছে। অবশ্য রাশিয়ার হামলার মধ্যেই গতকাল শস্য নিয়ে ১২টি জাহাজ ইউক্রেনের বন্দর ত্যাগ করে।

গত শনিবার কৃষ্ণসাগরের ক্রিমিয়া উপকূলে ড্রোন হামলা হয়। রাশিয়ার নৌবহর লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এতে রুশ নৌবহরের একটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নৌবহরে ড্রোন হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে রাশিয়া। কিন্তু ইউক্রেন এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। দায় স্বীকার না করলেও ইউক্রেনকে এই হামলার পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে রাশিয়া।

গতকাল পুতিন বলেন, জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির আওতায় শস্যবাহী জাহাজগুলো যে সামুদ্রিক করিডর ব্যবহার করছিল, সেই একই করিডর ব্যবহার করেছে ইউক্রেনের ড্রোন।

রাশিয়ার করা এই অভিযোগও অস্বীকার করেছে ইউক্রেন। কিয়েভ বলছে, শস্য চুক্তির আওতায় নির্ধারিত নিরাপত্তা করিডরটি তারা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেনি।

জাতিসংঘ বলেছে, গত শনিবার শস্যবাহী কোনো জাহাজ কৃষ্ণসাগরের ওই করিডর ব্যবহার করেনি। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে পুতিন ইঙ্গিত দেন, এই ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভবিষ্যতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, সামর্থ্য অনুযায়ী সব ব্যবস্থা তাঁরা এখনো নেননি।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন, জলবিদ্যুৎ বাঁধসহ জ্বালানি অবকাঠামোয় রুশ হামলার কারণে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়েছে। খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনেহুভব টেলিগ্রাম পোস্টে বলেছেন, রুশ হামলার পর প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বাসিন্দা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা গতকাল রাশিয়ার ৪৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।