বিজ্ঞাপন

এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে রনদীপ গুলেরিয়া বলেন, মিউকরমাইকোসিসের ‘স্পোর’ মাটি, বাতাস; এমনকি খাবারেও থাকে। তবে মানবদেহে এর আক্রমণের ক্ষমতা কম এবং সাধারণত সংক্রমণ ঘটায় না। কোভিডের আগে এ সংক্রমণের ঘটনা ছিল খুবই কম। এখন কোভিডের কারণে বড় সংখ্যায় সংক্রমণের খবর আসছে।

এসব সংক্রমণের পেছনে ‘স্টেরয়েডের অপব্যবহারের’ বড় ভূমিকা রয়েছে বলে জানান তিনি। কোভিডের ক্ষেত্রে ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণে অনেক মৃত্যু হওয়ায় হাসপাতালগুলোর প্রতি সংক্রমণ প্রতিরোধ প্রটোকল মেনে চলার আহ্বান জানান রনদীপ গুলেরিয়া।

রনদীপ গুলেরিয়া বলেন, ‘এ সংক্রমণের পেছনে একটি বড় কারণ স্টেরয়েডের অপব্যবহার। যেসব রোগী ডায়াবেটিক, কোভিড পজিটিভ এবং স্টেরয়েড নিচ্ছেন, তাঁদের ছত্রাক সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এটা প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের স্টেরয়েডের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।’

এআইআইএমএস পরিচালক জানান, তাঁদের হাসপাতালে এখন এই ছত্রাক সংক্রমিত ২৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন এখনো কোভিড-১৯ পজিটিভ। অনেক রাজ্যে পাঁচ শতাধিক মিউকরমাইকোসিস রোগী থাকার কথা জানিয়েছে।
রনদীপ গুলেরিয়া বলেন, মিউকরমাইকোসিস মুখে আক্রমণ করতে পারে। নাক, চোখ ও মস্তিষ্কে এর সংক্রমণ ঘটতে পারে। এ সংক্রমণে রোগী দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন। এটা ফুসফুসেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের প্রতি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ শনাক্তে প্রাথমিক লক্ষণগুলোর প্রতি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এসব লক্ষণের মধ্যে রয়েছে সাইনাসের ব্যথা, এক নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথার এক পাশে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, দাঁতে ব্যথা ইত্যাদি।

এই রোগে নাকের ওপর কালচে দাগ, ঝাপসা দেখা, একটি জিনিসকে দুটো দেখা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং কফের সঙ্গে রক্ত আসতে পারে।

এ ছত্রাক সংক্রমণের সঙ্গে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক রয়েছে। কোভিড-১৯–এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডেক্সামেথাসনের মতো স্টেরয়েড ডায়াবেটিসও বাড়িয়ে দেয়।

ভারত সরকার দেশটিতে মিউকরমাইকোসিস সংক্রমণ নিয়ে জাতীয়ভাবে তথ্য দেয়নি। তবে বলেছে, এখনো এর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব ঘটেনি। সংবাদমাধ্যমে মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে বেশি মাত্রায় এ ছত্রাক সংক্রমণের খবর আসছে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন