সাক্ষাৎকারের মাঝপথে কেন রেগেমেগে চলে গেলেন ট্রাম্প

সাক্ষাৎকার দিতে উপস্থাপক ও সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মেজাজ হারিয়ে মাঝপথে উঠে যান তিনিছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মুখোমুখি বসা উপস্থাপক ও সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকার। নানা বিষয় নিয়ে ট্রাম্পকে রীতিমতো চেপে ধরেন ক্রিস্টেন। একের পর এক কড়া প্রশ্ন আর পাল্টা প্রশ্ন ছোড়েন প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে। পরিবেশ অনেকটাই ঘোলাটে হয়ে ওঠে।

গতকাল রোববার প্রচারিত ‘সানডে’স মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিতে এসে শেষমেশ নিজের মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ক্যালিফোর্নিয়ার চলমান প্রাইমারি (প্রাথমিক বাছাই) নির্বাচন এবং ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন—দুটিই ‘কারচুপিতে’ ভরা ছিল।

এটাসহ ট্রাম্পের নানা দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্রিস্টেন। রীতিমতো চেপে ধরেন প্রেসিডেন্টকে। চ্যালেঞ্জ জানান, প্রমাণ চান। আর এতেই চটে যান ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারের মাঝপথে রেগেমেগে উঠে চলে যান তিনি।

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাইমারি নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্প যখন অভিযোগ তোলেন, তখন ক্রিস্টেন তাঁর কাছে প্রমাণ চান। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে দেখতে হয়। আর আমি যা শুনি, সেটাও বিবেচনা করি।’

তখন ক্রিস্টেন বলেন, ‘এটা তো কোনো প্রমাণ হতে পারে না।’

ট্রাম্পও তখন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি ‘অসাধু’ বলে মন্তব্য করেন। এরপর অনেকটা হুট করেই উঠে যান। বলেন, ‘দুঃখিত, এখানেই শেষ করি। যথেষ্ট হয়েছে।’

প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধপূর্ণ। চলছে টানাপোড়েন। তিনি প্রায়ই এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতি ‘পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ’ করার অভিযোগ তোলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ফাইল ছবি: রয়টার্স

এনবিসি জানিয়েছে, গত শুক্রবার তাদের সাক্ষাৎকার দিতে বসেছিলেন ট্রাম্প। শুরুর ৫০ মিনিট পর তিনি হুট করেই উঠে চলে যান।

সাক্ষাৎকারের বেশির ভাগজুড়ে ক্রিস্টেন ইরানে চলমান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্পকে একের পর এক প্রশ্ন করেন। ট্রাম্পও জোর দিয়ে বলেন, তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাত কখনোই একটি ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ হবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা সেখানে (ইরান) কয়েক মাসের জন্য ছিলাম। এখন হুমকি অনেকটাই কেটেছে।’

সাক্ষাৎকার ছেড়ে ট্রাম্পের উঠে যাওয়ার মিনিট ছয়েক আগেও তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত ‘অ্যান্টি–ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল নিয়ে আলাপ করছিলেন। প্রস্তাবিত এ তহবিল ১৮০ কোটি ডলারের। যেসব ব্যক্তি দাবি করেন, সরকার তাঁদের অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে বা তদন্তের মুখে ফেলেছে, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিতে এ তহবিল প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও পরে পরিকল্পনাটি বাতিল হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

শুধু ডেমোক্র্যাটরা নন, কিছু রিপাবলিকানও মার্কিন প্রশাসনের এমন উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁদের যুক্তি, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেস ভবনে দাঙ্গার ঘটনায় অভিযুক্ত বা বিচারাধীন ব্যক্তিরাও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ আশঙ্কা পুরো পরিকল্পনাটিকেই বিতর্কিত করে তোলে।

এরপর ট্রাম্প ও ক্রিস্টেন ওই দাঙ্গা নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। এ সময় ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ‘কারচুপি’ হয়েছিল। ক্রিস্টেন তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেন।

ট্রাম্প তখন ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাইমারি নির্বাচনের প্রসঙ্গ সামনে আনেন। সেখানকার গভর্নর নির্বাচনের সম্ভাব্য দুই প্রধান প্রার্থীকে বেছে নিতে দলীয় প্রাথমিক বাছাই চলছে। আসছে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় অঙ্গরাজ্যটিতে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, ‘চার দিন পরও ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। প্রাথমিক বাছাইয়ে কারচুপি করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

ক্রিস্টেন পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনার দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কি?’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে যেসব কাজ করতে হয়, তা হলো—দেখা এবং শোনা।’

ক্রিস্টেন বলেন, ‘এটা কোনো প্রমাণ হতে পারে না।’

তখন ক্রিস্টেনের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা অসৎ। যেমন আপনিও।’

ক্রিস্টেন পাল্টা জবাব দেন, ‘সত্যি বলতে, আমি মোটেও অসৎ নই। চলুন, আমরা কথোপকথনটা এগিয়ে নিই।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ততক্ষণে মেজাজ হারিয়েছেন। ক্রিস্টেনকে বলেন, ‘আপনি হয় অসৎ, নয়তো নির্বোধ।’

কিছুক্ষণ কথা–কাটাকাটির পর ট্রাম্প বলেন, ‘চলুন, এখানেই শেষ করি। যথেষ্ট হয়েছে। ধন্যবাদ প্রিয়, আপনার সময় ভালো কাটুক।’

এরপরও ক্রিস্টেন সাক্ষাৎকারটি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, ‘আপনাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছি।’

আরও পড়ুন

ক্রিস্টেনের উদ্দেশে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘একটি অসৎ সংবাদমাধ্যম নিয়ে কোনো দেশ মহান হতে পারে না।’

এনবিসির সাক্ষাৎকারে ঘটে যাওয়া এ ঘটনা নিয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন