অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি: ছাত্রলীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

গুলিস্তানে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে হাতে অস্ত্র উঁচিয়ে সাব্বির হোসেন (গোলাপি জামা গায়ে)। পাশে অস্ত্র হাতে আশিকুর রহমান। প্রথম আলো ফাইল ছবি
গুলিস্তানে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে হাতে অস্ত্র উঁচিয়ে সাব্বির হোসেন (গোলাপি জামা গায়ে)। পাশে অস্ত্র হাতে আশিকুর রহমান। প্রথম আলো ফাইল ছবি

রাজধানীর গুলিস্তানে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদকালে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেন শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকরাম হোসেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত দুই আসামি হলেন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন ও ওয়ারী থানা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান।

আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোক বলেন, এই মামলার অভিযোগপত্র আজ রোববার আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখন মামলাটি বিচারের জন্য বদলি হবে।

২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর গুলিস্তানে ফুটপাত ও সড়ক থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ সময় হকারদের সঙ্গে ডিএসসিসির কর্মচারী ও একদল যুবকের দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে যুবকদের মধ্য থেকে সাব্বির ও আশিকুর আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি করেন

সাব্বির হোসেন, আশিকুর রহমান।

গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাব্বির ও আশিককে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ।

ঘটনার চার দিন পর ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত দুই নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়। ওই দুজনসহ অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলাটি করে পুলিশ।

শাহবাগ থানায় করা মামলায় বলা হয়, ঘটনার দিন দুই থেকে আড়াই শ হকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করেন এবং স্লোগান দেন। পুলিশের সদস্যরা তাঁদের নিবৃত্ত করার চেষ্টায় ছিলেন। তখন সিটি করপোরেশনে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা প্রায় ২০টি ফাঁকা গুলি ছুড়ে হকারদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। এ সময় দুই ছাত্রলীগ নেতা হত্যার উদ্দেশ্যে মিছিলকারীদের গুলি করলে মিছিলকারী হকাররা আত্মরক্ষার্থে মাটিতে শুয়ে পড়েন। ওই ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গী আরও ৫০-৬০ জন হকারকে মারপিট ও ধাওয়া করলে তাঁরা সিটি করপোরেশনের কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান। সাব্বির, আশিকুরসহ ওই ৫০-৬০ জন লাঠিসোঁটাসহ মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মিছিলকারীদের ওপর আক্রমণ, মারধর ও হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে অপরাধ করেছেন।