আরমানিটোলা মাঠের সংস্কারকাজ বন্ধ

সংস্কারের পরে আরমানিটোলা মাঠে খেলাধুলা করছে মহল্লার শিশু–কিশোরেরা। সংস্কারের আগে মাঠে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপ সরানোর দৃশ্য (ইন​েসটে) l প্রথম আলো
সংস্কারের পরে আরমানিটোলা মাঠে খেলাধুলা করছে মহল্লার শিশু–কিশোরেরা। সংস্কারের আগে মাঠে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপ সরানোর  দৃশ্য (ইন​েসটে) l প্রথম আলো

দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মালিকানাধীন আরমানিটোলা খেলার মাঠ সংস্কার করা হয়েছে এবং মাঠের চারপাশে গাছ লাগিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু সংস্কার পুরো শেষ না হতেই কাজ বন্ধ রাখতে নোটিশ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। অথচ তারা নিজেরাও মাঠটির সংস্কার করছে না।
গত বছরের অক্টোবর মাসে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে আরমানিটোলা সমাজকল্যাণ সংসদ ঐতিহ্যবাহী এই মাঠ সংস্কার শুরু করে। তারা মাঠের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে। সংস্কার চলাকালে মাঠের ভেতর একটি কাঁচা ঘরে অস্থায়ীভাবে বসবাসরত কলেজের এক নারী কর্মচারীকে উচ্ছেদ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ এ নিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের মতবিরোধ দেখা দেয়। এর কয়েক দিন পরই নির্মাণকাজ বন্ধ করতে নোটিশ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা প্রথম আলোকে বলেছে, অনুমোদন ছাড়া সরকারি সম্পত্তি সংস্কার করা যাবে না।
আরমানিটোলা সমাজকল্যাণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রথম আলোকে জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরদারির বাইরে থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে মাঠটি অরক্ষিত হয়ে পড়ে ছিল। ফলে পুরো মাঠে ছড়িয়ে ছিল ময়লা-আবর্জনা। দিনের বেলায় চলত প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও রাতে অসামাজিক কার্যকলাপ। মাঠটি ছিল খেলাধুলারও অনুপযোগী। গত ২৬ অক্টোবর এটি সংস্কার করতে তিনি সংসদের পক্ষে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে লিখিত আবেদন জানান। এর আগে ঢাকা-৭ আসনের সাংসদ মো. সেলিমও মাঠটি সংস্কারের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেন। দুবারই মাঠটি সংস্কারে মৌখিক অনুমতি দিয়েছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। এরপর মাঠ থেকে প্রায় ৫০ ট্রাক আবর্জনা অপসারণ করা হয়৷ মাঠটি উঁচু করতে ১ হাজার ৪৫০ ট্রাক মাটি ফেলা হয়৷ এ ছাড়া চারপাশে ১ হাজার ১০০ ফুট সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, হাঁটার জন্য ৮০০ ফুট পথ, ২২০টি মেহগনিগাছ ও ৪৪টি বাতি লাগানো হয়।
গত শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, আরমানিটোলা খেলার মাঠের চারপাশের সীমানাপ্রাচীর ও পায়ে চলার পথ নির্মাণ করা হয়েছে৷ পশ্চিম পাশে পায়ে চলার পথ নির্মাণ কিছুটা বাকি আছে। মাঠের চারপাশে প্রায় ২০০টি মেহগনিগাছের চারা লাগানো হয়েছে। মাঠে খেলাধুলা করছে মহল্লার শিশু-কিশোরেরা। উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে নতুন করে দুটি লোহার ফটক লাগানো হয়েছে৷ পশ্চিম পাশের ফটকে একটি নোটিশ টাঙিয়ে রেখেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাতে লেখা ‘মাঠে কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা হইতে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হলো’।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ সূত্র জানায়, কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে গত বছরের ৯ জুলাই থেকে মাঠের দক্ষিণ পাশে বসবাস শুরু করেন ওই নারী কর্মচারী৷ কিন্তু মাঠ সংস্কার চলাকালে তাঁর কাঁচা ঘরটি উচ্ছেদ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ এর প্রতিবাদে গত বছরের ১৮ নভেম্বর মাঠের সংস্কারকাজ বন্ধ করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দেয়।
আরমানিটোলা সমাজকল্যাণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়ে স্থানীয় সাংসদের সহযোগিতায় মাঠ সংস্কারকাজ শুরু করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। আরও প্রায় ২৫০ ফুট হাঁটার পথ নির্মাণ বাকি আছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ নিষেধ করায় তা সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। গোলপোস্ট বসাতে না পারায় মহল্লার ছেলেরা ফুটবল খেলতে পারছে না৷ গাছের যত্নও নেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘মাঠের কর্তৃত্ব নেওয়ার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। আমরা চাই, মাঠটি সবার জন্য উন্মুক্ত হোক এবং এখানে একটি সুন্দর পরিবেশ থাকুক।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ বিল্লাল আলম প্রথম আলোকে বলেন, মাঠটি সংস্কারে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন স্থানীয় সাংসদ ও আরমানিটোলা সমাজকল্যাণ সংসদ। সাবেক অধ্যক্ষ মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলেন কি না, তা তিনি জানেন না। পরে আবেদনটি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় অনুমতি দেয়নি। তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের কর্তৃত্ব কোনোভাবেই সরকার ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের নেওয়ার সুযোগ নেই। মন্ত্রণালয় অর্থ বরাদ্দ দিলে মাঠ সংস্কার করা হবে।