অধ্যাপক আফতাব হত্যা

এক যুগ পর বিএনপির সাবেক সাংসদ মফিকুল হাসান তৃপ্তি গ্রেপ্তার

অধ্যাপক আফতাব আহমাদ
অধ্যাপক আফতাব আহমাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আফতাব আহমাদ হত্যা মামলায় বিএনপির সাবেক সাংসদ মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ বুধবার রাজধানী থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সিআইডি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার এনামুল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, মফিকুল হাসানকে রাজধানীর বনানী ন্যামভবনে তাঁর বাসা থেকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আফতাব হত্যা মামলায় ২০০৮ সালে গ্রেপ্তার হওয়া চারজন সন্দিগ্ধ আসামির একজন জবানবন্দিতে মফিদুল হাসানের নাম উল্লেখ করেন। এরপর তিনি দীর্ঘদিন পালিয়ে ছিলেন। এখন তাঁকে ধরা হলো।

২০০৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে আটটার দিকে ফুলার রোডে বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ার্টারের চতুর্থ তলায় নিজ বাসায় অধ্যাপক আফতাবকে গুলি করা হয়। সেদিন কলবেলের শব্দে গৃহকর্মী দরজা খুলে দিলে জিনস প্যান্ট ও মাথায় ক্যাপ পরা একজন দ্রুত ভেতরে ঢুকে তাঁকে তিনটি গুলি করে পালিয়ে যান। তাঁর এক সহযোগী ছিলেন সিঁড়ির নিচে। তিন দিন পর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অধ্যাপক আফতাব মারা যান। তাঁর স্ত্রী শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।

এই হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন পর ভারত থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো ফ্যাক্স বার্তায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয়ের নামে হত্যার দায় স্বীকার করা হয়। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিতও হয়। তবে এভাবে দায় স্বীকারের ঘটনায় মানুষের মনে সন্দেহ বাড়ে।

সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের পরও জিজ্ঞাসাবাদ করেও রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। অবশ্য ভারত থেকে ফেরত আনা শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন ২০০৮ সালে এ হত্যার ঘটনায় নিজেকে না জড়িয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ইমন বলেছেন, তিনি ভারতে অবস্থানকালে তানভীরুলের সহযোগী কাঁকন ও ল্যাংড়া তাজগীর তাঁকে বলেছিলেন, তানভীরুল ও তাঁর লোক আবলান, রফিক, এতিম বেলাল, খোকন ও মাহবুব অধ্যাপক আফতাব হত্যায় যুক্ত। আবলান, রফিক ও এতিম বেলাল বাসায় গিয়ে আফতাবকে গুলি করেন। হত্যাকাণ্ডের জন্য তাঁরা হাওয়া ভবন থেকে মফিকুল হাসান তৃপ্তির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা পেয়েছিলেন। আরেক সন্ত্রাসী সোয়েব সাইফ ডিকন ও তানভীরুলের একজন ক্যাশিয়ার এই লেনদেন সম্পন্ন করেন।

তদন্ত নিয়ে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইমনের জবানবন্দিতে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে তানভীরুল এখনো ভারতে পলাতক। খোকন ২০০৬ সালে রমনায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন, আবলান ২০০৮ সালের নভেম্বরে মোহাম্মদপুরে খুন হন। রফিক, এতিম বেলাল ও মাহাবুবের পুরো ঠিকানা পাওয়া যায়নি। ২০০৮ সালের আগেই সোয়েব সাইফ এবং আরও দুই সন্দেহভাজন হুমায়ুন কবীর মুন্না ও সালেহ আহম্মদ সুজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাঁরা এ বিষয়ে তেমন কিছু বলেননি। তাঁরা বর্তমানে জামিনে আছেন।

আরও পড়ুন:
শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুলের প্রতীক্ষায় তদন্ত কর্মকর্তারা!