চুয়াডাঙ্গায় কয়লার অভাবে পরিবেশবান্ধব জিগজ্যাগ ইটভাটার মালিকেরা বিপাকে পড়েছেন। জেলায় জিগজ্যাগ প্রযুক্তির ৩৪টি ভাটার মধ্যে কয়েকটিতে গত বছরের মজুতকৃত কয়লা অথবা কাঠ ও ধানের গুঁড়া দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে।
ইটভাটার মালিকেরা জানান, চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশের ইটভাটাগুলো আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভরশীল। প্রায় নয় মাস ভারত থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ। এ অবস্থায় বিগত বছরের মজুতকৃত কয়লা দ্বিগুণ দরে বিক্রি করছেন সিলেট, দিনাজপুর ও ভৈরবের ব্যবসায়ীরা। গত বছর আমদানি করা কয়লা প্রতি টন ৮ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত এক বছরে দেশি কয়লার দরও প্রতি টন নয় হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে। প্রতি টন কয়লা পরিবহনে ট্রাক ভাড়া ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা হলেও বর্তমানে প্রতি টন কয়লার ভাড়া ২ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া গুনেও অবরোধের কারণে ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা ইটভাটা মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৮৪টি ইটভাটা আছে। যার মধ্যে ৪৭টি স্থায়ী চিমনি, তিনটি ড্রাম চিমনি ও ৩৪টি জিগজ্যাগ পদ্ধতির। স্থায়ী ও ড্রাম চিমনির ভাটাগুলোতে অবাধে কাঠ পুড়িয়ে উৎপাদন চলছে। অথচ সরকারের আহ্বানে পরিবেশবান্ধব জিগজ্যাগ ইটভাটা তৈরি করে এর মালিকেরা বিপাকে পড়েছেন।
সদর উপজেলার ভুলটিয়ায় সততা ব্রিকসের ব্যবস্থাপক আশকার আলী বলেন, ২২ বছর ধরে ভাটায় ইট উৎপাদন চলছে। আগে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহৃত হতো। ১১ বছর ধরে কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। এ ভাটায় ইট উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে ৪০০ নিয়মিত শ্রমিকসহ ৫০০ লোক জড়িত। সে হিসাবে ৫০০ পরিবার এ ভাটার ওপর নির্ভরশীল। তাঁদের কথা বিবেচনা করে কয়লার অভাবে কাঠ ও ধানের গুঁড়া দিয়ে কোনোরকমে ভাটা চালু রাখা হয়েছে।
জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব জানান, সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ও পরিবেশের কথা চিন্তা করে স্থায়ী চিমনির অনেক ভাটাকে জিগজ্যাগে রূপান্তর করতে ভাটা প্রতি প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এখন কয়লার অভাবে জিগজ্যাগ ভাটার মালিকেরা উভয় সংকটে পড়েছেন। তাঁরা না পারছেন কয়লা দিয়ে, না পারছেন কাঠ দিয়ে ইট পোড়াতে।
মোতালেব বলেন, বর্তমানে প্রতি গাড়ি (দুই হাজার) ইট পোড়াতে খরচ হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা। বিক্রি হচ্ছে ১২ হাজার টাকা। ভাটার সক্ষমতা অনুযায়ী একবার ইট পোড়ানো হলে মালিকদের প্রায় ১৫ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। অবিলম্বে কয়লার বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার উদ্যোগ না নিলে এ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।