
কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী উত্তর মুহুরিপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ৬০ একর কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগ বিচারিক অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. মুজিবর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ৬০ একর কৃষিভূমি দখল ও অবস্থানের ওপর দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘কক্সবাজারে অবৈধভাবে ভরাট হচ্ছে ৬০ একর ফসলি জমি: জমির মালিকেরা অসহায়, প্রশাসন নীরব’ শিরোনামে গত ১৪ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। প্রতিবেদনটি যুক্ত করে ওই ৬০ একর কৃষিজমি ভরাট রোধে নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গত ৩১ মার্চ রিটটি করে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন ও মো. শাহীনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন প্রথম আলোকে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে ইতিমধ্যে ৫০ একর কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ভরাট করা হয়েছে। হাইকোর্ট ৬০ একর কৃষিভূমির অবস্থান ও দখলের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে ওইখানে মাটি ভরাটসহ কোনো ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
৬০ একর কৃষিজমি দখল থেকে ভূমিদস্যুদের বিরত রাখতে এবং ভূমিদস্যুদের কাছ থেকে ওই কৃষিজমি উদ্ধার করতে এবং জমির আইনগত মালিকদের কাছে তা ফিরিয়ে দিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। ৬০ একর কৃষিজমি উদ্ধার করে জমির আইনগত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা–ও জানতে চাওয়া হয়েছে। ভূমিসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ ১২ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজার সদরের বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী উত্তর মুহুরিপাড়ার তিন ফসলি প্রায় ৬০ একর উর্বর জমি ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। দুই কিলোমিটার দূরত্বে গড়ে ওঠা রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক চিন্তায় আবাসন প্রকল্প গড়তেই আইন উপেক্ষা করে রাত-দিনে এসব জমি ভরাট করছে ভূমিদস্যু চক্র।
শতাধিক কৃষক পরিবারের ‘অন্ধের যষ্টি’ তিন ফসলি জমি ভরাট থেকে রক্ষায় জেলা প্রশাসক, কৃষি বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন দিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের।
এসব জমিতে আমন ও বোরোর মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার মণ ধান উৎপাদিত হতো। এসব ধানের বিক্রিমূল্য দাঁড়াত প্রায় ১ কোটি টাকা। পাশাপাশি আমন মৌসুমে ধানের পাশাপাশি শাকসবজি চাষ হতো।