কোয়ারেন্টিনের দিনগুলো যেমন কাটছে

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবথেকে আলোচিত বিষয়ের নাম হলো করোনা বা কোভিড-১৯। ইউরোপের দেশগুলোতে করোনায় এখন প্রতিদিন হাজারো মানুষ মারা যাচ্ছে। তাদের উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থার আসলে এখানে কিছু করার নেই। পুরো বিশ্বেই এখন পিপিই এবং ভেন্টিলেটরের সংকট। ভেন্টিলেটরের সংকটের কারণে অনেক সাধারণ শ্বাসতন্ত্রের রোগীকেও প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আবার পিপিই ছাড়াই কিংবা সাধারণ পলিথিন দিয়ে চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবা দেওয়াটা প্রথম দিকে বেশ বীরত্বের শোনালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা হীতে বিপরীত হয়েছে। একজন চিকিৎসক কিংবা নার্সকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগীর সংস্পর্শে আসতে হয়। ফলে তাদের করোনায় আক্রান্ত এবং তাদের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ানোর সম্ভাবনা সর্বাধিক। তবু এই ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ সবেমাত্র করোনার ভয়াবহতা দেখতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ কী দ্রুত এবং বিপজ্জনক হতে পারে, তা বলা বাহুল্য। যদিও বাংলাদেশ এখনো করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। তবে আরও বেশিসংখ্যক টেস্ট করা সম্ভব হলে এই আক্রান্তের সংখ্যা হাজার হাজার না লাখে গিয়ে ঠেকবে সেই আলোচনা আপাতত তোলা থাক।

আমাদের বরং ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে এই সময়ে কী কী করণীয় আছে, সেদিকে নজর দেওয়া যাক। যেহেতু বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা সম্পন্ন দেশগুলো এই ভাইরাস মোকাবিলায় প্রায় পরাজিত সেখানে চিকিৎসাসেবার জন্য অপেক্ষা না করে আমাদের উচিত হবে নিজেরাই কি করে সুস্থ থাকতে পারি, সেদিকে অধিক নজর দেওয়া। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও গবেষকেরা আদা ও লবঙ্গ একসঙ্গে পিষে গরম পানিতে সেদ্ধ করে চা বানিয়ে পান করতে বলেছেন। শুধু গরম পানি হলেও চলবে। তা ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার কথা স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো প্রথম থেকে বলে আসছেন তারা। বারবার হাত ধোয়া, মুখে ও নাকে হাত না দেওয়া ও প্রতিদিন গোসল করা—এ সহজ ব্যাপারগুলো মেনে চলা খুবই জরুরি। সবশেষে, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়াটাই এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবথেকে বড় চিকিৎসা। শুধু যাঁরা জরুরি পরিসেবায় নিয়োজিত আছেন, তাঁরাই যেন বের হন—এ বিষয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

এখন যাঁরা সত্যিকার অর্থেই নিজের পরিবার এবং দেশের ভালোর জন্য দিনের পর দিন নিজেদের ঘরবন্দী করে রাখছেন, তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়াটাও ভীষণ জরুরি। যেহেতু সারা দিন বাসায় থাকতে হচ্ছে, তাই যার যেই বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে, সেই বিষয়ে নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলার এটাই মোক্ষম সময়। তবু সারা দিন নিশ্চয়ই একটি নির্দিষ্ট স্কিল ডেভেলপ করতে ভালো লাগার কথা না। তাই এখন সোশ্যাল মিডিয়াগুলোয় সময় কাটানোর জন্য নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ খুব জনপ্রিয় হচ্ছে। একঘেয়েমি দূর করার জন্য চ্যালেঞ্জগুলো সাময়িক বিনোদনের খোরাক হচ্ছে, তা মানতেই হবে। তবে চ্যালেঞ্জগুলোয় কিছু ভিন্নতা আনা যেতে পারে কিংবা নতুন মাত্রা যোগ করা যেতে পারে। আমরা এমন কিছু চ্যালেঞ্জ নিতে পারি, যেগুলো সাময়িক বিনোদন তো দেবেই, আবার করোনা–পরবর্তী সময়েও সেগুলো আমাদের কাজে আসবে। যেমন বই পড়ার চ্যালেঞ্জ, কোনো সিনেমা দেখার চ্যালেঞ্জ কিংবা একেবারে নতুন কোনো কিছু শেখার চ্যালেঞ্জ।

কোয়ারেন্টিনের এই দিনগুলোতে পরিবারের সবার উচিত আরও বেশি সহনশীল হওয়া। স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু নিয়ে বিরক্তির কারণে কোনো সদস্যের এই সময়ে মেজাজ খিটখিটে হতেই পারে। সে ক্ষেত্রে পরিবারের সবাই যেন তাকে বেশি সময় দিয়ে সাহায্য করেন। একবিংশ শতাব্দীর এই ব্যস্ত পৃথিবীতে আমরা আবার পরিবারের খুব কাছাকাছি আসার যে সুযোগ পেয়েছি, তা যেন নষ্ট না করি।

অতঃপর সবাই মিলে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি যেন খুব দ্রুত আমরা আবার আমাদের সুস্থ পৃথিবী ফিরে পাই। সে পর্যন্ত সবাই মিলে ঘরে থাকি, পরিচ্ছন্ন থাকি এবং সুস্থ থাকি।

*লেখক: শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়