খানাখন্দে ভরপুর, দুর্ভোগ

>

রাস্তা বেহাল। শেরপুর-চন্দ্রকোনা সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। গত শনিবার সড়কের চররাম জগন্নাথে। ছবি: প্রথম আলো
রাস্তা বেহাল। শেরপুর-চন্দ্রকোনা সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। গত শনিবার সড়কের চররাম জগন্নাথে।  ছবি: প্রথম আলো

শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের কানাসাখোলা মোড় থেকে শুরু হয়ে নকলার চন্দ্রকোনায় গিয়ে সড়কটি শেষ হয়।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও মেরামতের অভাবে শেরপুর-চন্দ্রকোনা সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গত বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণে সড়কের বিভিন্ন স্থানের পিচ উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এখন এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।

এই সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন।

এলজিইডি ও এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-চন্দ্রকোনা সড়কটির দৈর্ঘ্য ১৫ কিলোমিটার ও প্রস্থ ৩ দশমিক ৭ মিটার। সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের কানাসাখোলা মোড় থেকে শুরু হয়ে নকলার চন্দ্রকোনায় গিয়ে সড়কটি শেষ হয়। যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক দিয়ে স্বল্প দূরত্বে নকলায় যাওয়া যায়। এ সড়কে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচল করে। সড়কের দুই পাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান মডেল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, ভীমগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজার, করাতকল, পোলট্রি ও ডেইরি খামার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সড়কটির উন্নয়ন বা সংস্কারকাজ না হওয়ায় এলাকাবাসী ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এবং ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির অধিকাংশ স্থানে পিচ উঠে গিয়ে ইট-সুরকি বের হয়ে গেছে এবং ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে সড়কটি দেবে গেছে ও পানি জমে আছে। এটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙাচোরা এ সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

এ সময় আতিউর রহমান মডেল আলিম মাদ্রাসার প্রথম বর্ষের ছাত্রী ইভা বেগম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে সৃষ্ট গর্ত পানিতে ডুবে যায়। তখন ভাঙাচোরা এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে দুর্ভোগে পড়তে হয়। এমনকি অনেক সময় কাপড় ভিজিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।

সদর উপজেলার মধ্যবয়ড়া গ্রামের অটোরিকশার চালক মুরাদ হোসেন বলেন, এই সড়কে গাড়ি চালাতে খুব কষ্ট ও ভোগান্তি হয়। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায় ও তা পাল্টাতে হয়। ফলে তিনি আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

ভাতশালা গ্রামের মো. দুলাল মিয়া বলেন, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে মাঝেমধ্যেই অটোরিকশা ও মালবাহী যান উল্টে পড়ে এবং লোকজন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত হন। এই সড়কে চলতে গিয়ে অনেক বয়স্ক মানুষ কোমরের ব্যথায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

নকলার চন্দ্রকোনা গ্রামের কৃষক মো. বাদল মিয়া বলেন, তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য সদরের হাটবাজারে নিতে হয়। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ভ্যানচালকেরা এ সড়ক দিয়ে যেতে চান না। আবার গেলেও তাঁদের স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়।

অ্যাম্বুলেন্সচালক আমিনুল হক বলেন, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে মুমূর্ষু রোগীর জীবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে এলাকাবাসী সড়কটির দুই পাশে সম্প্রসারণসহ অনতিবিলম্বে তা সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে এলজিইডি, শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, পল্লী সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (আরটিআইপি) আওতায় দুটি প্যাকেজে শেরপুর-চন্দ্রকোনা সড়কটির সম্প্রসারণসহ উন্নয়নকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এসব দরপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। অনুমোদন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হবে।