সংগ্রাম পরিষদের স্মারকলিপি

গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি

প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প ভারতের সহযোগিতায় দ্রুত আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করছে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রাজশাহীতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারকে গতকাল সোমবার দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এসব কথা বলা হয়। সম্প্রতি ভারতীয় পানি বিশেষজ্ঞ দলের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের পর এ স্মারকলিপি দেওয়া হলো।
সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল দুপুরে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপিটি তাঁর হাতে তুলে দেন। তাঁদের স্বাগত জানিয়ে অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতীয় পানি বিশেষজ্ঞরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন, আগামী বছরেই এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই দেশকেই আন্তরিক হয়ে কাজ করতে হবে। তাহলে দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
এ সময় সংগ্রাম পরিষদের নেতা জামাত খান উভয় দেশের সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন। ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইউনুস আলী ও অধ্যাপক শান্ত কুমার মজুমদার, কার্যনির্বাহী সদস্য নিজাম উদ্দিন এবং নাচোল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু তাহের খোকন।
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি মোতাবেক গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশকে দেওয়ার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে এতে বলা হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মানুষের জীবিকার প্রসার ঘটবে। বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী জেলার বড় এলাকার জীবনযাত্রার চিত্র পাল্টে যাবে। এ অঞ্চলের চাষযোগ্য ১৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমির জন্য সেচের সুব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। ফলে ফসল উৎপাদনে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব হবে। গঙ্গানির্ভর নদীগুলোর প্রবাহ ও নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে। লবণাক্ততার মাত্রা কমে যাবে। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস পাবে। সুন্দরবনের বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের প্রসারতা বৃদ্ধি পাবে।
স্মারকলিপিতে গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। স্মারকলিপিটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ২৪ অক্টোবর আট সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধিদলে ছিলেন দেশটির কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী ভূপাল সিং, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ ও পানিপথ বিভাগের সচিব নবীন প্রকাশ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কমিশনার জে চন্দ্র শেখর আয়ার, কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের পরিচালক (হাইড্রোলজি) এন এন রায়, কমিশনের পরিচালক আর আর সামভিরা, কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি ও বিদ্যুৎ-বিষয়ক পরামর্শক সংস্থা ডব্লিউএপিসিওএস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক অনুপম মিশ্র, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) নিনাদ এস দেশপান্ডে ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি (বিএম) মিনি কুমাম। তাঁদের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনকালে বাংলাদেশের ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুল হাই বাকী।