
‘একটি দুর্ঘটনার ফলে একটি গতিরোধক। এভাবে আমাদের রাস্তাগুলোতে গতিরোধকের ঘনত্ব বেড়ে যাচ্ছে,’ বলছিলেন এম সামছুল হক। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক।
সামছুল হক জানান, দুর্ঘটনার পর ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে গতিরোধকের সংখ্যা বেড়ে ৪৩–এ গিয়ে ঠেকেছিল। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হওয়ার আগপর্যন্ত এই গতিরোধকগুলো ছিল। অনেক অপরিকল্পিত গতিরোধক রয়েছে ঢাকা মহানগরীর ভেতরেও। এর অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই সুখকর নয়।
ঢাকার বেড়িবাঁধের আজিম টাওয়ার এলাকায় দুটি গতিরোধকের পাশেই অবস্থিত সাইনেস্ট অ্যাপারেল লিমিটেড। এটির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রাত্রিবেলা আচমকা ব্রেক করতে গিয়ে বড় গাড়িগুলো হঠাৎ স্পিডব্রেকারে (গতিরোধক) ধাক্কা খায়। তখন আমাদের গার্মেন্টস ভবন পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।’
বেড়িবাঁধের এই দুটি গতিরোধকে নেই কোনো সতর্কীকরণ নির্দেশক (সাইন)। নেই আলো প্রতিফলিত হয়—এমন রং বা মার্কিং।
গতিরোধকে নির্দেশকের বালাই নেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধিকাংশ সড়কে, বিশেষ করে গলিতে।
ডিএসসিসিতে গতিরোধকের সংখ্যা প্রায় ১৭৫ বলে জানায় সংস্থার যান্ত্রিক বিভাগ। অন্যদিকে, ডিএনসিসির কাছে গতিরোধকের কোনো হিসাব নেই।
গতিরোধক সাধারণত দুই ধরনের। স্পিড হাম্প ও স্পিড বাম্প। এম শামসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, স্পিড হাম্পের উদ্দেশ্য গতি কমানো। পাশাপাশি এটি জেব্রাক্রসিং হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে গাড়ি ঝাঁকি না খেয়ে স্বল্পগতিতে চলে যাবে। অন্যদিকে, স্পিড বাম্পে গাড়ির গতি প্রায় শূন্য হয়ে যাবে। এটি চওড়া খুবই কম। উচ্চতা তিন ইঞ্চির মতো। এ কারণে গাড়ি ঝাঁকি খায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বে স্পিড বাম্পের খুব একটা ব্যবহার হয় না। ব্যবহৃত হয় স্পিড হাম্প। কিন্তু বাংলাদেশের রাস্তায় স্পিড বাম্প ব্যবহৃত হয়।
গতিরোধক নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কোনো পুস্তিকা নেই। গতিরোধকগুলো একে তো অপরিকল্পিত, দ্বিতীয়ত নেই মার্কিং ও নির্দেশক। নেই নজরদারিও।
ঘন ঘন গতিরোধক
ঢাকার দুই সিটিতে ঘুরে অনেক গতিরোধক দেখা যায়। বেড়িবাঁধ দিয়েই শুরু করা যাক। মোহাম্মদপুর থেকে গাবতলীর পথে দুটি স্থানে চারটি গতিরোধক রয়েছে। ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দুটি। আজিম টাওয়ার এলাকায় দুটি।
পাশে অবস্থিত একটি গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আজিম টাওয়ার এলাকার গতিরোধকগুলো নির্মিত হয় বলে জানান সাইনেস্ট অ্যাপারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গতিরোধকে নিজেদের উদ্যোগে ‘ধীরে চলুন’ লেখা নির্দেশক স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু তা চুরি হয়ে গেছে। মার্কিংও করা হয়েছিল। অল্প কয়েক দিন আগে তা উঠে গেছে।
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, চালকেরা দূর থেকে গতিরোধকগুলো চিহ্নিত করতে না পারায় এই স্থানে দুর্ঘটনা ঘটছে। এই স্থানে গত কয়েক বছরে চার থেকে পাঁচটি পণ্যবাহী পরিবহনের চালক শেষ মুহূর্তে গতিরোধক দেখে নিয়ন্ত্রণ হারান।
ঢাকায় প্রবেশপথগুলোর একটি বছিলা হয়ে মোহাম্মদপুরের রাস্তাটি। এই রাস্তার মধ্যবর্তী দুটি স্থানে গতিরোধক রয়েছে। র্যাব-২ কার্যালয়ের সামনে পরপর তিনটি গতিরোধক আছে। আরেকটি আছে ঠিক বেড়িবাঁধের আগে।
ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কের শংকর থেকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের মাঝে দুই লেনে তিনটি গতিরোধক আছে। এই গতিরোধকগুলোর কোনোটিতেই নির্দেশক চিহ্ন ও মার্কিং দেখা যায়নি।
গুগল মানচিত্রে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান সড়কের দৈর্ঘ্য আধা কিলোমিটার। এখানে গতিরোধক আছে পাঁচটি। পাশের হায়দার বাবার গলিতে গতিরোধক রয়েছে চারটি। সংলগ্ন ডব্লিউ লেনে স্বল্প দূরত্বে গতিরোধক আছে তিনটি। হায়দার বাবার গলি ছাড়া কোনোটির গতিরোধকে নির্দেশক ও মার্কিং নেই।
ডব্লিউ লেনের একটি বাড়ির মালিক খলিলুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গতিরোধকগুলো বছরখানেক আগে করা। ফুটপাতের কাজ যারা করেছে, তারাই এগুলো নির্মাণ করেছে।
একইভাবে আশপাশের প্রতিটি গলিতেই রয়েছে গতিরোধক।
ডিএসসিসির এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন জোন থেকে গতিরোধকগুলো করা হয়। যারা এগুলো নির্মাণ করেছে, তাদের আসলে নিয়মকানুন সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। এ কারণে গতিরোধক আদর্শভাবে তৈরি হয় না।
দেশে গতিরোধকের উচ্চতা ও ঢাল নির্ধারণ করে রাস্তা নির্মাণকারীরা, প্রকৌশলীরা নয়।নির্মাণের পর নজরদারির যে দায়িত্ব, সেটা পালন করা হয় না। এখানে সিটি করপোরেশনও অসহায়।মোয়াজ্জেম হোসেন, বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক
কী আছে নিয়মে
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রণীত রোড সাইন ম্যানুয়াল অনুসারে, গতিরোধক থাকলে চালকদের সতর্ক করতে অবশ্যই সব সময় সাইন (গতিরোধক নির্দেশক) থাকতে হবে। সাইনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ সড়ক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে।
রোড সাইন ম্যানুয়াল অনুসারে, চিহ্নটি রাস্তার বাঁ পাশে থাকতে হবে। গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ৫০ কিলোমিটার হলে গতিরোধক চিহ্নটি ৪৫ মিটার দূরত্বে, ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে ৯০ মিটার দূরত্বে, ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে হলে ১৫০ মিটার দূরত্বে স্থাপন করতে হবে।
গতিরোধকগুলোর উচ্চতাসংক্রান্ত বিষয়ে সিটি করপোরেশনগুলোর নির্দিষ্ট কোনো পুস্তিকা নেই।
মিজানুর রহমান একটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন রাস্তা ও গতিরোধক তৈরি করেন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের বড় রাস্তাগুলো তাঁরা মূলত ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেসের (আইআরসি) আদলে তৈরি করেন।
২০১৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের জন্য একটি সড়ক নিরাপত্তা পুস্তিকা প্রণয়ন করে বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট। গাড়ির সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার গতির জন্য একটি স্পিড বাম্পের প্রস্থ ১ হাজার ৫০০ মিলিমিটার (৪ দশমিক ৯ ফুট), আর উচ্চতা ৬২ মিলিমিটার (২ দশমিক ৪৪ ইঞ্চি) নির্ধারণ করে দেয় তারা।
দেশের মহাসড়কে গতিরোধক একেবারে নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) এ কে এম মনির হোসেন পাঠান প্রথম আলোকে বলেন, মহাসড়কে গতি কমানোর দরকার হলে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশক (সাইন) থাকে। যেমন সামনে স্কুল, সামনে হাসপাতাল ইত্যাদি। তবে দেশে এসব নিয়ম মানা হয় না।
ডিএসসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব খাদেম প্রথম আলোকে বলেন, গতিরোধক কেমন হবে, তা নির্ভর করে গতির ওপর। সর্বোচ্চ গতি ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার হলে ঢাল বেশি তীক্ষ্ণ করা হয়। সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটারের জন্য ঢাল একটু কম হয়। গতিরোধকের ক্ষেত্রে ভারতীয় মান অনুসরণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পুরোপুরি অনুসরণ সম্ভব হয় না।
গতিরোধক যখন বিপত্তির কারণ
জমির মিয়া তিন বছর ধরে ঢাকায় অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবা দেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতিরোধকগুলো অনেক সময় বোঝা যায় না। অনেকবার এমন হয়েছে যে শেষ মুহূর্তে তা দেখেছি। তখন ব্রেক করতে না পেরে সামনের ব্যক্তিগত গাড়ি বা রিকশাতে ধাক্কা লেগে গেছে।’
রাতে কয়েকবার বড় দুর্ঘটনা মতো পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন বলে জানান জমির মিয়া। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বসুন্ধরা এলাকায় এ ধরনের গতিরোধক বেশি।
হাসিবুর রহমান নামের মোহাম্মদপুরের একজন বাসিন্দা জানান, গলির ভেতরে গতিরোধকগুলোর সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির তলা প্রায়ই ধাক্কা খায়।
কেন যেখানে–সেখানে গতিরোধক
ডিএনসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফরহাদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, পোশাক কারখানাসহ যেসব স্থাপনার সামনে দিয়ে বেশি মানুষ চলাচল করে, এমন স্থানে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গতিরোধক দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হয়।
আবার হাউজিং সোসাইটির লোকজন অনেক সময় নিজ থেকেই গতিরোধক করে বলে জানা যায়। মিরপুরে অনেক জায়গায় লোকজন নিজেদের ঘরের সামনে এমন গতিরোধক নির্মাণ করেছে। কেউ আবার রাস্তায় খেলাধুলার জন্য গতিরোধক তৈরি করেছে। বছরখানেক আগে মিরপুর ও উত্তরায় এমন গতিরোধক অপসারণ করা হয়েছে বলে জানান মো. ফরহাদ।
ঢাকা উত্তর সিটির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে সবাই চায়, সবার বাসার সামনে গতিরোধক থাকুক। বাড়িতে বাচ্চা থাকলেই তারা গতিরোধক দিতে বলে।’
বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষক ও কাউন্সিলরদের অনুরোধে গলিতে গতিরোধক দেওয়া হয় বলে জানান ডিএসসিসির ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেল নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব খাদেম। তিনি বলেন, মূলত মোটরসাইকেলের গতি রোধে এগুলো বসানো হয় বেশি।
সঠিক নিয়ম মেনে না করলে, দুর্ঘটনা কমানোর জন্য তৈরি স্পিড বাম্প উল্টো দুর্ঘটনা বাড়ায়অধ্যাপক এম সামছুল হক, বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক
নজর নেই সিটি করপোরেশনের
গতিরোধক নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কোনো পুস্তিকা নেই। গতিরোধকগুলো একে তো অপরিকল্পিত, দ্বিতীয়ত নেই মার্কিং ও নির্দেশক। নেই নজরদারিও।
স্বল্প দূরত্বে ঘন ঘন গতিরোধকের বিষয়ে ডিএনসিসি ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. ফরহাদ বলেন, এগুলো সম্ভবত নতুন হয়েছে। তবে স্থানীয় লোকজন বলছেন, এগুলো বছরের পর বছর ধরে রয়েছে।
গতিরোধকে নির্দেশক ও মার্কিং না দেওয়ার বিষয়ে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আলম বলেন, সাইন দেওয়া হয়; কিন্তু চোর নিয়ে যায়। আর জনবলসংকটের কারণে নজরদারি করা সম্ভব হয় না।
ডিএসসিসির যান্ত্রিক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিছুর রহমান বলেন, গলির কোনো রাস্তা খারাপ থাকলে তখন ওই এলাকায় গতিরোধক করা হয় না।
মোহাম্মদপুরের নূরজাহান ও তাজমহল সড়ক ডিএনসিসির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন পড়েছে। এখানকার কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতিরোধক এখন হয় না। আগেরগুলো কীভাবে হয়েছে, তা জানি না। হয়তো রাস্তার কন্ডাক্টর টেন্ডার যখন করেছে, তখন করে ফেলেছে।’
অবৈধ গতিরোধকগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে না কেন, এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ বলেন, ‘এটা একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। ভাঙতে গেলে খরচের বিষয় আছে। আর কেউ অভিযোগও করে না। আমাদের অন্য অনেক ঝামেলা আছে। অভিযোগ না করলে কিছু করি না।’
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
গতিরোধকের আকার, উচ্চতা, ঢাল দেশে যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না বলে মন্তব্য বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনের। তিনি বলেন, ‘আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, ৮০ ভাগ গতিরোধক নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হয়নি।’
মোয়াজ্জেম হোসেন আরও বলেন, ‘দেশে গতিরোধকের উচ্চতা ও ঢাল নির্ধারণ করে রাস্তা নির্মাণকারীরা, প্রকৌশলীরা না। নির্মাণের পর নজরদারির যে দায়িত্ব, সেটা পালন করা হয় না। এখানে সিটি করপোরেশনও অসহায়।’
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এম সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, যেখানে–সেখানে স্পিড বাম্প দেওয়ার ফলে যানবাহন ঝাঁকি খায়। এতে ভবন পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। ফলে ভবনের স্থায়িত্ব কমে। গাড়িরও স্থায়িত্ব কমে। রিকশায় যারা নিয়মিত চড়ে, স্পিড বাম্পের কারণে ঝাঁকুনিতে তাদের মেরুদণ্ডের সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত দেশে অলিগলিতে স্পিড বাম্প হয় না। হয় পার্কিং এলাকা বা অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে। পাশাপাশি রেট্রো রিফ্লেক্টিভ ক্যাটস আই থাকতে হয়। অর্থাৎ, বিড়ালের চোখের মতো জ্বলজ্বল করবে মার্কগুলো। এগুলো পূর্বশর্ত। কিন্তু দেশে এসব নিয়ম অনুসরণ করা হয় না।
ঢাকার মেট্রোরেল ও হাতিরঝিল প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক এম সামছুল হক বলেন, সঠিক নিয়ম মেনে না করলে, দুর্ঘটনা কমানোর জন্য তৈরি স্পিড বাম্প উল্টো দুর্ঘটনা বাড়ায়।