গোড়া পচা রোগে মরছে গমগাছ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন খেতে গোড়া পচা রোগে মরে যাচ্ছে গমগাছ। পানি ও ওষুধ দেওয়ার পরও তেমন উপকার পাচ্ছেন না কৃষকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গোয়ালন্দ পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গোড়া পচে যাওয়ায় মরে যাচ্ছে খেতের গমগাছ। এসব এলাকার কৃষকেরা প্রাথমিকভাবে খেতে পানি দেওয়া এবং বাজার থেকে ওষুধ কিনে ব্যবহার করলেও খুব একটা উপকার পাচ্ছেন না। এতে কৃষকেরা এ বছর গমের ফলন তুলনামূলকভাবে কম পাবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উজানচর ইউনিয়নের বকারটিলা গ্রামের কৃষক ইউনুছ মিয়া (৬০) বলেন, তিনি প্রায় চার হাজার টাকা খরচ করে ১৪ শতাংশ জমিতে গমের আবাদ করেছেন। গাছগুলো ছয়-সাত ইঞ্চি লম্বা হওয়ার পর হঠাৎ মরে যেতে দেখেন। পরে দেখেন, গাছের গোড়া পচে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পানি দিলে উপকার পাবেন এই আশায় পানি দিয়েছেন। কিন্তু খুব একটা কাজে আসেনি। এতে তাঁর প্রায় ৩০ শতাংশ গমগাছ মরে গেছে।
পৌর এলাকার কুমড়াকান্দি গ্রামের কৃষক নেন্দু খাঁ (৬৫) বলেন, তিনি প্রায় তিন বিঘা জমিতে কাঞ্চন জাতের বীজ বুনেছেন। খেতের বয়স প্রায় দেড় মাস। ১০-১২ দিন আগে খেতে কিছু গাছ মরতে দেখেন। প্রাথমিকভাবে তেমন গুরুত্ব না দিলেও গাছ মরার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তিনি স্থানীয় ব্যক্তিদের পরামর্শে পানি দেন। তাতেও উপকার পাননি। এ ছাড়া বাজার থেকে ভিটামিনজাতীয় ওষুধ সারের সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করেছেন। তাতেও লাভ হয়নি।
কুমড়াকান্দি ও জুড়ান মোল্লাপাড়ার কৃষক একাব্বর খাঁ, নিকবার, শহীদ খাঁসহ অনেকেই জানান, গমগাছের গোড়ায় কোনো শিকড় নেই। পচে নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয় কাউন্সিলর ফজলুল হক বলেন, তাঁর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় সাত একর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। অধিকাংশ খেতেই গোড়া পচা রোগ দেখা দিয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের লোকজন ঠিকমতো খোঁজখবর নেন না। অনেক সময় সাধারণ কৃষক অফিসে গিয়ে কিছু বলার সাহস পান না। তাই কৃষি বিভাগের উচিত নিজ উদ্যোগে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
জানতে চাইলে পৌর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার বিশ্বাস বলেন, কিছু স্থানে গোড়া পচা রোগ দেখা দিয়েছে। এটা স্বাভাবিক বিষয়। প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিটালে সমস্যা থাকবে না। তিনি আরও বলেন, ‘এলাকায় না যাওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। আমরা নিজে থেকে খোঁজ নিয়ে এলাকায় গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকি।’
উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ মণ্ডল বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে গড়া পচা রোগ দেখা দিয়েছে। তবে এটা খুব সাধারণ ও সহনীয় পর্যায়ে আছে। এ ধরনের রোগ দেখামাত্র জমিতে পানি দিতে হবে। প্রতি শতাংশ জমির জন্য এক লিটার পানিতে দুই গ্রাম করে বেবিস্টিন মিশিয়ে ছিটালে গোড়া পচা বন্ধ হয়ে যাবে। প্রয়োজনে কৃষকেরা কৃষি কার্যালয়ে এসে পরামর্শ নিতে পারেন।