জামিন আদেশের পর মুক্তি না দেওয়া বেআইনি: হাইকোর্ট

হাইকোর্টের জামিন আদেশের পরও জামিনপ্রাপ্ত আসামিকে মুক্তি না দেওয়া বেআইনি বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মুক্তি না দেওয়া বেআইনি ঘোষণার পাশাপাশি এ ধরনের সার্টিফিকেটকেও বেআইনি বলে অভিহিত করেছেন আদালত।
একটি অর্থপাচার মামলায় জামিনপ্রাপ্ত তিনজনকে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডের সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে মুক্তি না দেওয়ায় তাঁরা সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টে আবেদন করলে তা শুনানির পর গতকাল বুধবার হাইকোর্ট এই আদেশ দেন। বিচারপতি ফরিদ আহম্মদ ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশে আরও বলেন যে এ ধরনের সার্টিফিকেট ইস্যু বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের শামিল।
এদিকে জামিনের পরও তিন আসামিকে মুক্তি না দেওয়ার ঘটনায় আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষে প্রতিনিধিত্ব করা অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড ও দুটি কারাগারের দুজন জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক। আদালতে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করায় ওই তিনজনকে অব্যাহতি দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই তিনজন হলেন, অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সুফিয়া খাতুন ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর কবির এবং কাশিমপুর কারাগার-১-এর জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক সুব্রত কুমার বালা।
জানতে চাইলে আইনজীবী সুফিয়া খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছি। আদালত আমাদের ক্ষমা করেছেন।’ তাঁর দাবি, তিনি কখনো কারাগার কর্তৃপক্ষকে বলেননি কোনো আসামিকে আটক কিংবা ছেড়ে দেওয়ার জন্য।
আদালত আদেশে বলেছেন, লইয়ার সার্টিফিকেট ইস্যুকারী অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সুফিয়া খাতুন ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক জাহাঙ্গীর কবির, কাশিমপুর কারাগার-১-এর জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক সুব্রত কুমার বালা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করায় তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলো না।
গত ৭ মে রামপুরা থানায় করা একটি অর্থপাচার মামলার পাঁচ আসামিকে জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে ১৭ মে জামিননামা কারাগারে যাওয়ার পর দুই আসামিকে মুক্তি দেয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু জামিনপ্রাপ্ত অপর তিনজন গিয়াস উদ্দিন, আমিনুর রহমান ও ওসমান গণিকে ছাড়েনি কারাগার কর্তৃপক্ষ। আদালতের জামিননামা জমা দেওয়ার পরও তাঁদের মুক্তি না দেওয়ায় বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন দুই আইনজীবী। পরে হাইকোর্ট এই তিনজনকে তলব করেন। তাঁদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট।
আদালতে পেশ করা লিখিত জবাবে কারাগারের জ্যেষ্ঠ দুই তত্ত্বাবধায়ক বলেছেন, অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডের দেওয়া লইয়ারস সার্টিফিকেটের কারণে তাঁরা আসামিদের মুক্তি দেননি। ওই সার্টিফিকেটে বলা হয়েছিল, হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে। আসামিদের মুক্তি না দেওয়াটা ছিল অনিচ্ছাকৃত ভুল। বিষয়টি তাঁদের অজ্ঞাতসারেই হয়েছে।
আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আদিলুর রহমান খান ও রুহুল আমিন ভূঁইয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আইনজীবী প্রথম আলোকে বলেন, জামিন পাওয়ার পর ‘লইয়ার সার্টিফিকেট’ পেয়ে বিএনপির নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ বিরোধী দলের অনেক নেতা-কর্মীকে কারাগার থেকে ছাড়েনি কারাগার কর্তৃপক্ষ।