টিভির সম্প্রচার শেষ তো লাইনও শেষ!

>

আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। গতকাল গুলশানের মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। ছবি: প্রথম আলো
আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। গতকাল গুলশানের মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। ছবি: প্রথম আলো

প্রায় ভোটারশূন্য ছিল কেন্দ্রগুলো। অবশ্য আতিকুলের নাম ও মার্কাযুক্ত কার্ড নিয়ে কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে।

গুলশানের মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র। বেলা ১টা ২৫ মিনিটে দেখা গেল, কেন্দ্রের ঠিক সামনে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি লাইন। পাশেই তখন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদক সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সম্প্রচারের কাজ শেষ হতেই লাইনে থাকা লোকজন এদিক-ওদিক চলে যান। কেন্দ্রের সামনের মাঠটিও তখন ফাঁকা হয়ে পড়ে।

পরে জানা গেল, টেলিভিশনের সম্প্রচারের প্রস্তুতি দেখেই ওই সব ব্যক্তি এভাবে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল ভোটারের উপস্থিতি দেখানো। এঁদের প্রায় সবাই ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামের কর্মী-সমর্থক। অথচ এখানে প্রায় সারা দিনই ভোটারের উপস্থিতি ছিল একেবারেই হাতে গোনা।

গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন। নির্বাচনে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে চারটি কেন্দ্র ছিল। এর মধ্যে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার ভোটারদের নিয়ে একটি কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৫৯৮ জন। এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আমিন উদ্দিন আকঞ্জি পৌনে দুইটায় প্রথম আলোকে বলেন, তখন পর্যন্ত তাঁর কেন্দ্রে ৪০০–এর মতো ভোট পড়েছে। অর্থাৎ তাঁর হিসাবে তখন মাত্র ১৫ শতাংশের সামান্য বেশি ভোট পড়েছে।

এই প্রতিষ্ঠানে থাকা আরও একাধিক কেন্দ্রের কয়েকটি ভোটকক্ষের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ভোটার নেই। এগুলোতে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। দু-একটিতে অবশ্য ভেতরে দু-একজনকে দেখা গেছে।

ভোটার নেই, সরব উপস্থিতি কর্মী-সমর্থকদের

সকাল পৌনে ১০টার দিকে খিলক্ষেত এলাকায় কুর্মিটোলা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ভোটারশূন্য কেন্দ্রগুলো। অবশ্য ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থীর নাম ও মার্কাযুক্ত কার্ড নিয়ে কেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে অসংখ্য কর্মী-সমর্থকের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। তাদের মধ্যে বেশ কিছুসংখ্যক কিশোরকেও দেখা গেছে।

বেলা একটা পর্যন্ত সেখানে থেমে থেমে হাতে গোনা ভোটার যান। এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অবস্থিত কুর্মিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ১০টি কেন্দ্র রয়েছে। মোট ভোটার ২৫ হাজারের মতো। ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে এখানকার একটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বলেন, তখন পর্যন্ত তাঁর কেন্দ্রের ১১টি ভোটসহ সব কটি কেন্দ্র মিলে দুই শর মতো ভোটার ভোট দিয়েছেন। এরপর কুর্মিটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল, ভেতরে ভোটার নেই। হাঁটাচলা করছিলেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান। তখন পর্যন্ত কতটি ভোট পড়েছে জানতে চাইলে তিনি সঠিক তথ্য দিতে পারছিলেন না।