
হাতিরঝিলে হাঁটার রাস্তায় আবর্জনা ফেলার জন্য কিছু দূর পরপর নতুন বিন বা বাক্স বসানো হয়েছে। সেগুলোর গায়ে ‘আমাকে ব্যবহার করুন’ এবং ‘ডাস্টবিন’ লেখা থাকলেও এগুলোর যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। লোকজন বিনের বাইরেও ময়লা ফেলছে।
চীন থেকে আমদানি করা ডাস্টবিনগুলো গতানুগতিক ময়লা ফেলার বাক্সের মতো নয়। ওপরে ঢাকনাযুক্ত বাক্সগুলোতে তালা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। এখানে দুই ভাগে ময়লা ফেলার নির্দেশনা দেওয়া আছে। বাক্সের গায়ে একদিকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য আবর্জনা এবং অপরদিকে অন্যান্য আবর্জনা ফেলার নির্দেশনা আছে। প্লাস্টিকের এই বাক্সের ভেতরে টিনের আরেকটি বাক্স আছে। ময়লা-আবর্জনা ফেললে তাতে গিয়ে পড়ে। ময়লা ভর্তি হয়ে গেলে তা বের করে সরিয়ে আবার পরিষ্কার করে রাখা হয়।
হাতিরঝিল কর্তৃপক্ষ জানায়, এ এলাকায় যেখানে যেখানে প্রয়োজন সেখানেই ময়লা ফেলার বাক্সগুলো বসানো হয়েছে। ঝিলের উভয় পাশে এখন ৮০টির বেশি বাক্স আছে। ১০০টির বেশি বাক্স বসানোর পরিকল্পনা আছে তাদের।
গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাতিরঝিলের উত্তরাংশে এফডিসির মোড় থেকে মেরুল পর্যন্ত কিছু দূর পরপর প্রায় ৪০টি আবর্জনা ফেলার বাক্স বসানো। এগুলোর মধ্যে উত্তর দিকে মধুবাগ ব্রিজসংলগ্ন একটি বাক্স ময়লায় ভর্তি ছিল। অন্যগুলো প্রায় খালি। কয়েক জায়গায় আবর্জনা ফেলার বাক্স থেকে একটু দূরে স্তূপ করে ময়লা ফেলে রাখা হয়েছে।
আবর্জনার মধ্যে চিপস ও বিস্কুটের খালি প্যাকেট, ডাবের খোসা, কাগজের প্যাকেট, ছেঁড়া বস্তা, পুরোনো তোশক-বালিশ, ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেট, চা বা কফির কাপ, সিগারেটের বাক্স, শুকনা পাতা ও ঘাস দেখা গেছে।
এই অংশে আবর্জনা ফেলার একটি বাক্সের একদিকের দরজা ভাঙা দেখা গেছে। ভেতরের টিনের বাক্সটি নেই। আরও কিছু দূর গিয়ে দেখা গেল অন্য একটি বাক্সের ভেতরের টিনের বাক্সটিও হাওয়া। ঝিলের উত্তরাংশে এই আবর্জনা ফেলার বাক্সগুলোর অন্তত ২০টিতে ভেতরের এই টিনের বাক্সটি দেখা যায়নি।
স্কুলের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার ও দিলরুবা ইয়াসমিন একটি বেঞ্চিতে বসে আইসক্রিম খাচ্ছিল। তারা বলল, ময়লা ফেলার বাক্স তাদের চোখে পড়েনি। তবে যেখানে-সেখানে তারা ময়লা ফেলবে না। বাক্স খুঁজে তাতেই ফেলবে। তবে কোন ময়লাগুলো পুনরায় ব্যবহারযোগ্য (রিসাইকেল) আর কোনগুলো না, তা তারা বলতে পারবে না।
ঝিলের পশ্চিম অংশে সম্প্রতি একটি নতুন খাবারের দোকান চালু করা হয়েছে। ইওড নামের এ রেস্তোরাঁর পাশে ওয়াটার ট্যাক্সিতে ওঠার টার্মিনাল। এর গা ঘেঁষেই একটি ময়লা ফেলার বাক্স। তবে দোকানের জিনিসপত্রের কারণে এটি ঢাকা পড়ে আছে। রেস্তোরাঁর একজন কর্মী জানান, খাবারের দোকানটির আবর্জনা তাঁরাই নিয়ে যান। বাক্সে ফেলতে হয় না। তবে ময়লা ফেলার বাক্সটি যাতে আড়ালে পড়ে না থাকে, সেজন্য দোকানের আইসক্রিমের বাক্সটি তাঁরা সরিয়ে ফেলবেন বলে জানান।
ঝিলের বেগুনবাড়ি-সংলগ্ন ব্রিজের নিচে আলুটোপিয়া নামের খাবারের দোকানে তৈরি হওয়া আবর্জনা নিজেরা প্রতিদিনই পরিষ্কার করে নিয়ে যান বলে জানান এর ব্যবস্থাপক তানভীর আহমেদ। তিনি বলেন, তাঁরা বেলা ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বসেন। তাঁর মতে, বাক্সগুলো ছোট, কাজে লাগে না।
হাতিরঝিলে প্রায় ৩০টি খাবারের দোকান আছে। দোকানের ময়লাগুলো তারাই প্রতিদিন পরিষ্কার করে নিয়ে যায়।
তবে হাতিরঝিলের প্রকল্প কর্মকর্তা সাদিক শাহরিয়ার বলেন, বাক্সগুলোতে ময়লা ফেলার পর্যাপ্ত জায়গা আছে। এখানে ময়লা ফেলা অত্যন্ত নিরাপদ (হাইলি সিকিউরড)। তালা দেওয়া এবং ওপরে ঢাকনা থাকায় এগুলো চুরি হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি জানান, বিনের ভেতরের টিনের বাক্সগুলো পরিষ্কার করার জন্য খুলে রাখা আছে। পরিষ্কারের পর আবার রাখা হবে।
বিনের আশপাশে ময়লার স্তূপ পড়ে থাকার বিষয়ে সাদিক শাহরিয়ার বলেন, এগুলো জড়ো করে রাখা হয়েছে ময়লার গাড়ি এসে নিয়ে যাবে বলে।
সাদিক শাহরিয়ার বলেন, হাতিরঝিলের আবর্জনাগুলো মূলত যারা ঘুরতে আসে তারা ফেলে। এ ছাড়া আশপাশে বসবাসকারী মানুষও আবর্জনা ফেলতে পারে। ময়লা ফেলার বাক্সগুলোতে এক পাশে পানির বোতলজাতীয় আবর্জনা (রিসাইকেলেবল), অপর পাশে অন্যান্য আবর্জনা ফেলার নির্দেশ দেওয়া আছে। এ ডাস্টবিনগুলো দেশের আর কোথাও দেখা যাবে না। এখানেই প্রথম ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোতে চিহ্ন দিয়ে সিগারেট ফেলতে নিষেধ করা আছে। হাতিরঝিলের দেখাশোনার কর্তৃপক্ষের আলাদা পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছে। তাঁরা প্রতিদিন ময়লাগুলো সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলেন। সেখান থেকে সিটি করপোরেশনের লোকজন ধরন অনুযায়ী ময়লা আলাদা করে নিয়ে যায়।