
তথ্য অধিকার আইনে বাংলাদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে এক মানবাধিকারকর্মীর করা অভিযোগের বিষয়ে আদেশ আজ বুধবার হয়নি। তথ্য কমিশন জানিয়েছে, ২২ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেওয়া হবে।
দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মোট কত মামলা, কত আসামি ও কতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন—বাংলাদেশ পুলিশের কাছে এ-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে আবেদন করেছিলেন মানবাধিকারকর্মী সাদ হাম্মাদি। এসব তথ্য প্রকাশ পেলে আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন কারণ দেখিয়ে তথ্য দেয়নি পুলিশ।
পুলিশের কাছ থেকে তথ্য না পেয়ে আবেদনকারী সাদ হাম্মাদি তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। গত ১১ জানুয়ারি এই অভিযোগের শুনানি করে কমিশন। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আজ বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) আদেশের দিন ধার্য করেছিল কমিশন।
আজ সকাল সাড়ে ১০টায় আদেশের সময় নির্ধারিত ছিল। তবে আজ আদেশ হয়নি।
এ প্রসঙ্গে সাদ হাম্মাদি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় আদেশের সময় নির্ধারিত ছিল। নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগে সকাল ১০টার দিকে আমাকে মেইলে জানানো হয়, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে আদেশের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি একই সময় আদেশ দেওয়া হবে।’
তথ্য কমিশনের গবেষণা কর্মকর্তা রাবেয়া হেনা প্রথম আলোকে বলেন, কমিশনের আজকের কার্যক্রম অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আদেশের দিন পেছানোর কথা আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তথ্য কমিশনের অপর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, একাধিক কমিশনার করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। এ কারণে কমিশনের আজকের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
লেখক, গবেষক, মানবাধিকারকর্মী সাদ হাম্মাদি ২০২১ সালের ৭ জুন পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর তথ্য অধিকার আইনে আবেদনটি করেন। তিনি জানতে চান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর থেকে এই আইনে প্রতিবছর দায়ের করা মামলার সংখ্যা, অভিযুক্ত ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংখ্যা কত?
তথ্য না পাওয়ায় সাদ হাম্মাদি গত ১৮ জুলাই পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর আপিল আবেদন করেন। নির্ধারিত সময়ে আপিল আবেদনের জবাব না পাওয়ায় সাদ হাম্মাদি গত ১০ আগস্ট তথ্য কমিশনে অভিযোগ করেন।
সাদ হাম্মাদির তথ্য চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে তাঁকে একটি চিঠি দেয় পুলিশ। চিঠিতে বলা হয়, তথ্য অধিকার আইনের ধারা ৭-এর চ, ছ এবং ড উপধারা অনুযায়ী আবেদনকারীর তথ্য প্রকাশ করার মতো না। এসব তথ্য প্রকাশ পেলে আইনের প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অপরাধ বৃদ্ধি পেতে পারে। জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। বিচারাধীন মামলার সুষ্ঠু বিচারকার্য ব্যাহত হতে পারে। কোনো অপরাধের তদন্তপ্রক্রিয়া, অপরাধী গ্রেপ্তার ও শাস্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।
বাংলাদেশের নাগরিক সাদ হাম্মাদি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক অফিসে (শ্রীলঙ্কা) কর্মরত।