পদ্মার তীব্র ভাঙন

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সরাতে জায়গা বাছাই

পদ্মার ভাঙনের মুখে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট অন্যত্র সরিয়ে নিতে দুটি জায়গা বাছাই করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক গতকাল বৃহস্পতিবার দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাটের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বর্তমান লঞ্চঘাট থেকে ক্যানাল ঘাট এলাকা এবং বাহির চর দৌলতদিয়ার আক্কাছ আলী হাইস্কুল-সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ দুটি স্থানের একটিকে ফেরি ও লঞ্চঘাটের জন্য বিকল্প জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হবে।
পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান ফেরিঘাট রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুর বস্তা ফেললেও এখানে ঘাট রাখার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। তাই আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঘাটটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। এ জন্য বর্তমান ফেরিঘাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে বর্তমান লঞ্চঘাট থেকে ক্যানাল ঘাট পর্যন্ত অথবা পূর্বদিকে বাহির চর দৌলতদিয়ার আক্কাছ আলী হাইস্কুল-সংলগ্ন এলাকায় ফেরিঘাট স্থানান্তরের জন্য জায়গা বাছাই করা হয়েছে। এ দুটি জায়গা সম্পর্কে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে। তবে খরচ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় তিনি বর্তমান লঞ্চঘাটের কাছে ফেরিঘাট সরিয়ে নিতে সুপারিশ করবেন। তিনি আশা করছেন, আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিলের মধ্যে নতুন স্থানে ঘাট চালু করা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী মুহিদুল ইসলাম, রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা হাকিম মনোয়ার হোসেন, বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজামদ্দিন পাঠান, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় আড়াই মাস ধরে ভাঙন চলছে। এতে বারবার ফেরিঘাট বন্ধ হয়ে যানবাহন পারাপার ব্যাহত হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, পাউবো এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) মধ্যে সমন্বয় না থাকায় ভাঙন প্রতিরোধে যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ভাঙন রোধে কাজ চলছে: ভাঙনের সর্বশেষ অবস্থা পরিদর্শনে ১০ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান হেলিকপ্টারযোগে দৌলতদিয়ায় আসেন। এ সময় তিনি ফেরিঘাটে দাঁড়িয়ে পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় পাউবোকে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেন। প্রাথমিকভাবে ২, ৩ ও ৪ নম্বর ঘাটের প্রায় ৩৫০ মিটার এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে ৬৫ হাজার বস্তা ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার বস্তা ফেলা হয়েছে।