নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের প্রয়োগ, সীমাবদ্ধতা ও উত্তরণের উপায়

গত ২৪ নভেম্বর ২০১৫, প্রথম আলোর আয়োজনে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের প্রয়োগ, সীমাবদ্ধতা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হলো।

.

আলোচনায় সুপারিশ

* নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করে আইনটিকে আরও যুগোপযোগী করতে হবে

*  কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধে আরও একটি আইন প্রণয়ন করা উচিত

* সাক্ষী ও ভুক্তভোগীকে নিরাপত্তা দেওয়া জরুরি

* ডাক্তারি পরীক্ষা ও তদন্ত-প্রক্রিয়া নারীদের দ্বারা হওয়া অত্যন্ত জরুরি

* দাম্পত্য জীবনে যে সম্পত্তি অর্জিত হবে তালাকের সময় তার অর্ধেক স্ত্রীকে প্রদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে

* বাল্যবিবাহ বন্ধ হলে নারী নির্যাতন অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে

* নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১১-এর গ ধারার যথেষ্ট অপব্যবহার হয়

আলোচনা

আবদুল কাইয়ুম: নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সংবিধানে নারী ও পুরুষের সম-অধিকারের বিধান রয়েছে। নারীর অধিকার রক্ষায় ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রণীত হয়েছে একের পর এক আইন। তবু বেড়ে চলেছে নারী নির্যাতন। কিন্তু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। নির্যাতনের হার ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

আইন থাকা সত্ত্বেও ক্রমবর্ধমান হারে নারী নির্যাতন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে প্রণীত আইনগুলোর বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা ও আইনের প্রয়োগ-পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি। যৌতুকের দাবি ও যৌতুকের জন্য নির্যাতনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় ১৯৮০ সালে প্রণীত হয় যৌতুক নিরোধ আইন। পাশাপাশি নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ২০০০ সালে প্রণীত হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩)।

এই আইন দুটি উদ্দেশ্য পূরণে কতখানি সক্ষম হয়েছে, এর মাধ্যমে নারী ও শিশুরাই বা কতটুকু প্রতিকার পেয়েছে, নির্যাতন প্রতিরোধে আইন দুটির প্রয়োগে প্রতিবন্ধকতা এবং এর উত্তরণের সম্ভাব্য উপায় কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। এখন আলোচনা করবেন ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি

ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি

ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি: আপনারা সবাই জানেন বর্তমান সরকার অত্যন্ত নারীবান্ধব। নারীদের সুরক্ষার জন্য আইন ও নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। আরও অনেকভাবে সরকার এ ক্ষেত্রে কাজ করছে। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী। তাদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে না ভেবে সামনে এগোনো যাবে না। নারী-পুরুষ সবাই সমান। আজ একটি সুন্দর বিষয় নিয়ে গোলটেবিলের আয়োজন করা হয়েছে। আলোচকদের মধ্য থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আসবে। এগুলো বিবেচনা করে আগামী দিনে কীভাবে নারীদের নির্যাতন বন্ধ করা যায় সে বিষয়ে একটি দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। নারীরা এখন সব ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করছে। আমাদের মনে রাখতে হবে নারীর জয় বিশ্বজয়। 

তৌহিদা খন্দকার:
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করে। জানুয়ারি ২০১২ সাল থেকে অক্টোবর ২০১৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির লিগ্যাল সেলের তত্ত্বাবধানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)–এর আওতায় ২০২৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৫৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়।

তৌহিদা খন্দকার

নিষ্পত্তিকৃত মামলায় আসামির সংখ্যা ৩৯৩ জন। শাস্তিপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ২৭। তথ্য–উপাত্ত, সাক্ষ্য প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছে ৩৬৬ জন। একই সময়ে যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০–এর আওতায় ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, এতে অভিযুক্তের সংখ্যা ৩৩ জন। যার মধ্যে ৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। একজনের সাজা হয়।
পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতিরপিএইচআর কর্মসূচির তত্ত্বাবধানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)–এর আওতায় ৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। নিষ্পত্তিকৃত মামলায় আসামির সংখ্যা ১৭ জন। শাস্তিপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা ০। তথ্য–উপাত্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছে ১৪ জন। মামলা প্রত্যাহার ৩টি।
পিএইচআর  কর্মসূচির তত্ত্বাবধানে যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০-এর আওতায় ১১৩টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৭৪টি নিষ্পত্তি হয়। এসব মামলায় অভিযুক্তের সংখ্যা ৯৭ জন। মামলায় কারও সাজা হয়নি। খালাস পেয়েছেন ৩৪ জন। আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৩টি মামলা।

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের পর্যবেক্ষণ হলো, এ আইনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিচার–প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে না। দায়িত্ব, জবাবদিহি, কৌশল ইত্যাদি আইনে সঠিকভাবে বলা নেই। ধর্ষণ, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের সঠিক নি​ের্দশনা নেই। আরও অনেক  সীমাবদ্ধতা আছে। এসব দূর করে আইনটিকে আরও যুগোপযোগী করতে হবে ।

মো. জাকারিয়া হায়দার

মো. জাকারিয়া হায়দার: এ আইনে আছে মামলা শুরু হলে একবারে শেষ করতে হবে। দেশে যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার হয়, এর প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। সিলেটের রাজন ও খুলনার রাকিবের ক্ষেত্রে দেখেছি কত দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার হয়েছে। অর্থাৎ ইচ্ছা থাকলে অনেক কিছু করা সম্ভব।
এ আইনে বলা আছে, ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা শেষ করতে হবে। কিন্তু শেষ করতে না পারলে কী হবে, সে সম্পর্কে কিছু বলা নেই। আমার প্রস্তাব হলো, ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা শেষ করতে হবে। কারণ আসামিও বিচার চায়। সেও মামলার নামে দিনের পর দিন ঘুরতে চায় না।
তদন্তের ক্ষেত্রে বলা আছে, আসামিকে ধরা হলে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে হবে। আর আসামি ধরা না পড়লে প্রথমে ৬০ দিন, তারপর ১৫ দিন। এরপরও ধরা না পড়লে আদালতের অনুমতি নিয়ে প্রথম পর্যায়ে ৭ দিন, এর মধ্যেও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে না পারলে আরও ১৫ দিন।

তারপরও যদি তদন্ত প্রতিবেদন দিতে না পারে, তাহলে তদন্তে গাফিলতির জন্য ব্যবস্থা আছে। কিন্তু এই ব্যবস্থাটা এখনো আমরা দেখতে পাইনি। দিন দিন নারী ও শিশু নির্যাতন বেড়ে চলেছে। ১১-এর গ ধারার যথেষ্ট অপব্যবহার হয়। এ ধারাটি নিয়ে ভাবতে হবে। 

মোজাহিদুল ইসলাম

মোজাহিদুল ইসলাম: আমি নিজে একজন আইনজীবী। আমাদেরও মানসিকতার পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে। আগে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ছিল না। নারী নির্যাতনের যেকোনো মামলাকেই যৌতুকের মামলা হিসেবে নেওয়া হতো।
মামলা করার আগে ঠিক করতে হবে কোন আইনজীবী এ মামলার জন্য উপযুক্ত। যেকোনো আইনজীবী সব ধরনের মামলা করতে পারবেন না। ভিকটিম এসেই বলে বিচার চাই। কেউ বলে না ন্যায়বিচার চাই। এটা হলো একটা প্রতিশোধের মানসিকতা। গ্রাম থেকে একজন মানুষ যখন বিচার চাইতে আসেন তখন তাঁকে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে, কথা বলতে, মামলা দায়ের করতে অনেক সময় লেগে যায়। বিচার চাইতে এসেও ভুক্তভোগীরা প্রতিপদে দুর্ভোগের শিকার হন। ইউনিয়ন থেকে শুরু করে সরকারের প্রতি স্তরে কমিটি আছে। কিন্তু এ কমিটিগুলো কাজ করে না। সবকিছুর মধ্যে একটা সমন্বয় আনতে পারলে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

এম আবদুল আলিম

এম আবদুল আলিম: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা  আপসযোগ্য নয়। কিন্তু আপস হচ্ছে। যেকোনো কারণেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ হতে পারে। সব ক্ষেত্রেই মামলা করতে হবে, এটা ঠিক না। মামলার বাইরে সামাজিক ও পারিবারিক সহায়তায় কীভাবে সমাধান করা যায়, সেটার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
আরেকটা বিষয় দেখা যায়, বাদী-বিবাদী প্রায় সময়ই অপ্রাসঙ্গিক তথ্য দিয়ে মামলাকে ন্যায়বিচারের পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত করেন। ঘটনা যা সেটা দিয়েই মামলা দায়ের করা উচিত। মামলার ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। একটা মেয়ে কখন মামলা করতে আসে, যখন তার দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়। তাই যেকোনোভাবেই হোক না কেন আমরা আইনি সহায়তা প্রদান করতে চেষ্টা করি, যাতে ভুক্তভোগী নারীকে কিছুটা সহায়তা করা যায়।

সংসারে নারীর অবদানকে মূল্য দিয়ে দাম্পত্য জীবনে অর্জিত সম্পত্তিতে নারীর অধিকার দিতে হবে।

আলী আসগর স্বপন

আলী আসগর স্বপন: তৃণমূল পর্যায়ে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। সাত বছর পাবলিক প্রসিকিউটর ছিলাম। এই আইনের ৯ ধারা ধর্ষণ মামলার জন্য। ১১-এর গ ধারা যৌতুকের জন্য, আর ৭ ধারা অপহরণের জন্য। ১১-এর গ ধারায় সাধারণ জখম হলে সাজা তিন বছরের বেশি না। এ ক্ষেত্রে বিচার করছেন একজন দায়রা জজের সমমর্যাদার বিচারক। আবার যৌতুক নিরোধ আইনের মামলার সাজা পাঁচ বছরের বেশি না। এ মামলায় বিচার করছেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট। আমাদের প্রস্তাব ছিল দায়রা জজের পরিবর্তে মামলাগুলো যেন একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে বিচার করানো হয়।
নারী নির্যাতনের অধিকাংশ মামলার প্রমাণ হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিরোধটা তৈরি হয় অন্য কোনো কারণে, কিন্তু মামলা করার সময় যৌতুকের অজুহাতে মামলা করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রী আপস করে ফেলেন।
দেখা যায়, আপসের কিছুদিনের মধ্যে আবার সেই নারীকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। তখন আর ওই নারীর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকে না। তাই এই আইনটা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে নেওয়া উচিত। তাহলে সবাই এ আইনের সুফল পাবে।

মো. খলিলুর রহমান

মো. খলিলুর রহমান: নারী নির্যাতন দিন দিন বাড়ছে। নারী নির্যাতনের প্রধান কারণ বিচার না হওয়া। যত দিন পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হবে তত দিন এ নির্যাতন চলতেই থাকবে। সিলেটের রাজন ও খুলনার রাকিবের ক্ষেত্রে যেমন দ্রুত বিচার হয়েছে তেমন বিচার হতে হবে। বাল্যবিবাহের কারণেও নারী নির্যাতন হয়। সারা দেশে সাড়ে পাঁচ হাজার বিবাহ নিবন্ধক আছেন। এঁরা বিয়ে নিবন্ধন করার সময় ছেলেমেয়ের বয়স দেখতে চান। এ জন্য তাঁরা জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ বা এসএসসি পরীক্ষার সনদ ইত্যাদি দেখতে চান। যখন দেখাতে পারেন না তখন বিবাহ নিবন্ধন না করলে বিভিন্ন দিক থেকে চাপ আসে। যেমন বরিশালে একজন চেয়ারম্যান বললেন, ‘আমিই আইন, আপনি বিয়ে নিবন্ধন করেন।’ আবার কোথাও অনেক অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি বি​বাহ নিবন্ধন করতে চাপ দেন। তাঁরা বলেন, ‘মেয়ের কিছু হলে এর দায়দায়িত্ব কে নেবে, আপনি নেবেন?’ এসব ক্ষেত্রে আমরা অনেক সময় উপায়হীন হয়ে পড়ি।

এ ক্ষেত্রে মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে। প্রশাসনকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।

শশাংক শেখর সরকার

শশাংক শেখর সরকার: আমাদের সংবিধানে নারীসহ সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। যৌতুক আমাদের সমাজে সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বিয়ে মানে সাইকেল, ফ্রিজ, টেলিভিশন, ফার্নিচার আরও কত কিছু। এসব বন্ধ করার জন্য ১৯৮০ সালে ৯টি ধারা নিয়ে হলো যৌতুক নিরোধ আইন। এটাতে কাজ হলো না।
এরপর ১৯৯৫ সালে হলো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ বিধান আইন। এ আইনে কঠিন শাস্তির বিধান রাখা হলো। শেষ পর্যন্ত এটাও ব্যর্থ হলো। সর্বশেষ ২০০০ সালে হলো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন।
তাহলে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের পর্যাপ্ত আইন আছে। আইনের কোনো অভাব নেই। আবার আমাদের মধ্যেও সব আইনজীবী ভালো সেটা বলা যাবে না। যেমন ঘটনা ঘটে দুজনের মধ্যে। কিন্তু আইনজীবীদের পরামর্শে এর সঙ্গে মা-বাবা, ভাই-বোনসহ অনেককে জড়িত করা হয়। ফলে এই মামলা থেকে সুফল পাওয়া যায় না।

ভুক্তভোগীকে নিরাপত্তা দেওয়া জরুরি। মানবিক ও নৈতিকতার দায়বদ্ধতা থেকে মামলা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার-প্রক্রিয়া শেষ করা না হলে কী হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। সর্বোপরি আইনটিকে ফলপ্রসূ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।

মুক্তা ধর

মুক্তা ধর: আমাদের তিনটি বিভাগ আছে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, তদন্ত ইউনিট ও কুইক রেসপন্স টিম।
ঢাকা মেট্রোপলিটান এরিয়ায় ৪৯টি থানা আছে। এসব থানায় নারী নির্যাতন বিষয়ে যেসব মামলা হয় তার প্রায় অধিকাংশই আমাদের এখানে আসে।
দেশে আমাদের মোট আটটি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার আছে। নারী পুলিশ কর্মকর্তা দ্বারা এসব মামলার তদন্ত করা হয়। এই মামলা শেষ করার একটি নির্দিষ্ট সময় আছে, তারপরও শেষ হয় না। কারণ একটি ধর্ষণের মামলার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ডাক্তারি সনদ। অনেক ক্ষেত্রে সনদ পেতে অনেক দেরি হয়। অনেক সময় আমাদের অফিস থেকে চিঠি দেওয়ার পরও সনদ ঠিক সময়ে পাই না। ফলে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়, আবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেও মামলা শেষ হয় না।
১১-এর গ ধারায় যৌতুকের মামলা প্রমাণ করা খুব কঠিন হয়। আমরা তদন্ত করলাম, সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করলাম, কাগজপত্র ঠিক করলাম—একপর্যায়ে দেখা যায় বাদী ঠিকমতো যোগাযোগ করছেন না, কারণ বাদী-বিবাদী আপস করে ফেলেছে। মাঝখানে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়। নির্যাতনের শিকার নারীদের সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব, তথাপি নানা অব্যবস্থাপনা ও অসহযোগিতার জন্য আমরা সব সময় প্রতিকার দিতে পারি না।

মিতালী জাহান

মিতালী জাহান: নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের অনেক ভালো আইন আছে। এখন আইনগুলোর প্রয়োগের জায়গায় জোর দেওয়াটা জরুরি।
নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ কতটা হচ্ছে, আইনসমূহ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়মিতভাবে তদারক করা প্রয়োজন। নারী নির্যাতন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে কি না, তা তদারক করা ও জবাবদিহির বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টিকে একপক্ষীয়ভাবে দেখলে চলবে না।
কাজের সূত্রে দেখেছি, থানাগুলোতে প্রয়োজনীয় উপকরণের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। অনেক সময় জিডি, এফআইআর করার জন্য কাগজ-কলম পর্যন্ত পাওয়া না। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি আইন প্রণয়নের সঙ্গে এগুলোর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় জনবল ও বাজেট বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে সঠিকভাবে আইন কার্যকর করা সম্ভব হবে না।

ডাক্তারি পরীক্ষা ও তদন্ত-প্রক্রিয়া নারীদের দ্বারা হওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রসিদ্ধ ‘স্মৃতিকণা মামলার’ আপিলের রায়ে হাইকোর্ট বিভাগের এ সংক্রান্ত নির্দেশনার বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

নারী নির্যাতনের বিষয়টি সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনায় নিয়ে সবাই যাঁর যা করণীয় তা পালন করলে আমরা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কা‌ঙ্ক্ষিত ফল পাব।

শামসুন্নাহার মেমা

শামসুন্নাহার মেমা: অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ নিজে তদন্ত না করে অন্যকে দিয়ে করায়। এ বিষয়ে অভিযোগের ‌েক্ষত্রে পুনঃতদ‌েন্তর আদেশ দিয়েছি। এ জন্য আমার একটা সুপারিশ হলো, পৃথক তদন্ত সেল করতে হবে।
নারী নির্যাতন মামলাগুলো কীভাবে একটানা করা যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। পুলিশ, ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট সবাইকে তাঁর দায়িত্ব-কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করা প্রয়োজন।
তালাকের সময়েই ভরণপোষণ ও দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করার ব্যবস্থা করা জরুরি। আর শুধু দেনমোহর বা ভরণপোষণ দিলেই হবে না। দাম্পত্য জীবনে যে সম্পত্তি অর্জিত হবে তালাকের সময় তার অর্ধেক স্ত্রীকে প্রদানের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ন্যায়বিচারের স্বার্থেই এ কাজগুলো করতে হবে।

উম্মে কুলসুম

উম্মে কুলসুম: আমি একজন বিচারক। একই সঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগে কাজ করছি। এ জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আমার যোগাযোগ রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান নারী ও শিশু নিয়ে কাজ করে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে।
আইন নিয়ে কিছু বলার নেই। যথেষ্ট আইন আমাদের আছে। তবে  কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধে আরও একটি আইন প্রণয়ন করা উচিত। মহিলা আইনজীব‌ী সমিতি এটি নিয়ে কাজ করছে। এ আইনের সঙ্গেও আমি জড়িত।
তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমেও নারীরা ভীষণভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন। অধিকাংশ মানুষ এ ক্ষেত্রে মুখ খোলে না। আবার যাঁরা বিচার চান তঁারাও তঁাদের নির্যাতনের প্রতিকার পান না। বিষয়টি সবাইকে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
যেকোনো একটা মামলা দায়ের থেকে নিষ্পত্তি পর্যন্ত কয়েকটি ধাপ রয়েছে। যেমন: মামলা দায়ের, তদন্ত, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ, রায় ঘোষণা। যেকোনো মামলার প্রতি ধাপে পুলিশ, আইনজীবী ও আদালতের ভূমিকা রয়েছে। বাদী-বিবাদী, আইনজীবী এবং বিচারক‍—এঁদের প্রত্যেকের কার্যকর সহযোগিতা না থাকলে মামলায় দীর্ঘসূত্রতা হবে।

শুধু নারী নির্যাতন মামলা না, ফৌজদারি মামলাও একাধারে চলার কথা। আর এর জন্য সাক্ষীকে হাজির করতে হয়। পুলিশের এত কাজ যে তারা সব সময় একাধারে সাক্ষীকে হাজির করতে পারে না।

আমরা আইন ও বিচার বিভাগ থেকে তিনটি জেলায় সমন্বয়ক কমিটি করেছি। এ কমিটির সদস্য হলেন সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট, বিজ্ঞ জেনারেল ও পাবলিক প্রসিকিউটর, আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সচিব। এ কমিটির চেয়ারম্যান বিভাগীয় জজ এবং সদস্যসচিব চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

 এ কমিটির মাধ্যমে ১০ বছরের পুরোনো মামলার তদন্ত কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে নতুন মামলা যাতে পুরোনো মামলার তালিকায় না যায় সেটাও লক্ষ রাখা হয়। আমরা জাতীয় সমন্বয় কমিটি করে আরও ১২টি জেলায় একই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমার মূলকথা হলো, আন্তরিকতা নিয়ে সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। 

হাসিনা বেগম

হাসিনা বেগম: যৌতুক নিরোধ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ দুটো আইনেরই সীমাবদ্ধতা আছে। আইনের সংশোধনী আনা অনেক সময়ের ব্যাপার। কিন্তু একটা কাজ আমরা এখনই করতে পারি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মেডিকেল অফিসারের মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলকভাবে মামলার নথিতে সংযুক্ত করার কাজটি এখনই করতে পারি। তাহলে প্রয়োজনের সময় দ্রুত মামলা শেষ করতে পারব। আজকের আলোচনায় একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসেনি, এটা হলো বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহের শিকার মেয়েরা সবচেয়ে বেশি পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়। তাই বাল্যবিবাহ নিয়ে তিন বছর ধরে আমরা কাজ করছি। যেকোনো বিয়ের ক্ষেত্রে একটা বিষয় সবাই জানি যে ম্যারেজ রেজিস্ট্রার ছাড়া পাত্র-পাত্রী বা মা-বাবা কেউ ইচ্ছে করলেই বিয়ের কাজটি সম্পন্ন করতে পারেন না। সরকারি কাজিরা আইন মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে আছেন। তাহলে কারা বাল্যবিবাহ পড়ান? এ ক্ষেত্রে দেখা গেল মাদ্রাসাশিক্ষক, মৌলভি, পুরোহিত, অল্পসংখ্যক সরকারি কাজিও বাল্যবিবাহ পড়ান। দেশের ৬৪টি জেলায় আমরা এঁদের তালিকা তৈরি করেছি। মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেছি। এঁদের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি না। এঁদের আমরা এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেব যাতে এঁরা সব রকম বাল্যবিবাহ পড়ানো থেকে বিরত থাকেন।

সরকারি অফিস থেকে এঁদের মোবাইল নম্বরে মাঝে মাঝে ফোনও যাবে। আমার মনে হয়, বাল্যবিবাহ বন্ধ হলে নারী নির্যাতন অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

ফাওজিয়া করিম ফিরোজ

ফাওজিয়া করিম ফিরোজ: বাংলাদেশে নারী নির্যাতন বন্ধে আইন নেই, এ সমালোচনা করা যাবে না। তবে আইনের খুব একটা প্রয়োগ নেই। এ ক্ষেত্রে সবার সঙ্গে আমিও একমত।
তা ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণগুলো নারীদের জন্য মোটেই সহায়ক নয়। তঁাদের বসার জায়গা নেই, আলাদা কোনো টয়লেট নেই। এসব অব্যবস্থাপনার জন্য নারীরা বিচার প্রাঙ্গণে অস্বস্তি বোধ করেন। ফলে তঁাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত বিচার না নিয়ে ফিরে যান।
আমাদের নিজেদের একটা দোষের কথা বলব। একবার আমি একজন নারীর জন্য আদালতে দাঁড়িয়েছি। আমার প্রতিপক্ষের আইনজীবী এমন অশালীন ভাষায় কথা বলছেন যে আইনজীবী হিসেবে আমি নিজেও ভীষণ লজ্জাবোধ করেছি, আতঙ্কিত হয়েছি। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর অবস্থা কী হয়, সেটা সহজেই বোঝা যায়।
আদালতের এই পরিবেশ নিয়ে আমি বিভিন্ন ফোরামে কথা বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। নিম্ন আদালতেই সব মামলা সঠিকভাবে পরিচালিত হতে হবে। কারণ উচ্চ আদালতে আমাদের বেশি কিছু করার থাকে না। সেখানে কেবল আইনের পর্যালোচনা হয়।

১৯৯০ সালে আমেরিকায় দেখেছি ভুক্তভোগী ও সাক্ষীকে আদালতে আনতে হয় না। ওরা স্কাইপের মাধ্যমে মামলার কাজ সম্পন্ন করে। আমরা যদি এটা করতে পারি তাহলেও ভুক্তভোগী, ডাক্তার ও সাক্ষীদের ঝামেলা কমে যায়।

এ প্রক্রিয়ায় মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। সবকিছুর ওপর আমাদের নাগরিক দায়দায়িত্ব বাড়াতে হবে। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি: আমরা সবাই জানি বাংলাদেশের নারীরা বিশেষভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন। গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।

কেবল রাজনীতিতে নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের নারীরা এগিয়ে আছেন। এত অর্জনের পরও ২০১১ সালের এক সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, কর্মস্থলে নির্যাতিত নারীর সংখ্যা ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। পরিবা‌রে নির্যাতনের শিকার নারীর সংখ্যা ৮৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ঘরে স্বামী অথবা শ্বশুরবাড়ির লোকজনই এ নির্যাতন করছে।

নির্যাতনের শিকার নারীর অর্ধেকই চিকিৎসা সেবা পায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতি তিনজন নারীর একজন জীবনে কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বাংলাদেশ অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের আরও কতকগুলো উদ্যোগ আছে। যেমন নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১২-২০২৫ সাল পর্যন্ত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলেছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নারী ও শিশু পাচার রোধে ও অ্যাসিড–সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তদন্ত সেল গঠন করা হয়েছে। যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাইবার সিকিউরিটি আইনের খসড়া তৈরি হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দুই মিনিটে একজন নারী ধর্ষিত হয়। আমাদের  দেশে এটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। আমাদের  প্রত্যেকের দায়িত্ব নিজেকে পরিবর্তন করা। কেননা শুধু আইন দিয়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা যাবে না। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের দ্বারা নিজেকে দায়বদ্ধ করতে হবে।

আলোচনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধি প্রণয়নের সুপারিশ এসেছে। নারীদের দ্বারা পরিচালিত তদন্ত সেলের বিষয়টি এসেছে। এ দুটো বিষয়ের সঙ্গে আমি একমত। এ দুটি বিষয় যেন অতিসত্বর কার্যকর করা যায়, তার জন্য যা কিছু করা দরকার তার সবকিছু করব।

আব্দুল কাইয়ুম: সব আলোচক আইনের পর্যাপ্ততার কথা বলেছেন। তারপরও যৌতুকের জন্য হোক বা যেকোনো কারণেই হোক প্রতিনিয়ত দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবগুলো পক্ষকে আরও আন্তরিক হতে হবে।

আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও আন্তরিক ও জেন্ডার সংবেদনশীল হতে হবে। একই সঙ্গে সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন করাও জরুরি। প্রথম আলোর পক্ষ থেকে আলোচকদের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ

প্রটেক্টিং হিউম্যান রাইট্স (পিএইচআর) প্রোগ্রাম একটি পাঁচ বছরমেয়াদি কর্মসূচি, যা বাংলাদেশে পারিবারিক সহিংসতার উচ্চহার হ্রাস ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। ইউএসএআইডির আর্থিক সহায়তায় প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) এবং ১১টি স্থানীয় সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে​ প্রোগ্রামটি বাস্তবায়িত হচ্ছে

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মামলা

(জানুয়ারি ২০১২–অক্টোবর ২০১৫)

যৌতুক নিরোধ আইন ১৯৮০

এর আওতায় মামলা হয় ১২৫টি, নিষ্পত্তি হয় ৭৮টি, অভিযুক্ত ১৩০ জন,

সাজাপ্রাপ্ত ১ জন,

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)

এর আওতায় মামলা হয় ২০৯৫টি নিষ্পত্তি হয় ৩৭৪টি। নিষ্পত্তিকৃত মামলায় আসামির সংখ্যা ৪১০ জন, সাজাপ্রাপ্ত ২৭ জন, খালাস পেয়েছেন ৩৮০ জন, মামলা প্রত্যাহার ৩টি

সূত্র: লিগ্যাল সেল, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী ‌সমিতি

যাঁরা অংশ নিলেন

ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি   :  সংসদ সদস্য ও বিশেষ অধিকার–বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য

উম্মে কুলসুম                :  উপসচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়

মুক্তা ধর                     : সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার

মো. জাকারিয়া হায়দার  :  অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

শামসুন্নাহার মেমা         :  সিনিয়র জেলা জজ

হাসিনা বেগম              :  ডেপুটি ডাইরেক্টর, গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

আলী আসগর স্বপন       :  স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫

শশাংক শেখর সরকার   :  ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল

ফাওজিয়া করিম ফিরোজ   :          সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, সদস্য, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও অ্যাডভোকেট আপিল বিভাগ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

এম আবদুল আলিম       :  সহযোগী অধ্যাপক, আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

মো. খলিলুর রহমান      :  সভাপতি, বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতি

মোজাহিদুল ইসলাম      :  সমন্বয়কারী (আইন সহায়তা), প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

তৌহিদা খন্দকার          :  পরিচালক, আইন সহায়তা, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি

মিতালী জাহান             :  প্রকল্প সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি

সঞ্চালক

আব্দুল কাইয়ুম              :  সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো