সিটি করপোরেশন নির্বাচন

নির্বাচনের পর সহিংসতার আশঙ্কা

রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। এ চার সিটি নির্বাচন-সম্পর্কিত আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁরা এ আশঙ্কা জানান। বৈঠকে নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশের পক্ষ থেকে নির্বাচন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই বলে তিনি জানান।আগামী ১৫ জুন এ চার সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিইসির সভাপতিত্বে বৈঠকে তিন নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ, জাবেদ আলী ও মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ; কমিশন সচিবালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাদিক, পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মইনউদ্দিন খন্দকার, পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, বিজিবির উপমহাপরিচালক ওবায়দুল আহসান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর, আনসার, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।বৈঠক সূত্র জানায়, আলোচনার শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো কোনো পরাজিত প্রার্থী নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ঘটাতে পারেন। এ ছাড়া বর্তমানে বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বাতিলের দাবিতে মাঠপর্যায়ে আন্দোলন করছে। বিষয়টি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। বিরোধী দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা দেখলে আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু করতে পারেন। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য মাঠ কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়।সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের বিলি করা লিফলেট যেন কেউ নির্বাচনী এলাকায় বিতরণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতেও পুলিশের পক্ষ থেকে বৈঠকে পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া নির্বাচনী কাজে কোনোভাবেই যেন মসজিদের মাইক ব্যবহূত না হয়, সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে বলা হয়।

বৈঠক শেষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, নির্দলীয় এ নির্বাচনে কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরিস্থিতি অনুকূল। এভাবে অব্যাহত থাকলে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত বাহিনীর সঙ্গে বিজিবি, র‌্যাব ও কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হবে।

১ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় বিরোধীদলীয়  নেতাকে কর্মসূচি  প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে সিইসি কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমরা আশা করি, তিনি আচরণবিধি মেনে চলবেন। তফসিল ঘোষণার পর কোনো সভা-মিছিল করার সুযোগ নেই। রিটার্নিং কর্মকর্তা এ বিষয়ে তাঁকে জানাবেন। আইন লঙ্ঘন করা হলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা ব্যবস্থা নেবেন।