Thank you for trying Sticky AMP!!

বন্ধু ভারত আতঙ্ক সৃষ্টির মতো কিছু করবে না, আশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে. আবদুল মোমেন। জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর। ছবি: ফোকাস বাংলা

বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা, বন্ধুপ্রতিম ভারত এমন কিছু করবে না যাতে উভয় দেশের জনগণের মধ্যে দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বরং বন্ধুত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত এগিয়ে যাবে। উভয় দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আজ শুক্রবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এসব কথা বলেন। জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এ সংগ্রামে ভারতের বহুমাত্রিক অবদানের বিস্তারিত আলোচনা ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অসম্পূর্ণ।

বীরাঙ্গনাদের ত্যাগের কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ। তিনি বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিশেষ একটি মাস। এই মাসে তাঁরা দুর্দশা ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। ভারত তার নিজস্ব সম্পদের ওপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি করে প্রায় এক কোটি নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছিল এবং ভারতের সেনারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল। বন্ধুরা একে অপরের জন্য এটাই করে। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনাকে সম্মান জানিয়ে ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের পাঁচ বছরের ভিসা, আর্মড ফোর্সেস হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও তাঁদের সন্তানদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে।

অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। সরকারি হিসাবে দুই লাখ এবং বেসরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি নারী সম্ভ্রম হারিয়েছেন। তিন কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এক কোটি মানুষ শরণার্থী হয়েছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বরাত দিয়ে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে তা এই অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করবে। আশা করছি, ভারত প্রাণপণ চেষ্টা করবে যাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা মৈত্রী সম্মাননা দেওয়া হয় ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিসকে। তিনি বলেন, ২৫ মার্চের পরে বাংলাদেশ থেকে মানুষ ভারতে আশ্রয় নেওয়া শুরু করে। এমনকি দিনে ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত পার হওয়ার ঘটনাও আছে। ওই সময় ভারত শরণার্থীদের দারুণভাবে সহযোগিতা করেছে।

দেশ স্বাধীন করতে কোনো রাষ্ট্রকে এত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি বলে মন্তব্য করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় ’৭৫ এর পরে বেশির ভাগ সময় দেশ শাসন করেছে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, যারা বাংলাদেশকে বারবার ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছে।