
মিষ্টি চেহারার মায়াবী ডাগর ডাগর চোখ। বাদামি কাঠবিড়ালিদের চলন-বলনে একটা কৌতুক কৌতুক ভাব আছে। মজার মজার ঘটনা ঘটাতে ওস্তাদ ওরা। এই যেমন—বড়সড় পাকা কোনো বাতাবি লেবুর মুখ কেটে সুড়ুত করে ভেতরে সেঁধিয়ে গেল লেজ গুটিয়ে। ভেতরে বসে আপনমনে খাচ্ছে, আর বাইরে থেকে বাতাবি লেবু নড়ছে। অনভিজ্ঞ মানুষ মাত্রেই বাতাবি লেবুর অমন হঠাৎ নড়াচড়ায় হতবাক হবেন। ভৌতিক কিছু ভেবে ভয়ও পেতে পারেন কেউ কেউ।
আবার বর্ষাকালে সোনাব্যাঙেরা যখন সুপারিবাগানের অল্প জলে বসে তানপুরা বাজাতে থাকে, তখন বেজায় বিরক্ত কাঠবিড়ালিরা লাফ দিয়ে পড়ে ব্যাঙের পিঠে, ব্যাঙ দেয় জোরসে লাফ। এটা কাঠবিড়ালিরা করে তাদের আশ্রয় তথা বাসার কাছাকাছি হলে, নিরাপত্তার খাতিরে। গাছ বেয়ে উল্টোভাবে যেমন সুড়সুড় করে নামতে পারে, উঠতেও পারে একই গতিতে। ডাল থেকে অন্য ডাল বা গাছে লাফ দিতে পারে ৫-৭ ফুট পর্যন্ত। তবে ভয় পেয়ে দৌড় দিয়ে লাফ দিলে লাফের দূরত্ব ১০ ফুট অবধি দাঁড়াতে পারে। এরা জোড়ায় জোড়ায় বসবাস করে সারা বছর। চলাফেরাও একই সঙ্গে। প্রতিটি জোড়া একটা রাজ্যসীমা ঠিক করে নেয়। রাজ্যসীমা সর্বোচ্চ ৯০০ বর্গগজ হয়। এই রাজ্যসীমায় অন্য কোনো কাঠবিড়ালি দম্পতি ঢুকে পড়লে তেড়ে যাবে ‘কটকট’ শব্দে ডাকতে ডাকতে। রেগে গেলে ডাকে কটকট শব্দে। দাঁতে দাঁত পিষে ‘কিট্ কিচ্’ শব্দও তোলে। প্রজনন ঋতুতে গাছের এক জায়গায় বসে পুরুষটি একটানা অনেকক্ষণ ডাকবে ওই কটকট শব্দেই। নিজের রাজ্যের ভেতরে চলাচলের জন্য এদের একাধিক রুট থাকে। যেমন আমগাছের ডাল থেকে লাফিয়ে নারকেলের পাতা, তারপরে হয়তো সুপারিগাছ, তারপর সুপারি-বাঁশ বা অন্য কোনো গাছ। এদের সামনের পায়ের নখর ধারালো ও কিছুটা আঠালো। তাই বাঁশ-কলাগাছ-নারকেলের ডগা-পাতায় বা বৃষ্টি-শিশিরভেজা গাছের ডালপালায় পা পিছলে যায় না। এরা সামনের দুই পা-কে ঠিক হাতের মতো ব্যবহার করতে পারে।
এদের খাদ্যতালিকায় প্রথমেই পড়ে ফল। যেমন সফেদা, পেয়ারা, মিষ্টি বরই, পাকা কলা, পেঁপে, কাঁঠাল, বাতাবি লেবু, পাকা তাল, খেজুর, জামরুল, কচি ডাব, গোলাপজাম ইত্যাদি। তবে এদের অন্যতম দুটি অতি প্রিয় খাবার হলো কাঁচা–পাকা সুপারির খোসা ফেললে মুখের কাছের ছোট গোল সাদা দানাটি ও গাছের বাকল-শিকড়ের তলার একরকম ছোট ছোট পোকা। তাল-খেজুরের রস অতিপ্রিয় পানীয় কাঠবিড়ালির।
বাদামি কাঠবিড়ালির ইংরেজি নাম Irrawaddy Squirrel। বৈজ্ঞানিক নাম callosciurus pygerythrus। দৈর্ঘ্য ২১ সেন্টিমিটার, লেজ ১৮ সেন্টিমিটার। বাগেরহাট অঞ্চলে এটি ‘চিয়ে’ নামে পরিচিত। সুন্দরবনসহ প্রায় সারা দেশেই দেখা মেলে এদের।