
আপনার কি বুক জ্বালা-পোড়া করে? গলায় জ্বলুনি হয়? কিংবা গলার ভেতরের দিকে ঝাল, টক বা লবণাক্ত কোনো তরলের অস্তিত্ব অনুভব করেন? সেই সঙ্গে ঢেকুরও তোলেন? তাহলে ধরে নিতে পারেন, এগুলো গ্যাসের সমস্যা থেকে তৈরি হয়েছে। আর এ লেখাটি আপনার জন্যই লেখা হয়েছে।
বুকের জ্বালা-পোড়া যদি খুব বেশি হয়, পাশাপাশি এ ধরনের অস্বস্তিসহ ব্যথা বুক থেকে বাহু ও কাঁধের দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, তাহলে হূদ্যন্ত্রের গোলমালের কারণটি মাথায় রাখতে হবে। তখন জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত হূদেরাগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জায়েদ হোসেন বলেন, ‘অনেকেই হয়তো হঠাৎ বুক জ্বালা-পোড়া টের পাওয়ামাত্রই পথ্য হিসেবে অ্যান্টাসিড খেয়ে ফেলেন। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হূৎস্পন্দন, কিডনি রোগ, পায়ুনালির সমস্যা কিংবা অ্যাপেন্ডিসাইটিসের কোনো লক্ষণ আছে কি না, সে ব্যাপারে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ না করে অ্যান্টাসিড সেবন করবেন না।’
কীভাবে বুক জ্বালা-পোড়ার সমস্যাটি প্রতিরোধ করবেন কিংবা সহনশীল মাত্রায় রাখবেন? এর সমাধান হলো, যেসব খাবার খেলে বা পানীয় পান করলে বুক জ্বলা-পোড়া করে, সেগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এসব খাবারের মধ্যে থাকতে পারে টমেটো, কমলালেবু, লেবু, রসুন, পেঁয়াজ, চকলেট, কফি, চা কিংবা কোমল পানীয়।
ভাজা মাংসের পরিবর্তে সেঁকা অথবা ঝলসানো মাংস খাওয়া, কম তেল-চর্বিযুক্ত ও মসলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করুন।
ঠিক ঘুমাতে যাওয়ার আগে আগে খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। দিনে তিনবার বেশি বেশি না খেয়ে বরং একটু পর পর অল্প করে খাবার খান, দিনে চার-পাঁচবারও খেতে পারেন।
ধূমপান করা যাবে না। এটি সেই পেশিগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, যেগুলো গ্যাসকে পাকস্থলী থেকে খাদ্যনালিতে যেতে বাধা দেয়। শুধু খাওয়াদাওয়া মানাই তো সব নয়, তাই না? পাশাপাশি যথেষ্ট বিশ্রাম নিতে হবে। আরেকটা কথা, সামান্য সমস্যা হলেই নিজে নিজে প্যারাসিটামল, এসপিরিনসহ নন-স্টেরয়ডাল এবং ব্যথানাশক কিংবা জ্বালা-পোড়া নিরোধক বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটোরি ওষুধ সেবন পরিত্যাগ করুন।
এ ছাড়া অনেকের বুক জ্বালা-পোড়ার মতো সমস্যা হতে পারে কোনো রকম শারীরিক কারণ ছাড়াই। মনে রাখবেন, সেটি কিন্তু পুরোপুরি মানসিক সমস্যা। এ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হলে আপনাকেই আপনার সবচেয়ে বড় চিকিৎসক হয়ে উঠতে হবে। দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত রাখতে হবে নিজেকে, যাপন করতে হবে চাপমুক্ত নিয়মমানা জীবন।
লেখক: চিকিৎসক