ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘মংলা অথনৈতিক অঞ্চল’র উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মংলাসহ ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা) সূত্রে জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মংলা ও বন্দরসংলগ্ন মংলা ইপিজেডের পাশেই ‘মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রায় ২০৫ একর জমির ওপর ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এর উন্নয়নকাজ। ইতিমধ্যে ৪০ শতাংশ নির্মাণ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ চলতি বছরের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে অন্তত ২৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রথমবারের মতো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির ভিত্তিতে নির্মাণাধীন এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে শিকদার গ্রুপের প্রতিষ্ঠান পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোন লিমিটেড।
তিনি আরও জানান, পাওয়ার প্যাক আগামী ৫০ বছর এই অর্থনৈতিক জোনের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল খুলনা বিভাগীয় শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার, রামপালের ফয়লায় নির্মাণাধীন খানজাহান আলী বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার, যশোর বিমানবন্দর থেকে ১০৫ কিলোমিটার এবং ঢাকা শহর থেকে ২৩০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।
অবশ্য পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হলে ঢাকার দূরত্ব আরও অনেক কমে যাবে। তখন আরও বেশি কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে মংলা বন্দর, ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল। ২০১৮ সালের মধ্যে মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল পূর্ণাঙ্গভাবে নির্মাণকাজ শেষ হবে। ২০১৬ সাল থেকেই প্লট বরাদ্দের কাজ শুরু হবে। পোশাকশিল্প, পাট, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, শিপইয়ার্ড নির্মাণ ইত্যাদি শিল্পকে মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
উদ্বোধন উপলক্ষে মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৩ (মংলা-রামপাল) আসনের সাংসদ তালুকদার আবদুল খালেক। সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম।