ময়মনসিংহে বিনা মূল্যের টিকাও কিনতে হচ্ছে

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধীনে পরিচালিত সূর্য কান্ত (এস কে) হাসপাতালে কুকুর-বিড়ালের কামড়ের টিকা আক্রান্তদের বিনা মূল্যে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সরবরাহ কম থাকায় অনেক রোগীকে নিজের টাকায় টিকা কিনতে হচ্ছে। কিন্তু নিজের টাকায় কিনতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের।
সরেজমিনে গতকাল সোমবার দেখা যায়, এস কে হাসপাতালে কুকুর, বিড়াল অথবা শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের টিকা দেওয়ার নির্দিষ্ট কক্ষের সামনে রোগীদের জটলা। কিন্তু হাসপাতালে টিকা নেই। অপেক্ষমাণ রোগী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভিড় করা রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই টিকার দ্বিতীয় বা তৃতীয় পর্ব নেওয়ার জন্য এসেছে। নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে টিকা দিতে না পারলে আগের পর্বের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ জানান, তাঁর চার পর্বের টিকার প্রথম দুই পর্ব তিনি বিনা মূল্যে পেয়েছেন। কিন্তু গতকাল সোমবার তৃতীয় পর্বের টিকার জন্য এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সংগ্রহে টিকা নেই বলে জানায়। ১০০ এমএলের একটি টিকা সর্বোচ্চ চারজন রোগী দিতে পারে। তাই অপেক্ষমাণ রোগীরা চারজন মিলে ৫৮০ টাকার টিকা বাইরে থেকে কিনে আনে। কিন্তু টিকা কেনার জন্য চারজন রোগী মিলতে অনেক সময় রোগীদের দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
শাহরিয়ার পৌনে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে ত্রিশালের সুজন চন্দ্র ধর, সদরের দাপুনিয়া ইউনিয়নের রুমী আক্তার ও সেনবাড়ীর বায়েজিদ আহমেদের সঙ্গে মিলে টিকা কিনে আনেন।
হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় টিকার সরবরাহ কম থাকার কারণে রোগীদের এই ভোগান্তি। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন নতুন আক্রান্ত রোগী টিকা নিতে আসে। কিন্তু কখনোই চাহিদা অনুযায়ী টিকা সরবরাহ করে না রোগ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আরিফুল বাসার জানান, ৬ জুলাই রোগ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরাবর টিকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। তারা টিকা না পাঠানো পর্যন্ত রোগীদের নিজেদেরই টিকা কিনে আনতে হবে।