পাবনা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রবে টেকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করেও রেহাই মিলছে না। মশার জ্বালায় শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রত্যেক মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া ইছামতী নদীতে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা দীর্ঘদিনেও পরিষ্কার না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও পৌরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৫টি ওয়ার্ড ও ৩৪টি মহল্লা নিয়ে পাবনা পৌরসভা গঠিত। লোকসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর পৌর এলাকাটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে মধ্যশহরের ইছামতী নদী। একসময় নদীটি প্রবাহমান ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের দখল ও দূষণে পুরো নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। এখানেই ময়লা-আবর্জনা ফেলছে পৌরবাসী। ফলে পানিতে ময়লার স্তূপ জমে প্রচুর মশা জন্ম নিচ্ছে। শীতে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় প্রাকৃতিকভাবেও মশা নিধন হচ্ছে না। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভাও মশা নিধন করছে না। ফলে বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব।
পৌরবাসীর দাবি, আগে পৌরসভার উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধক ওষুধ স্প্রে করা হতো। কিন্তু চার থেকে পাঁচ বছর হলো পৌরসভা এ ধরনের কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না। ইছামতী নদীও পরিষ্কার করা হচ্ছে না। ফলে মশা বাড়ছেই।
সরেজমিনে গতকাল রোববার সকালে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পৌর এলাকায় অধিকাংশ মহল্লাতেই ছড়িয়ে আছে ছোট ছোট ডোবা-নালা। আবর্জনা ও দখলে শহরের মাঝ দিয়ে যাওয়া ইছামতী নদীও যেন নালায় পরিণত হয়েছে। এসব নদী-নালার ওপর দিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ছে মশা।
পৌরসভার শালগাড়িয়া মহল্লার তন্নী পারভেজ বলেন, সন্ধ্যা নামার পর থেকেই ঘরে মশার উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখলেও মশা কমছে না।
সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী নিজাম উদ্দিন বলেন, তিনি প্রায় ছয় বছর ধরে পাবনায় আছেন। কিন্তু এবার মশার উপদ্রব যেন খুব বেশি। মশার কামড়ে সন্ধ্যা থেকেই অতিষ্ঠ হতে হয়। কয়েল, ধোঁয়া কিছু দিয়েই কিছু হচ্ছে না।
শিবরামপুর মহল্লার তাওহীদা নাসরিন বলেন, শুধু রাতে না, দিনেও ঘর একটু অন্ধকার হলেই মশা কামড়াচ্ছে। ফলে অনেক সময় দিনেও মশারি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
পাবনা পৌরসভার কনজারভেটিভ ইন্সপেক্টর (পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা) আবদুর রহিম বলেন, মশক নিধক ছিটানোর জন্য পৌরসভায় কোনো বরাদ্দ নেই। মাঝেমধ্যে পৌর তহবিল থেকে কিছু ওষুধ ছিটানো হয়। কিন্তু তাতে তেমন কাজ হয়নি। ফলে প্রায় পাঁচ বছর ধরে কার্যক্রমটি বন্ধ রাখা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে পুনরায় নিধক ছিটানো হবে।