মাঠে আ.লীগ, কৌশলে বিএনপি

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে মাঠে সক্রিয় ঢাকা-১৪ আসনের আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা। অন্যদিকে তেমন দৃশ্যমান নয় বিএনপির প্রচারণা। ব্যক্তিগত পর্যায়ে এবং কৌশলে বিএনপির প্রার্থী নিজে এবং কর্মীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এবার সংসদ নির্বাচনে এ আসনে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূল লড়াই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রার্থীর মধ্যেই হবে বলে ধারণা এলাকাবাসীর। গতকাল মঙ্গলবার এ আসনের কয়েকটি ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসলামুল হকের কর্মী-সমর্থকেরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করছেন। বিকেল চারটার দিকে মিরপুর-১ নম্বরে বইঠা হাতে আসলামুলের শতাধিক কর্মীকে ‘নৌকা’ ‘নৌকা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করতে দেখা যায়। মাথায় গামছা পেঁচিয়ে নিজেদের রশি দিয়ে বেঁধে তাঁরা মানব নৌকা তৈরি করে মিছিল করেন।

গতকাল রাত নয়টায় তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে মাজার রোডে জনসভা করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসলামুল হক। এ সময় তিনি নির্বাচিত তরুণদের জন্য চাকরির ব্যবস্থার পাশাপাশি মাদকাসক্তি সমস্যা নিয়ে কাজ করার কথা বলেন।

কাঠের বইঠা নিয়ে মিছিল আচরণবিধি লঙ্ঘন উল্লেখ করে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হেমায়েত হোসেন বলেন, লাঠি নিয়ে মিছিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে বলে দেওয়া হয়েছে।

এই নির্বাচনী এলাকার সড়কগুলোর দুই ধারে রশিতে ঝুলছে আসলামুল হকের পোস্টার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর পোস্টার নজর আসে। তবে কোথাও ধানের শীষের পোস্টার দেখা যায়নি। বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে নৌকার বেশ কিছু অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয় করা হয়েছে। ফুটপাতের মধ্যে মিরপুর এক নম্বরে সি ব্লকে ৫০০ গজের মধ্যে আওয়ামী লীগের তিনটি কার্যালয় দেখা গেছে। হাতপাখারও মাইকিং করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ধানের শীষের কোনো নির্বাচনী ক্যাম্প দেখা যায়নি।

বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক গতকাল কল্যাণপুর এবং দারুস সালাম এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য প্রচারণায় নামেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গণমাধ্যমকর্মী সঙ্গে থাকলে গণসংযোগের সুযোগ মেলে। তা–ও সীমিত সময়ের জন্য। তবে এর বাইরে তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে গণসংযোগ করে ধানের শীষে ভোট চান। এই প্রার্থী বলেন, ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে এখন পর্যন্ত তাঁর শ খানেক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।