১৩ আসামির হদিস পাচ্ছে না পুলিশ

যুবলীগ নেতা মেহেদী হত্যার কারণ এক বছরেও জানা যায়নি

চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের নেতা মেহেদী হাসান ওরফে বাদল হত্যা মামলার তদন্তে এক বছরেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটে তা এখনো জানতে পারেনি পুলিশ। এদিকে হদিস পাচ্ছে না ১৩ আসামির। ২২ আসামির মধ্যে নয়জন গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে গেছেন ছয়জন।
মামলার এমন অবস্থায় হতাশ হয়ে পড়েছে বাদলের পরিবার। তাদের দাবি, পুলিশ পলাতক আসামিদের হদিস না পেলেও তারা মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে অব্যাহতভাবে।
২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাতে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার হাউজিং সোসাইটিতে নিজ বাসার পাশে নগর যুবলীগের নেতা মেহেদী হাসানকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মোবাশ্বেরা বেগম বাদী হয়ে ২২ জনকে আসামি করে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় এ পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে কারাগারে আছেন গোলাম রসুল ওরফে সাদ্দাম, আরমান হোসেন ও কানা কুদ্দুস। পলাতক রয়েছেন মো. শফি, মো. রাজা, মো. ইলিয়াছ, মো. মমিন, মো. আবু ও মাহাবুব আলমসহ ১৩ আসামি।
মামলার বাদী ও নিহত ব্যক্তির স্ত্রী মোবাশ্বেরা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের ধরছে না। উল্টো আসামিরা আমাদের মামলা প্রত্যাহার করতে হুমকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে চার মাস আগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। খুনের ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলেও তদন্তের কোনো কূলকিনারা হয়নি। স্বামী হত্যার বিচার পাব কি না জানি না?’
ঘটনার পর মামলাটির তদন্ত শুরু করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তৃতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এখন মামলাটির তদন্ত করছেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আবদুর রহিম। এক বছরে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখনো কী কারণে মেহেদীকে হত্যা করা হয়েছে, তা পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত অব্যাহত আছে। পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা গেলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসত। গ্রেপ্তার নয় আসামির মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে এ খুনের অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচিত এই হত্যার তদন্ত করছে পুলিশ। ইতিমধ্যে পুলিশ কিছু আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।