কুশিয়ারা নদীর ওপর সেতু না থাকায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ২০ হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এলাকার তিনটি খেয়াঘাট দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন তাদের নদী পারাপার হতে হচ্ছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কুশিয়ারা নদীর উত্তর পাশে পড়েছে সিলেটের বালাগঞ্জ, দক্ষিণ পাশে রাজনগরের উত্তরভাগ, ফতেহপুর, পাঁচগাঁও ও মুন্সীবাজার ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নের উত্তর পাশের মানুষ রাজনগর উপজেলা সদর বা মৌলভীবাজার জেলা সদরের চেয়ে বালাগঞ্জ ও সিলেটের সঙ্গে বেশি যাতায়াত করে থাকে। কুশিয়ারা নদী পার হলেই বালাগঞ্জ উপজেলা সদর। বালাগঞ্জ হয়ে সিলেটে যাওয়াও সহজ। এ কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য বালাগঞ্জের ওপরই নির্ভর করে তারা। কিন্তু সেতু না থাকায় ছাত্রছাত্রী, রোগীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বর্ষায় পানি বেড়ে গেলে উত্তাল নদী পেরিয়ে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এলাকার কয়েকজন জানান, দুপাশের মানুষ বালাগঞ্জ খেয়াঘাট বা বড়ঘাট, কুমির খাল ও বিলবাড়ী খেয়াঘাট দিয়ে নদী পারাপার হয়। এই তিনটি ঘাট আধা কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত।
বালাগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকার ইমাদ উদ্দীন আহমদ বলেন, বর্ষায় নদী পারাপার হওয়ার সময় প্রায়ই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিক্ষার্থী ও রোগীরা।সম্প্রতি বালাগঞ্জ খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যে নারী ও শিশুরা ছোট ছোট নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে।
বালাগঞ্জ খেয়াঘাট বাজার পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, সাইফুর রহমান (সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী) শেষবার এখানে এসে বলেছিলেন যে সেতুটি করে দেবেন। শেষ পর্যন্ত আর তিনি সেতু করে যেতে পারেননি। এলাকার মানুষ সেতুর দাবিতে মানববন্ধন করেছে। বালাগঞ্জ খেয়াঘাট বাজারের ব্যবসায়ী নোমানুর রশীদ বলেন, সেতু হলে কতটা উপকার হতো, তা ভাষা দিয়ে বোঝাতে পারব না। পণ্য আনা-নেওয়া সহজে ও কম খরচে করা যেত। এতে এলাকার মানুষ উপকৃত হতো।
রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রুবায়েত জামান জানান, সিলেট বিভাগ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই বিভাগে চারটি সেতু হবে। এর মধ্যে বালাগঞ্জ খেয়াঘাট সেতুটিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।